কানপুর: চিনে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে কোভিড-১৯। ব্রাজিল, আমেরিকা সহ পশ্চিমি দুনিয়ার দেশগুলিতেও করোনার ঢেউ আছড়ে পড়তে শুরু করেছে। যার জেরে আগাম সর্তকতা শুরু করেছে নয়া দিল্লি। ইতিমধ্যে কয়েকজনের ভারতীয় দেহে করোনা ভাইরাসের নয়া প্রজাতির হদিশও মিলেছে। যা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে দেশে। তবে বিষয়টি নিয়ে প্যানিক না করার বার্তা দিচ্ছে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি কানপুর (IIT কানপুর)। সংস্থার দাবি, দেশের মোট জনগণের ৯৮ শতাংশের করোনার বিরুদ্ধে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে উঠেছে। তাই আতঙ্কিত না হওয়ার দরকার নেই।
IIT কানপুরের প্রফেসর মণীন্দ্র আগরওয়াল বলেন, “কিছু মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হওয়া স্বাভাবিক। তার সাক্ষী হচ্ছে কোভিডের ছোট ঢেউ। এছাড়া এটা আর কোনও গুরুতর ব্যাপার নয়।” চিন, ব্রাজিল সহ যে সমস্ত দেশে নতুন করে করোনার ঢেউ আছড়ে পড়তে শুরু করেছে, সেই সমস্ত দেশের জনগণের মধ্যে কোভিডের বিরুদ্ধে রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা গড়ে ওঠেনি বলেও তাঁর দাবি।
নতুন করে করোনা-ঢেউ প্রসঙ্গে ভারতের সঙ্গে চিন সহ অন্যান্য দেশের জনগণের মধ্যে কোভিডের রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা গড়ে ওঠার তুলনাও টেনেছেন প্রফেসর আগরওয়াল। গাণিতিক মডেলের উপর নির্ভর করে তিনি বলেন, “চলতি বছরের অক্টোবরের শেষ পর্যন্ত চিনের মোট জনগণের মাত্র ৫ শতাংশের মধ্যে স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে উঠেছে। নভেম্বরে এটা ২০ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যেই নভেম্বর থেকেই চিনে ব্যাপক হারে সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও ৫০০ জনের বেশি সংক্রমণ হলেও চিনা সরকার একজনের সংক্রমণ হয়েছে বলে দাবি জানিয়েছে। এর কারণ চিনে দৈনিক সংক্রমণের হার কম।”
যেখানে দেশে ৯৮ শতাংশের করোনার বিরুদ্ধে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে উঠেছে, সেখানে চিন সহ অন্যান্য দেশগুলিতে রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা গড়ে ওঠার হার অনেক কম বলে দাবি IIT কানপুরের। প্রফেসর আগারওয়াল আরও বলেন, “বিশ্বের যে সমস্ত দেশ স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন করতে পেরেছে, সেগুলির কোনও বিপদ নেই। ব্রাজিলে ওমিক্রণ সংক্রমণের হার বাড়তে শুরু করেছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় মোট জনগণের ২৫ শতাংশ, জাপানের মোট জনগণের ৪০ শতাংশ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২০ শতাংশ জনগণের মধ্যে এখনও স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠেনি।” সেদিক থেকে ভারত অনেক ভাল স্থানে রয়েছে বলেও দাবি প্রফেসরের।