
টাকা রোজগার করা নির্ভর করে অনেক কিছুর ওপর, কিন্তু সেই টাকা কোথায় বিনিয়োগ করবেন, সেটাই আসল। আর এক্ষেত্রে অভিষেক বচ্চন নাকি সবচেয়ে বড় মন্ত্র শিখেছেন বাড়ি থেকেই। কীভাবে বিনিয়োগ করে টাকা জমান অভিনেতা? বিনিয়োগের ক্ষেত্রে তাঁর শিক্ষাগুরু তাঁর বাবা অমিতাভ বচ্চন এবং তাঁর স্ত্রী ঐশ্বর্য রাই।
সম্প্রতি এক আন্তর্জাতিক ব্যবসা সম্মেলনে কথা বলতে গিয়ে অভিষেক জানান, তাঁর অর্থনৈতিক ভাবনার ভিত তৈরি হয়েছে বাড়ির শিক্ষায়। বিশেষ করে তাঁর বাবা অমিতাভ বচ্চন -এর একটি বিশ্বাস তাঁর মাথায় গেঁথে আছে—“জমি আছে তো সব ঠিক আছে।” অর্থাৎ স্থাবর সম্পত্তি হল সবচেয়ে ভরসার জায়গা। পুরনো প্রজন্মের এই ধারণাকেই তিনি আজও প্রাসঙ্গিক বলে মনে করেন।
শুধু বাবার পথেই হাঁটা নয়, নিজের অভিজ্ঞতাও যোগ করেছেন তিনি। জানান, এক সময় সোনায় বিনিয়োগ করেছিলেন এবং তাতে লাভও হয়েছে। তবে পরে স্ত্রী ঐশ্বর্য রাই তাঁকে রুপো নিয়ে ভাবতে বলেন। সেই পরামর্শে চলে বেশ লাভ হয়েছে অভিনেতার। পরিবারের আলোচনাই অনেক সময় বড় সিদ্ধান্তের ভিত্তি হয়ে ওঠে বলে মনে করেন তিনি।
বিনিয়োগের পাশাপাশি ব্র্যান্ড বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও বেশ সচেতন তিনি। অভিষেক বলেন, তিনি এমন কোনও পণ্যের প্রচার করতে স্বচ্ছন্দ নন, যা নিজে ব্যবহার করেন না। তাঁর কথায়, “নিজে ব্যবহার না করে কাউকে কিনতে বলা আমার কাছে অসৎ মনে হয়।” দীর্ঘদিন যেসব সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, সেগুলোর ক্ষেত্রেও আগে নিজে ব্যবহার করেছেন, তারপর মুখপাত্র হয়েছেন।
খাবারের দিক থেকেও এসেছে ব্যবসার সুযোগ। ‘নাগিন’ নামে এক দেশীয় ঝাল সস চেখে পছন্দ হওয়ার পর সেই সংস্থার অ্যাডের অংশীদার হন তিনি। থানের জনপ্রিয় ‘মামলেদার মিসাল’-এর মিসাল পাও নিয়মিত অর্ডার করতে গিয়েই নাকি সেই সংস্থায় বিনিয়োগের কথা মাথায় আসে তাঁর।
সিনেমার বাইরেও তাঁর ব্যবসায়িক পরিসর বিস্তৃত। তিনি প্রো কাবাডি লিগের ‘জয়পুর পিঙ্ক প্যান্থার্স’ দলের মালিক এবং আইএসএল-এর ‘চেন্নাইয়িন এফসি’-র সহ-মালিক। পাশাপাশি চা সংস্থা ‘ভাহদাম’-এও বিনিয়োগ রয়েছে তাঁর। সম্পত্তি সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, মুম্বইয়ে প্রায় ২১৯ কোটি টাকার কাছাকাছি বিনিয়োগ করেছেন তিনি।