
নয়া দিল্লি : শিবালিকের পর এবার নন্দা দেবী। গ্যাস সংকটে অবশেষে স্বস্তি ভারতের? ভারতের পরপর ঢুকল দু’টি এলপিজি ট্যাঙ্কার। এলপিজি নিয়ে সোমবারই ভারতে ঢুকেছিল শিবালিক। এবার মঙ্গলবার ভারতে প্রবেশ করল আরও একটা এলপিজি ট্যাঙ্কার নন্দা দেবী। ট্যাঙ্কারে ৪৭ হাজার মেট্রিক টনের বেশি এলপিজি রয়েছে। এদিকে, শিবালিকে এলপিজির পরিমাণ ৪৬ হাজার মেট্রিক টনের বেশি। অর্থাৎ ভারতে ৯০ হাজার মেট্রিক টনের বেশি গ্যাস এসে পৌঁছেছে। তাহলে কি গ্যাস সংকট কাটতে চলেছে? এরই মধ্যে ফের এলপিজির দাম বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। শেষপর্যন্ত দু’টি ট্যাঙ্কার আসায় আদৌ কি ভারতের কোনও উপকার হবে? উদ্বেগ কি কাটবে?
মঙ্গলবার যুদ্ধবিধ্বস্ত হরমুজ় প্রণালী অতিক্রম করে গুজরাটের ভাদিনার বন্দরে এসে পৌঁছেছে নন্দা দেবী। শিপিং কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়ার মালিকানাধীন জাহাজটিতে প্রায় ৩৩ লাখের বেশি ১৪.২ কেজি সিলিন্ডার রয়েছে। অর্থাৎ ওই জাহাজে যত এলপিজি এসেছে, তাতে প্রায় ৩৩ লাখের বেশি ঘরোয়া সিলিন্ডার ভরানো যায়। তাহলে কি ৩৩ লাখের বেশি পরিবার উপকৃত হতে চলেছে বলা যাতে পারে? হিসেব বলছে একেক পরিবারের কাছে প্রায় দু’টি সিলিন্ডার থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে ১৬ লাখের বেশি পরিবার হয়তো উপকৃত হতে পারেন। অন্যদিকে, সোমবারই শিবালিক ৪৬,০০০ মেট্রিক টনেরও বেশি এলপিজি নিয়ে গুজরাটের মুন্দ্রা বন্দরে এসে পৌঁছয়। ওই জাহাজে ঘরোয়া সিলিন্ডার রয়েছে ৩২ লক্ষ ৪০ হাজার। সেক্ষেত্রে ৩২ লাখের বেশি ঘরোয়া সিলিন্ডার ভরানো যায়। এখানেও একই হিসেব। একটা পরিবারে দু’টি সিলিন্ডার থাকলে ১০ থেকে ১৬ লাখ পরিবার উপকৃত হতে পারে।
নিবার, নৌ-পরিবহন মন্ত্রকের বিশেষ সচিব রাজেশ কুমার সিনহা জানিয়েছিলেন, শিবালিক এবং নন্দা দেবী যথাক্রমে ১৬ মার্চ এবং ১৭ মার্চ পৌঁছনোর কথা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, “সমস্ত ভারতীয় নাবিক নিরাপদ আছেন। হরমুজ প্রণালীতে ২৪টি ভারতীয় জাহাজ ছিল। জাহাজগুলির মধ্যে দু’টি জাহাজ শিবালিক এবং নন্দা দেবী নিরাপদে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে এবং এখন ভারতের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।”
সচিবের ঘোষণা মতো নির্দিষ্ট সময়েই দু’টি জাহাজ ভারতে প্রবেশ করেছে। হিসেব বলছে, সব মিলিয়ে ৩০ লাখের বেশি পরিবার উপকৃত হতে চলেছে। তাতেও কতটা সংকট কাটবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তবে, বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে সংকট এখনই কাটছে না।