AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Supreme Court: টিউবটা খুলে ফেললেই সব শেষ, ‘আমরা তো নশ্বর, কারও জীবন-মৃত্যু ঠিক করার আমরা কে?’ বলল সুপ্রিম কোর্ট

PEG টিউবের মাধ্যমে তাঁর শরীরে জল-খাবার দেওয়া হয়। তার ফলেই বেঁচে আছেন হরিশ। টিউবটা খুলে নিলেই চিরঘুমে চলে যাবেন ৩১-এর যুবক। ছেলের জন্য যন্ত্রণাহীন মৃত্যুর দাবি জানিয়ে আগেই দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তাঁর বাবা-মা। যাকে বলা হয় 'ইউথানেশিয়া'। কিন্তু রাজি ছিল না আদালত। হাইকোর্টের বক্তব্য ছিল, ওই যুবক কোনও মেকানিক্যাল সাপোর্টে নেই, অর্থাৎ তাঁকে কোনও ভেন্টিলেশন সাপোর্টে রাখা হয়নি।

Supreme Court: টিউবটা খুলে ফেললেই সব শেষ, 'আমরা তো নশ্বর, কারও জীবন-মৃত্যু ঠিক করার আমরা কে?' বলল সুপ্রিম কোর্ট
| Updated on: Jan 16, 2026 | 9:03 AM
Share

নয়া দিল্লি: চোখের তারা ঘোরেনা আর। ভয়-আনন্দ কোনও কিছুই আর বিচলিত করে না তাকে। ১৩ বছর ধরে জড় পদার্থের মতো ঘরের বিছানায় পড়ে রয়েছেন হরিশ। সচল থাকলে এতদিনে ৩১ তম জন্মদিন উদযাপন করতেন তিনি। কিন্তু থেমে গিয়েছেন ১৩ বছর আগেই। শুধু একটা টিউব এটুকু নিশ্চিত করেছে যে হরিশ বেঁচে আছেন। কিন্তু এভাবে থাকার থেকে ‘না থাকা’কেই বেছে নিতে চাইছেন হরিশের বাবা-মা।

১৩ বছর হয়ে গেল বিছানায় জড় পদার্থের মতো পড়ে আছে হরিশের শরীরটা। ডাকলে সাড়া দেয় না, যন্ত্রণায়ও কাতরায় না। থাকার মধ্যে শুধু প্রাণটাই আছে। সন্তানকে এভাবে আর দেখতে চায় পরিবার। ওই সাপোর্টটুকু খুলে একেবারে সব শেষ করে দিতে চাইছেন বাবা-মা। দিল্লি হাইকোর্টের পর সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তাঁরা।

চণ্ডীগড়ের কলেজে বি টেক ডিগ্রির জন্য পড়াশোনা করছিলেন হরিশ। পেয়িং গেস্ট হিসেবে থাকতেন তিনি। ২০১৩ সালের অগস্ট মাসে হঠাৎ সেই বাড়ির চারতলা থেকে নীচে পড়ে যান তিনি। ব্রেনে মারাত্মক আঘাত লাগে তাঁর। আঘাত এতটাই বেশি ছিল যে ওই যুবককে আর স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে পারেননি চিকিৎসকরা। সেই থেকেই এই অবস্থা।

PEG টিউবের মাধ্যমে তাঁর শরীরে জল-খাবার দেওয়া হয়। তার ফলেই বেঁচে আছেন হরিশ। টিউবটা খুলে নিলেই চিরঘুমে চলে যাবেন ৩১-এর যুবক। ছেলের জন্য যন্ত্রণাহীন মৃত্যুর দাবি জানিয়ে আগেই দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তাঁর বাবা-মা। যাকে বলা হয় ‘ইউথানেশিয়া’। কিন্তু রাজি ছিল না আদালত। হাইকোর্টের বক্তব্য ছিল, ওই যুবক কোনও মেকানিক্যাল সাপোর্টে নেই, অর্থাৎ তাঁকে কোনও ভেন্টিলেশন সাপোর্টে রাখা হয়নি। তিনি কোনও মারণরোগেও আক্রান্ত নন। তাই এ ক্ষেত্রে ‘ইউথানেশিয়া’ বা ‘প্যাসিভ ইউথানেশিয়া’র কোনও যুক্তি খুঁজে পায়নি আদালত।

হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে বাবা-মা। আগেও শীর্ষ আদালত এই মামলায় আবেদন খারিজ করে দিয়ে বলেছিল, চাইলে পরে আবেদন জানানো যেতে পারে। এবার ফের আবেদন করেছেন হরিশের বাবা-মা। বৃহস্পতিবার সেই মামলা শোনে বিচারপতি জে বি পর্দিওয়ালা ও বিচারপতি কে ভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চ। ডিভিশন বেঞ্চ বলে, “এগুলো খুবই স্পর্শকাতর বিষয়। আমরা প্রত্যেকদিন নানা বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিই। কিন্তু কারও জীবন-মৃত্যু ঠিক করার আমরা কে? আমরা তো নশ্বর।”

হরিশ রানার পরিবারের তরফ থেকে আইনজীবী রেশমি নন্দকুমার জানিয়েছেন ১৩ বছরে হরিশ রানার কোনও উন্নতি হয়নি। মেশিনের সাহায্যেই বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে তাঁকে। এই অবস্থা থেকে ফেরার আর কোনও সম্ভাবনাও নেই। এই প্রসঙ্গে অরুণা শানবাগ মামলার কথা উল্লেখ করেছেন আইনজীবী। ঠিক এভাবেই অরুণার মৃত্যুর আবেদনে সাড়া দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট ২০১৮ সালে ‘প্যাসিভ ইউথানেশিয়া’কে বৈধ বলে ঘোষণা করে। শীর্ষ আদালত একাধিকবার সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে সম্মানের সঙ্গে মৃত্যুর অধিকারের কথা বলেছে।

অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল ঐশ্বর্য ভাটিও বৃহস্পতিবার আদালতে রিপোর্ট পেশ করেছে। তিনি জানিয়েছেন, কোনও অনুভূতিতেই সাড়া দেন না হরিশ, অবস্থার উল্লেখযোগ্য অবনতিও হয়েছে। সব পক্ষের কথা শুনে রায়দান স্থগিত রেখেছে সুপ্রিম কোর্ট।