Bengal food festival: দিল্লিতে বেঙ্গল ফুড ফেস্টিভ্যাল, এক ছাদের তলায় বাংলার মিষ্টি, খাবার, তাঁত ও হস্তশিল্প
Traditional Bengali Sweets and Food Festival in Delhi: নয়াদিল্লির চিত্তরঞ্জন পার্কের বঙ্গীয় সমাজে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। রাজধানীর অন্যতম বাঙালি অধ্যুষিত সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত সিআর পার্ক। ফলে দিল্লিতে বসবাসকারী বাঙালিদের পাশাপাশি অন্যান্য রাজ্যের বাসিন্দা ও পর্যটকদের কাছেও বাংলার খাবার, মিষ্টি, তাঁত এবং হস্তশিল্প তুলে ধরার সুযোগ থাকছে।

নয়াদিল্লি: বাংলার সমৃদ্ধ খাদ্য সংস্কৃতি, ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি এবং আঞ্চলিক খাবারকে দেশের রাজধানীতে তুলে ধরতে উদ্যোগী রাজ্য সরকার। সেই লক্ষ্যেই শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত নয়াদিল্লির সিআর পার্ক বঙ্গীয় সমাজে আয়োজন করা হয়েছে ‘বেঙ্গল ফুড ফেস্টিভ্যাল ২০২৬’। এই উৎসবের মাধ্যমে বাংলার বিভিন্ন জেলার নিজস্ব খাবার, মিষ্টি এবং ঐতিহ্যবাহী খাদ্যসামগ্রীর সঙ্গে দিল্লিবাসীকে পরিচিত করানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এদিন বেঙ্গল ফুড ফেস্টিভ্যালের উদ্বোধন করেন পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ।
বাংলার বিভিন্ন জেলার বিখ্যাত মিষ্টি ও খাবারের সম্ভার-
উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ বাংলার বিভিন্ন প্রান্তের বিখ্যাত মিষ্টি। পূর্ব বর্ধমানের মিহিদানা ও ল্যাংচা, নদিয়ার সরভাজা, সরপুরিয়া ও নবদ্বীপের লাল দই, হুগলির জনাইয়ের মনোহরা এবং চন্দননগরের জলভরা থাকছে উৎসবে। এ ছাড়াও দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগরের মোয়া, উত্তর ২৪ পরগনার মাখা সন্দেশ, বাঁকুড়ার মেচা সন্দেশ এবং মুর্শিদাবাদের ছানাবড়া থাকছে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে। পাশাপাশি থাকছে দার্জিলিং চা এবং কালিম্পংয়ের কফি।
বাংলার ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি তৈরির সঙ্গে যুক্ত কারিগর ও বিশেষজ্ঞরাও এই উৎসবে অংশ নিয়েছেন। তাঁদের মাধ্যমে বিভিন্ন জেলার নিজস্ব মিষ্টি তৈরির পদ্ধতি ও খাদ্যঐতিহ্য তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এদিন বেঙ্গল ফুড ফেস্টিভ্যালের উদ্বোধনের পাশাপাশি খাবার খেয়ে প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী। এদিন ফুড ফেস্টিভ্যালের উদ্বোধন হলেও সাধারণ দর্শকদের জন্য তা খুলবে আগামিকাল (৩১ অক্টোবর) থেকে। প্রতিদিন দুপুর ৩টে থেকে দর্শকরা ফেস্টিভ্যালে প্রবেশ করতে পারবেন।
বাংলার তাঁত ও হস্তশিল্পেরও প্রদর্শনী-
শুধু খাবার বা মিষ্টি নয়, বাংলার তাঁত ও হস্তশিল্পকেও দিল্লির মানুষের সামনে তুলে ধরতে চাইছে রাজ্য সরকার। সেই উদ্দেশ্যে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ এবং বস্ত্র দফতরের অধীন চারটি সংস্থা এই উৎসবে অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে তন্তুজ ও মঞ্জুষার মতো সংস্থা। এই সংস্থাগুলির উদ্যোগে বাংলার ঐতিহ্যবাহী তাঁতের পোশাক, হস্তশিল্প এবং বিভিন্ন ধরনের নিজস্ব পণ্যের প্রদর্শনী ও বিক্রির ব্যবস্থা থাকবে। এর ফলে বাংলার কারিগরদের কাজ এবং রাজ্যের নিজস্ব শিল্পসম্ভার দিল্লির ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
বাঙালি অধ্যুষিত সিআর পার্কে উৎসব-
নয়াদিল্লির চিত্তরঞ্জন পার্কের বঙ্গীয় সমাজে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। রাজধানীর অন্যতম বাঙালি অধ্যুষিত সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত সিআর পার্ক। ফলে দিল্লিতে বসবাসকারী বাঙালিদের পাশাপাশি অন্যান্য রাজ্যের বাসিন্দা ও পর্যটকদের কাছেও বাংলার খাবার, মিষ্টি, তাঁত এবং হস্তশিল্প তুলে ধরার সুযোগ থাকছে।
বাংলার সংস্কৃতি ও পণ্যের প্রচারে উদ্যোগ-
রাজ্য সরকারের লক্ষ্য, এই উৎসবের মাধ্যমে বাংলার আঞ্চলিক খাদ্য সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যবাহী পণ্যকে জাতীয় স্তরে আরও পরিচিত করে তোলা। একদিকে যেমন বাংলার বিভিন্ন জেলার মিষ্টি ও খাবারের প্রচার হবে, অন্যদিকে তাঁত ও হস্তশিল্পের বাজারও প্রসারিত করার সুযোগ তৈরি হবে। সব মিলিয়ে, বেঙ্গল ফুড ফেস্টিভ্যাল ২০২৬-কে বাংলার খাদ্য ঐতিহ্য, আঞ্চলিক বৈচিত্র্য এবং নিজস্ব শিল্পকর্মকে রাজধানীর মানুষের সামনে তুলে ধরার একটি মঞ্চ হিসেবে দেখছে রাজ্য সরকার।
