
শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি মুক্তি পাওয়া রানি মুখোপাধ্যায় অভিনীত ‘মর্দানি ৩’ বক্স অফিসে ভালো ফল করছে। তবে গত কয়েক দিনে নির্মাতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে, রাজধানীতে নিখোঁজ মানুষের রিপোর্টকে ব্যবহার করে ছবিটির প্রচারের জন্য তারা একটি পেইড পিআর ক্যাম্পেন চালিয়েছে। এবার এই অভিযোগ অস্বীকার করে ছবিটির প্রযোজনা সংস্থা যশ রাজ ফিল্মস একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে।
শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, দিল্লি পুলিশ তাদের এক্স (আগের টুইটার) হ্যান্ডেলে লিখেছিল, “কিছু সূত্র অনুসরণ করার পর আমরা জানতে পেরেছি যে দিল্লিতে নিখোঁজ মেয়েদের সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি পেইড প্রমোশনের মাধ্যমে বাড়িয়ে দেখানো হচ্ছে। আর্থিক লাভের জন্য আতঙ্ক ছড়ানো বরদাস্ত করা হবে না, এবং এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আমরা কড়া ব্যবস্থা নেব।”
রানি অভিনীত ছবিটির নির্মাতাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে আগে জানা গিয়েছিল, চলতি বছরে দিল্লি পুলিশ মোট ৮০৭ জন নিখোঁজ হওয়ার রিপোর্ট নথিভুক্ত করেছে। গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৫৪টি করে নিখোঁজের ঘটনা সামনে এসেছে, যার মধ্যে ৫০৯ জন নারী ও কন্যাশিশু এবং ২৯৮ জন পুরুষ। ৮০০-র বেশি নিখোঁজ ব্যক্তির মধ্যে ১৯১ জন নাবালক, আর বাকি ৬১৬ জন প্রাপ্তবয়স্ক বলে জানানো হয়। পুলিশ জানায়, তারা ২৩৫ জনকে খুঁজে পেয়েছে, তবে ওই সময়সীমায় ৫৭২টি মামলা অমীমাংসিত ছিল।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ২৪,৫০০-র বেশি মানুষ নিখোঁজ হয়েছিলেন, যার মধ্যে ৬০ শতাংশেরও বেশি ছিলেন নারী। এর মধ্যে ৯,০০০-র বেশি মামলা ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মীমাংসিত হয়নি। এই সংখ্যাগুলো নিয়ে জনমনে উদ্বেগ থাকলেও দিল্লি পুলিশ স্পষ্ট করে জানায়, আগের বছরগুলোর মাসিক গড় (প্রায় ২,০০০টি মামলা প্রতি মাসে)-এর তুলনায় ২০২৬ সালে নিখোঁজের ঘটনায় উল্লেখযোগ্য কোনও বৃদ্ধি নেই। তাদের মতে, সামগ্রিক প্রবণতা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীলই রয়েছে।