
শুরু হল অসম বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোট পর্ব। গত ২৭ মার্চ প্রথম দফার ভোটের পর আজ অসম বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ পর্ব। এই দফায় মোট ৩৯টি আসনে সকাল সাতটা থেকে সন্ধে ছটা অবধি ভোট গ্রহণ পর্ব চলবে। দ্বিতীয় দফার উল্লেখযোগ্য আসনগুলি হল করিমগঞ্জ, শিলচর কাছার, বোকাজান, নাওগং, বরহমপুর, হোজাই ও লুমডিং। ৩৯টি আসনের মধ্যে শাসক জোট বিজেপি ৩৪টি আসনে, অসম গণ পরিষদ ৬টি আসনে ও ইউপিপিএল ৩টি আসনে লড়ছে। অন্যদিকে, বিরোধী জোটের মধ্যে কংগ্রেস ২৭টি আসনে, এআইইউডিএফ ৮টি ও বিপিএফ ৪টি বিধানসভা আসনে লড়ছে।
সকাল থেকেই ভোটারদের লম্বা লাইন দেখা গিয়েছে বিভিন্ন কেন্দ্রে। কয়েকটি কেন্দ্রে ইভিএম মেশিনে গোলযোগ দেখা দেওয়ায় বেশ কিছুক্ষণের জন্য ভোটগ্রহণ ব্যহত হয়। সকাল ৯টা অবধি মোট ১০.৫১ শতাংশ ভোটগ্রহণ হয়েছে বলেই জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বেলা ১১টায় সেই শতাংশই বৃদ্ধি পেয়ে ২১.৭১ শতাংশ হয়। দুপুর ১টায় সেই পরিসংখ্যানই ৩৩ শতাংশে বেড়ে দাঁড়ায়। দুপুর তিনটেয় এই সংখ্যা সামান্য বৃদ্ধি পেয়ে ৫৭.৮৭ শতাংশে পৌঁছেছে। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, শেষবেলাতেও খুব বেশি ভোটার দেখা যায়নি। বিগত দুই ঘণ্টায় অর্থাৎ দুপুর তিনটের তুলনায় বিকেল পাঁচটায় ভোটের হার বেড়েছে ৬৭.৬০ শতাংশ। ভোটগ্রহণের শেষ পর্বে, সন্ধে ছটা অবধি মোট ৭৩.০৩ শতাংশ ভোটগ্রহণ হয়েছে বলেই জানা গিয়েছে। নির্বাচনের যাবতীয় আপডেট দেখে নিন একনজরে-
দিনের শেষে মোট ৭৩.০৩ শতাংশ ভোট পড়ল অসম বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায়।
প্রথম দফার তুলনায় দ্বিতীয় দফায় অনেকটাই কমল ভোটের হার। অসম বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় বিকেল পাঁচটা অবধি মোট ৬৭.৬০ শতাংশ ভোটগ্রহণ হয়েছে বলেই জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
দুপুর বাড়তেই কিছুটা কমল ভোটের হার। প্রথম দফার তুলনায় দ্বিতীয় দফায় দুপুর তিনটে অবধি মোট ৫৭,৮৯ শতাংশ ভোটগ্রহণ হয়েছে বলেই জানা গিয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হল, অসমে দুপুর একটা অবধি ৩৩.২৪ শতাংশ ভোট গ্রহণ হয়েছে।
অসমে দ্বিতীয় দফার বিধানসভা নির্বাচন চলছে। এ দিকে, নির্বাচনী প্রচারে কোকরাঝড়ে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখানে গিয়েই তিনি কংগ্রেস জোটকে আক্রমণ করেন। বিরোধী জোটকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “যাঁরা কোকরাঝড়ে অশান্তির সৃষ্টি করেছিল, তাঁদের সঙ্গেই হাত মিলিয়েছে কংগ্রেস। ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি করে কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার স্বপ্ন দেখছে।”
