নয়া দিল্লি: দেশে ক্রমশ উর্ধ্বমুখী ওমিক্রন (Omicron)সংক্রমণ। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ওমিক্রন আক্রান্তের সংখ্যা ২০০ পার করেছে। এই পরিস্থিতিতে সংক্রমণ রুখতে কেন্দ্রের তরফে কন্টেনমেন্ট জোন (Containment Zone) ঘোষণা, বড় জমায়েতে নিষেধাজ্ঞার মতো নিয়ম চালুর পরামর্শ দিয়েছে রাজ্যগুলিকে।এবার দিল্লির এইমস(AIIMS)-র প্রধান ডঃ রণদীপ গুলেরিয়া(Randeep Guleria)-ও করোনার নতুন স্ট্রেন থেকে রক্ষা পাওয়ার দুটি পথ দেখালেন।
ডঃ রণদীপ গুলেরিয়ার মতে, টিকাকরণ ও করোনাবিধি মেনে চলাই আপাতত অমিক্রন থেকে রক্ষা পাওয়ার একমাত্র উপায়। এই বিষয়ে তিনি বলেন, “ওমিক্রন এমন একটি ভ্যারিয়েন্ট, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এই সংক্রমণ থেকে নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে আমাদের দুটি কাজ করতেই হবে। প্রথমটি হল টিকাকরণ ও দ্বিতীয়, করোনাবিধি অনুসরণ।”
গত ২৫ নভেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকা(South Africa)-এ প্রথম খোঁজ মেলে বি১.১.৫২৯ ভ্যারিয়েন্টের। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা(World Health Organization)-র তরফে এটির নাম দেওয়া হয় ওমিক্রন (Omicron)। একইসঙ্গে জানানো হয়, করোনার এই নতুন ভ্যারিয়েন্টটি কমপক্ষে ৩০ থেকে ৫০ বার অভিযোজিত (Mutation) হয়েছে। সেই কারণে এর সংক্রামক ক্ষমতা ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের (Delta Variant) তুলনায় বেশি হতে পারে এবং করোনা টিকাকেও ফাঁকি দিতে পারে।
“উদ্বেগের কারণ” (Variant of Concern) হিসাবে চিহ্নিত এই ভ্যারিয়েন্ট গত ৪ ডিসেম্বর ভারতে প্রবেশ করে। কর্নাটকে বিদেশ ফেরত এক যাত্রীর শরীরে ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি পাওয়া যায়। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সেই সংক্রমণ বেড়ে ২১৩-এ দা়ঁডিয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশই বিদেশ ফেরত যাত্রী। তবে স্বস্তির খবর, আক্রান্তদের মধ্যে ৯০ জনই আবার সুস্থ হয়ে উঠেছেন।
দুদিন আগেও এইমস প্রধানের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, ওমিক্রন থেকে কতটা সুরক্ষিত দেশের জনগণ। সেই সময় তিনি বলেছিলেন, “আমাদের সবরকমের প্রস্তুতি নেওয়া উচিত এবং আশা করা উচিত যে ব্রিটেনের মতো পরিস্থিতি যেন খারাপ না হয়। ওমিক্রন নিয়ে আমাদের আরও তথ্যের প্রয়োজন। যখনই বিশ্বের কোনও প্রান্তে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, আমাদের উচিত দেশের পরিস্থিতির উপর কড়া নজরদারি রাখা এবং যে কোনও পরিস্থিতির জন্য নিজেদের প্রস্তুত রাখা। বিনা প্রস্তুতিতে বিপদের মুখে না পড়ে, তার তুলনায় প্রস্তুতি নিয়ে রাখাই উচিত।”
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের গতকালের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ওমিক্রন আক্রান্তের সংখ্যা ২১৩। এরমধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক রোগীর খোঁজ মিলেছে দিল্লিতে। সেখানে বর্তমানে ওমিক্রন আক্রান্তের সংখ্যা ৫৭। এরপরই রয়েছে মহারাষ্ট্র (Maharashtra), সেখানে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত হয়েছেন ৫৪ জন।
আক্রান্ত মোট ২১৩ জন রোগীর মধ্যে অধিকাংশই সম্প্রতি বিদেশ থেকে ফিরেছেন। এদের মধ্যে ৯০ জনই আবার সুস্থ হয়ে উঠেছেন। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট ১১টি রাজ্য ও কেন্দ্র শাসিত অ়ঞ্চলে ওমিক্রন সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। এই রাজ্যগুলি হল দিল্লি (৫৭) , মহারাষ্ট্র (৫৪), তেলঙ্গনা (২৪), কর্নাটক (১৯), রাজস্থান (১৮), কেরল (১৫), গুজরাট (১৪)। জম্মু-কাশ্মীর (৩), ওড়িশা (২), উত্তর প্রদেশ (২), অন্ধ্র প্রদেশ (১), চণ্ডীগঢ় (১), লাদাখ (১), তামিলনাডু (১) ও পশ্চিমবঙ্গে (১)-ও ওমিক্রন আক্রান্তের খোঁজ মিলেছে।