
সুস্থ থাকতে নিয়মিত ভাবে শরীরচর্চা, হাঁটার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। ২০১১ সালের একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, যে সব প্রাপ্তবয়স্করা একসপ্তাহের মধ্যে অন্তত ৩ বার টানা ৪০ মিনিট ধরে হাঁটেন তাঁদের পরবর্তীকালে তাঁরাই সবচাইতে বেশি লাভবান হন। আজকাল বয়সের সঙ্গে সঙ্গে শরীরে জাঁকিয়ে বসছে একাধিক সমস্যা। আর তাই যদি শারীরিক ভাবে সক্রিয় থাকা যায় তাহলে সেই সম্ভাবনা কিন্তু অনেকটাই কমে যায়। অর্থাৎ মস্তিষ্কের যে অংশটি স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত সেই অংশ আকারে আয়তনে ( হিপোক্যাম্পাস) বেড়ে যায়। শেখা এবং মনে রাখা- এই দুটি কাজ সম্পন্ন হয় ব্রেনের এই ফাংশনের মাধ্যমেই। তবে বয়সকালে মস্তিষ্কের এই অংশটি অর্থাৎ হিপোক্যাম্পাস সংকুচিত হয়ে যায়। যেখান থেকে স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া, ডিমনেশিয়ার মত পরিস্থিতি তৈরি হয়। কারণ এই হিপ্পোক্যাম্পাল এবং মিডিয়াল টেম্পোরাল লোবের পরিমাণ বেড়ে যায়। যেখান থেকে শারীরিক ক্রিয়াকলাপেও তার প্রভাব পড়ে।
শারীরিক ভাবে যত বেশি সক্রিয় থাকা যায় ততই কমে ডায়াবেটিস, ওবেসিটি, হাই ব্লাডপ্রেসার, কোলেস্টেরল, ট্রাইগ্লিসারাইডের ঝুঁকি। এমনকী ডিপ্রেশনও ঠেকানো যায় নিয়মিত ভাবে শরীরচর্চা করলে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকেই ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত হন। আর নিয়মিত শরীরচর্চা, ব্যায়ামের ফলেও ঠেকানো যায় এই ডিমেনশিয়া- এমনটাই বলছে গবেষণা। ইউনিভার্সিটি অফ ব্রিটিশ কলম্বিয়ার একটি গবেষণা বলছে, যাঁরা নিয়মিত অ্যারোবিকস করেন তাঁদের হৃৎপিণ্ড এবং ঘর্মগ্রন্থগুলি প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশিবার পাম্প হয়। এর ফলে হিপোক্যাম্পাস আকারে বৃদ্ধি পায়। মস্তিষ্কের এই অংশ মৌখিক স্মৃতি এবং শেখার সঙ্গে জড়িত। শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং পেশীর স্থিতিস্থাপকতা ঠিক রাখতেও সাহায্য করে এই হিপোক্যাম্পাস। সেই সঙ্গে অ্যারোবিকস নিয়মিত ভাবে করতে পারলেও হৃদস্পন্দন বাড়ে। হার্টের সমস্যা আসে না।
গবেষণা বলছে বিশ্বব্য়াপী প্রতি চার সেকেণ্ডে একজন করে আক্রান্ত হন ডিমেনশিয়ায়। অনুমান, ২০৫০ সালের মধ্যে প্রায় ১১ কোটিরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হবেন ডিমেনশিযায়। কোভিড পরবর্তী সময়ে আরও বেড়েছে এই স্মৃতির সমস্যা। কোভিড আক্রান্ত বেশ কিছুজনের উপর চালানো হয় এই সমীক্ষা। তাদের নিয়ম করে সপ্তাহে ১২০ মিনিট হাঁটতে বলা হয়। এরপর প্রথম সপ্তাহেই ১৩ শতাংশ সমস্যার সমাধান হয়। শরীরচর্চার সময় ১২০ থেকে বাড়িয়ে ১৫০ মিনিট করতে পারলে আরও অনেক বেশি ফল পাওয়া যায়।
ব্যায়াম কিন্তু মস্তিষ্ককে সচল রাখে। স্মৃতিশক্তি বজায় রাখতে এবং চিন্তাভাবনাকে উন্নত করে সাহায্য করে ব্যায়াম। শরীরে ইনসুলিনের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে, প্রদাহ কমাতে এবং মস্তিষ্কের কোষগুলিকে সচল রাখতে সাহায্য করে। কিছুক্ষেত্রে রক্তনালীর বৃদ্ধিও বাড়ে অতিরিক্ত ব্যায়ামের ফলে। ঘুম ঠিক রাখতে এবং চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতেও কিন্তু সাহায্য করে ব্যায়াম।
হার্ভাড মেডিক্যাল স্কুলের একটি গবেষণা যেমন বলছে , নিয়ম করে সপ্তাহে ১২০ মিনিট ব্রিস ওয়াক করলে স্ট্রোকের সম্ভাবনাও কমবে। স্ট্রোকে এখন প্রচুর মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। আর তাই এক্ষেত্রে ভাল কাজ করে এই বিস ওয়ার্ক। এমনকী গবেষণাতেও তা দেখা গিয়েছে।