
নয়া দিল্লি: বিজেপিতে নরেন্দ্র মোদী ও তৃণমূলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক। ফের ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করলেন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, যতদিন মোদী রয়েছে, ততদিন বিজেপি রয়েছে। ঠিক একইভাবে যতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রয়েছে, ততদিন কেউ কিছু করতে পারবে না। তাঁর কথায়, “দল চলে মমতার নামে, বাকি কে কী বলল, তাতে কিছুই এসে যায় না।”
মূলত মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদ ইস্যুতে ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ন কবীরের প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়েই কল্যাণ বলেন, “যতদিন মোদী রয়েছেন, পদ্মফুল ফুটবে। মোদী চলে গেলে, কোথাও কোনও পদ্মফুল ফুটবে না। এরকমই আমাদের মমতাদি। যতদিন মমতা দি রয়েছেন, কেউ কিচ্ছু করতে পারবেন না। দল চলে ওনার নামেই।”
এই প্রথম নয়, এর আগেও কল্যাণ বলেছিলেন, “আমার নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তার আগে পরে কিছুই বুঝি না। আমার কাছে নেতা-নেত্রী একজনই।”
বরাবরই শাসকদলের মধ্যে নবীন-প্রবীন একটা সমান্তরাল রূপরেখা রয়েছে। বঙ্গ রাজনীতিতে এ প্রসঙ্গ বারবার উঠে এসেছে। একটা সময়ে তৃণমূলের সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলের মধ্যে বয়সের সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার পক্ষে ছিলেন। তাঁর কথায়, কেবল রাজনীতিতে নয়, সব সেক্টরেই বয়সের একটা ঊর্ধ্বসীমা রয়েছে। কিন্তু তাতে বিতর্ক কম হয়নি। রাজনৈতিক মহলের মতে, সে সময়ে যেন শাসকদলে নবীন প্রবীণ দ্বন্দ্ব আরও বেশি করে প্রকট হয়েছিল। আর সেই প্রেক্ষিতে দাঁড়িয়ে অভিষেকের জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়ে আমেরিকায় দ্বিতীয়বারের জন্য ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হওয়ায় প্রশস্তি করেছিলেন। রাজনীতিবিদদের মতে, সেই বয়সের যে তেমন কোনও গুরুত্ব নেই, সেটাই বোঝাতে চেয়েছিলেন তিনি। তাই দলে প্রবীণ নেতা কল্যাণ যে বরাবরই ‘প্রবীণপন্থী’, তা স্পষ্ট হয়েছে একাধিকবার।
প্রধান বিরোধী বিজেপিও সেটাই বলেছে। বিজেপির প্রাক্তন সাংসদ সুকান্ত মজুমদার বলেন, “কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতন বেশ কয়েকজন প্রবীণ নেতা রয়েছেন এখনও, যাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে রয়েছেন।” অন্যদিকে, তৃণমূল মুখপাত্র তন্ময় ঘোষ বলেন, “সত্যিই তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েই মুখই তৃণমূল কংগ্রেসের মুখ। এই নিয়ে বলার অপেক্ষা রাখে না।”