শিলচর কেন্দ্রে ভোট দিলেন অসমের কংগ্রেস নেত্রী সুস্মিতা দেব। তিনি ভোট দিয়ে বেরিয়ে এসে বলেন, “মহাজোট হল সর্বসমম্মত জোট। অন্যদিকে, বিজেপির জোট হল সম্পূর্ণরূপে ধর্মীয় জোট।”
জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, এ দিন সকাল ১১টা অবধি অসমে মোট ২১.৭১ শতাংশ ভোটগ্রহণ হয়েছে।
দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে সকলে যেন ভোট দেন, সেই অনুরোধ জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি টুইটে লেখেন, “আজ অসমে দিবিতীয় পর্যায়ের নির্বাচন। এই পর্বের যোগ্য ভোটারদের ভোট দেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি। আসুন সকলে মিলে এই গণতন্ত্র উৎসবকে আরও শক্তিশালী করি।”
ভোট দিয়ে বেরিয়ে এসেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে অনুপ্রবেশ ইস্যুতে আক্রমণ করলেন এআইইউডিএফ নেতা বদরুদ্দিন আজমল। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদী ও অমিত শাহ বলেছিলেন তাঁরা বাংলাদেশীদের ফেরত পাঠাবেন। আজ পর্যন্ত কতজনকে তাঁরা ফেরত পাঠিয়েছেন? আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি যে গত ৫ বছরে ১০০ জন বাংলাদেশীকেও ফেরত পাঠানো হয়নি। বরং, ওনারাই ওদের এ রাজ্যে এনেছেন।”
অসম বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় ভোট দিলেন এআইইউডিএফ-র সভাপতি বদরুদ্দিন আজমল। তিনি হোজাইয়ের ২১ নম্বর বুথে ভোট দেন।
সকাল থেকেই বিভিন্ন বুথে লম্বা লাইন। দ্বিতীয় দফাতেও ভোটগ্রহণে মিলছে ভালই সাড়া। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, সকাল ৯টা অবধি অসমে মোট ১০.৫১ শতাংশ ভোট পড়েছে।
দ্বিতীয় দফার ভোটপর্বের শুরু হতেই সকালেই ভোটদান করলেন প্রাক্তন রেলমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা রাজেন গোহাইন। তিনি নাগাঁওয়ের একটি বুথে ভোট দেন। বুথ থেকে বেরিয়েই তিনি বলেন, “প্রথম দফায় বিজেপি ৪৭টি আসনের মধ্যে ৩৫টিরও বেশি আসন পাবে। দ্বিতীয় দফাতেও আমরা অনেক আসন পাব। ৭৫টিরও বেশি আসনে জয়ী হয়ে বিজেপি ফের সরকার গড়বে।”
গোটা দেশজুড়েই করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় ভোটগ্রহণ চলাকালীনও স্বাস্থ্যবিধির উপর বিশেষ নজর রাখা হয়েছে। বিভিন্ন বুথে ভোটারদের স্যানিটাইজ়ার, থার্মাল গান দিয়ে দেহের তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হচ্ছে। একইসঙ্গো ছোঁয়াচ এড়াতে গ্লাভসও দেওয়া হচ্ছে।
সকাল থেকেই নাগাঁও কেন্দ্রের নাওগং আইন কলেজের ২৬ নম্বর বুথে ইভিএম মেশিনে গোলযোগ দেখা যায়। ফলে বেশ কিছুক্ষণের জন্য ভোট গ্রহণ পর্ব ব্যহত হয়। একই সমস্যা দেখা দেয় শিলচরেও। সেখানেও ১৪৬ নম্বর পোলিং স্টেশনে ইভিএম মেশিন বিকল হয়ে পড়ে।
দ্বিতীয় দফার ভোটপর্ব শুরু হতেই সকাল থেকে ভোটারদের লম্বা লাইন দেখা গেল। করোনা পরিস্থিতির মাঝেই ভোট হওয়ায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই ভোট গ্রহণ চলছে।