Body Weight: অনেক চেষ্টা করেও দেহের ওজন বাড়ছে না, এর পিছনে কি কোনও রোগ রয়েছে?
BMR: সম্প্রতি দিল্লির করাওয়াল নগরের যুবক মনোজ আন্ডার ওয়েটের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে দিল্লির এক বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে যান। সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা করে দেখা যায়, মনোজের বেসাল মেটাবলিক রেট স্বাভাবিক মানুষের চেয়ে অনেক বেশি।

নয়া দিল্লি: বর্তমানে অধিকাংশ মানুষই ওবেসিটি, দেহের অতিরিক্ত ওজনের সমস্যায় ভোগেন। দেহের ওজন কমাতে জিম থেকে ডায়েট করেন। এর পাশাপাশি কম ওজনের সমস্য়ায় ভোগা মানুষও রয়েছে। শিশু থেকে যুবক বা যুবতী, অনেকেই আন্ডার ওয়েটের সমস্যায় ভোগেন। প্রোটিন, ফ্যাটজাতীয় খাবার, ভিটামিন ওষুধ খেয়েও ওজন বাড়ে না। যার ফলে অনেকেই অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েন। আবার অনেকে বিষয়টিতে গুরুত্ব দেন না। কিন্তু, দেহের অতিরিক্ত ওজনের মতো কম ওজনের বিষয়টিও হালকাভাবে নেওয়ার নয়। এর পিছনে থাকতে পারে বিশেষ কারণ।
সম্প্রতি দিল্লির করাওয়াল নগরের যুবক মনোজ আন্ডার ওয়েটের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে দিল্লির এক বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে যান। সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা করে দেখা যায়, মনোজের বেসাল মেটাবলিক রেট স্বাভাবিক মানুষের চেয়ে অনেক বেশি। আর এর ফলেই ফ্যাটজাতীয় খাবার, অনেক প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট খেয়েও তার ওজন কখনো বাড়ে না। চিকিৎসকেরা জানান, বেসাল মেটাবলিক রেট বেশি থাকলে দেহের ওজন কখনও বাড়বেও না।
বেসাল মেটাবলিক রেট কী?
আমাদের শরীর দৈনন্দিন কাজের জন্য শক্তি ব্যয় করে। এ সময় শরীরে ক্যালরিও পুড়ে যায়। কিন্তু কিছু মানুষের কোনও কাজ না করলেও স্বাভাবিক উপায়েই বেশি ক্যালোরি পোড়ে। শরীরে সাধারণত কত ক্যালোরি পোড়া হয় তা বেসাল মেটাবলিক রেট (BMR) থেকে জানা যায়। বেসাল মেটাবলিক রেট যত বেশি হবে, তত বেশি ক্যালোরি নষ্ট হবে। আর বেশি ক্যালোরি নষ্ট হলে দেহের ওজন কমবে।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেসাল মেটাবলিক রেট কমতে থাকে। এর ফলেই বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে স্থূলতা বাড়তে থাকে। বিশেষ করে মহিলা, পুরুষ- উভয়ের ক্ষেত্রেই ৩০ বছর বয়সের পর BMR কমতে শুরু করে। তাই দেখা যায়, অধিকাংশেরই বয়স ৩০ বছর পার হওয়ার পর ওজন বাড়তে থাকে। কিন্তু কিছু মানুষ আছে যাদের শরীরের ওজন বার্ধক্যজনিত কারণে বাড়ে না।
কেন কিছু মানুষের ওজন বাড়ে না?
দিল্লির সাফদরজং হাসপাতালের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের এইচওডি অধ্যাপক ডাঃ যুগল কিশোর এ বিষয়ে জানিয়েছেন। ডাঃ কিশোর জানান, শরীরের মৌলিক কাজ যেমন হৃদস্পন্দন, শ্বাস-প্রশ্বাস, কোষ গঠন এবং অক্সিজেন সরবরাহ করার জন্য ক্যালোরি পোড়ানো হয়। ব্যায়াম করা, জিমে যাওয়া বা কোনও ধরনের শারীরিক পরিশ্রম এর আওতায় আসে না। অর্থাৎ বসে থাকা অবস্থায়ও যে ক্যালরি পোড়ানো হচ্ছে তা হল বেসাল মেটাবলিক রেট।
কিছু লোকের বেসাল মেটাবলিক রেট খুব বেশি থাকে। এর জন্য তাদের শরীর স্বাভাবিক অবস্থায়ও সবসময় বেশি ক্যালরি পোড়ায়। যার ফলে তাদের শরীরে কখনোই মেদ বাড়ে না। এই ধরনের মানুষ কখনও মোটা হয় না এবং যতই খাবার পরিবর্তন করুক না কেন, শরীরে স্থূলতা আসে না। এটি ঘটে কারণ উচ্চ বিপাকীয় হারের কারণে, প্রচুর ক্যালোরি সহজেই পুড়ে যায় এবং এর কারণে ওজন সর্বদা নিয়ন্ত্রণে থাকে।
জিনগত কারণ
ডঃ কিশোর জানান, উচ্চ BMR হার জেনেটিক কারণেও হয়। যদি জেনেটিক কারণে বিএমআর রেট বেশি হয়, তবে তা সবসময় বাড়তে থাকে এবং এই ধরনের ব্যক্তির ক্যালোরি কোনও কাজ না করেই বেশি পোড়ে। ফলে কোনও বয়সেই স্থূলতা আসে না। সাধারণত বিএমআর ২০০০-এর বেশি হলে তাকে উচ্চ BMR সম্পন্ন ধরা হয় এবং তার দেহের ওজন সবসময় একই থাকতে পারে।
