৪ বছরের প্রিন্সকে খুঁজতে গোটা এক্সপ্রেসওয়ে খুঁড়ছে পুলিশ! নেপথ্যের কাহিনি গায়ে কাঁটা দেবে…

Crime News: গ্রাউন্ড পেনেট্রেটিং র‌্যাডার মেশিনেই সিগন্যাল পাওয়া গিয়েছে মাটি থেকে ৯ মিটার বা ৩০ ফুট গভীর। বিগত তিনদিন ধরে দুটি জেসিবি মেশিন এক্সপ্রেসওয়ে ও তার পাশের জমি খুঁড়ে চলেছে। এখনও পর্যন্ত ১৫ ফুট মাটি খোঁড়া হয়েছে। তাও শিশুর দেহ মেলেনি।

৪ বছরের প্রিন্সকে খুঁজতে গোটা এক্সপ্রেসওয়ে খুঁড়ছে পুলিশ! নেপথ্যের কাহিনি গায়ে কাঁটা দেবে...
নিহত শিশুImage Credit source: X

|

Feb 27, 2026 | 8:22 AM

জয়পুর: বাড়ি থেকে একদিন হঠাৎ উধাও হয়ে গিয়েছিল সকলের আদরের প্রিন্স। হন্যে হয়ে খুঁজেছিল গোটা পরিবার। তারা বুঝতেই পারছিলেন না যে কোথায় চলে গেল চার বছরের খুদে শিশু। সময় কেটে যায়, বছর পার হয়ে যায়, তবুও ছেলে ফেরেনি। পরিবার তবুও আশা ছাড়েনি, ভেবেছিল একদিন না একদিন ছেলে ফিরে আসবেই। ছয় বছর পর অবশেষে মিলল খোঁজ। তবে এভাবে যে ছেলেকে দেখতে হবে, তা কখনও ভাবেনি।

রাজস্থানের দৌসা জেলার বাসিন্দা ছিল প্রিন্স (৪)। ২০২০ সালে হঠাৎ একদিন ওই খুদে শিশু নিখোঁজ হয়ে যায়। পরিবার পুলিশে জানিয়েছিল, উঠোনে বসে খেলছিল, হঠাৎ সে উধাও হয়ে যায়। গোটা শহর খুঁজে ফেললেও, ওই শিশুর কোনও হদিস মেলেনি। এরপর ২০২১ সালে পরিবারের তরফে হিবিয়াস কর্পাস পিটিশন দাখিল করা হয় রাজস্থান হাইকোর্টে। আরও জোরদার হয় তদন্ত, কিন্তু লাভ কিছুই হয়নি।

পাঁচ বছরের দীর্ঘ তদন্তের পর অবশেষে নিখোঁজ শিশুর রহস্য উদ্ধার করল পুলিশ। দিল্লি-মুম্বই এক্সপ্রেসওয়েতে রয়েছে ওই শিশুকে। জীবিত নয়, মৃত। তদন্তে জানা যায়, ওই শিশুর কাকা-কাকিই খুন করে তাঁর দেহ পুঁতে দিয়েছিল এক্সপ্রেসওয়ের ধারে। পুলিশ বর্তমানে দিল্লি-মুম্বই এক্সপ্রেসওয়ের পাশে জমি খুঁড়ে চলেছে ওই শিশুর দেহাবশেষ উদ্ধার করতে। এমনকী, দিল্লি থেকে গ্রাউন্ড পেনেট্রেটিং র‌্যাডার মেশিন আনা হয়েছে।

ওই মেশিনেই সিগন্যাল পাওয়া গিয়েছে মাটি থেকে ৯ মিটার বা ৩০ ফুট গভীর। বিগত তিনদিন ধরে দুটি জেসিবি মেশিন এক্সপ্রেসওয়ে ও তার পাশের জমি খুঁড়ে চলেছে। এখনও পর্যন্ত ১৫ ফুট মাটি খোঁড়া হয়েছে। তাও শিশুর দেহ মেলেনি।

তদন্তে জানা গিয়েছে, প্রিন্সের নিজের কাকা-কাকিই তাঁকে খুন করেছিল। পুলিশ ইতিমধ্যেই তাদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ।  ১ মার্চ পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে তাদের। জেরায় জানা গিয়েছে, ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণেই তাঁরা ওই শিশুকে খুন করে এবং এক্সপ্রেসওয়েতে পুঁতে দেয়। প্রিন্সের মা-বাবাও অবাক হয়ে যায় নিজের ভাই কী খুন করতে পারে। এমনকী, প্রিন্সকে যখন তারা হন্যে করে খুঁজছিল, তখন তারাও অংশ নিয়েছিল তল্লাশি অভিযানে।