
মুরগির মাংস উচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ হলেও তুলনামূলকভাবে হালকা মাংস, যা বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের খাদ্যতালিকায় অন্যতম। একটিই প্রশ্ন বহু মানুষের মনে ঘুরপাক খায়।মুরগির স্কিন (ত্বক) খাওয়া কি ঠিক? নাকি স্কিন ছাড়া মাংসই স্বাস্থ্যকর?
স্কিন সমেত মুরগির মাংস খেলে কী হয়?
উপকারিতা:
চর্বি ও ক্যালোরি বেশি:
মুরগির চামড়ায় অধিকাংশ ফ্যাট জমা থাকে। এই ফ্যাট মূলত স্যাচুরেটেড এবং আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটের মিশ্রণ, যা শরীরের শক্তি জোগায়।
স্বাদে বাড়তি মজা:
চামড়াসহ রান্না করলে মাংস অনেক বেশি জুসি ও মোলায়েম হয়। অনেকেই মনে করেন, এটি রান্নার স্বাদ ও গন্ধ বাড়ায়।
ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিডের উৎস:
কিছুটা ওমেগা-৬ থাকে যা সঠিক পরিমাণে থাকলে শরীরের কোষ গঠনে সহায়ক।
ক্ষতি:
অতিরিক্ত কোলেস্টেরল:
মুরগির স্কিনে থাকা স্যাচুরেটেড ফ্যাট হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে পারে।
ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি:
নিয়মিত স্কিন সহ মাংস খেলে অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ হয়, যা শরীরে জমে গিয়ে ওজন বাড়াতে পারে।
বেশি তেলে রান্না হলে ক্ষতিকর যৌগ:
স্কিন ভাজলে বা গ্রিল করলে এতে Acrylamide বা Heterocyclic Amine-এর মতো ক্ষতিকর যৌগ তৈরি হয়, যেগুলি ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
স্কিন ছাড়া মুরগির মাংসের বৈশিষ্ট্য:
উপকারিতা:
লো-ফ্যাট, হাই-প্রোটিন:
স্কিন ছাড়া চিকেন ব্রেস্টে অত্যন্ত কম ফ্যাট থাকে এবং উচ্চমাত্রায় প্রোটিন থাকে, যা ওজন কমানো ও পেশি গঠনের জন্য উপযোগী।
হার্টের পক্ষে নিরাপদ:
কোলেস্টেরল কম থাকায় এটি হৃদরোগীদের জন্য নিরাপদ।
ডায়াবেটিস ও হাইপ্রেশারের জন্য ভাল:
কম চর্বিযুক্ত এই মাংস ব্লাড সুগার ও ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
হজমে সহায়ক:
তুলনামূলকভাবে হালকা হওয়ায় এটি সহজপাচ্য।
স্বাদে কিছুটা কম:
চামড়া ছাড়া রান্না করলে অনেক সময় মাংস শুকনো ও শক্ত হয়ে যায়, স্বাদে ঘাটতি থাকতে পারে।
তাহলে কোনটা ভাল?
স্বাস্থ্যগত দিক থেকে বিচার করলে স্কিন ছাড়া মুরগির মাংসই অধিক উপকারী। বিশেষ করে যাঁরা— ওজন কমাতে চান, হৃদরোগ, হাইপ্রেশার বা কোলেস্টেরলে ভোগেন, ডায়াবেটিক রোগী, ফিটনেস সচেতন ও শরীরচর্চা করেন তাঁদের জন্য স্কিন ছাড়া মুরগির মাংসই নিরাপদ ও পুষ্টিকর।
মুরগির স্কিনে স্বাদ থাকলেও, স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের জন্য এটি সীমিত পরিমাণে খাওয়াই শ্রেয়। প্রতিদিন খাওয়া, ভাজাভুজি করা বা অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত অংশ বেছে নেওয়া শরীরের ক্ষতি করতে পারে। বরং, স্বাস্থ্যকর রান্না পদ্ধতিতে স্কিন ছাড়া চিকেন খান, উপকারেই থাকবেন। স্বাস্থ্যই শেষ কথা—স্বাদ নয়, বেছে নিন সচেতনতা।