
কৃষি আইনের (Farm Laws) প্রতিবাদে আজ দেশ জুড়ে বনধের (Bharat Bandh) ডাক দিয়েছে সংযুক্ত কৃষক মোর্চা (Samyukta Kisan Morcha)। তিন কৃষি আইন (Farm Laws) ইস্যুতে আন্দোলনের ঝাঁঝ আরও বাড়াতে ৮ ডিসেম্বরের পর আজ ফের ১২ ঘণ্টার ভারত বনধ ঘোষণা করা হয়েছে। সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন জায়গায় ব্যাহত হয়েছে ট্রেন চলাচল। রেলের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ৪টি শতাব্দী এক্সপ্রেস ও ৩১টি ট্রেন বাতিল করতে হয়েছে আন্দোলনের কারণে। তবে রেল কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, পঞ্জাব ও হরিয়ানা ছাড়া বাকি কোথাও প্রভাব পড়েনি। গাজিপুর, সিংঘু সীমান্তও আটক করেছে কৃষকরা, তবে দিল্লিতে তেমন প্রভাব পড়েনি বনধের।
বিরোধীদের সমালোচনাকে উড়িয়ে দিয়ে কৃষক নেতা রাজবীর সিং বলেন, “আমাদের ১২ ঘণ্টার ভারত বনধ সম্পূর্ণরূপেই সফল ছিল। আগামিদিনেও শান্তিপূর্ণভাবেই আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে।”
পঞ্জাব ও হরিয়ানার একাধিক জায়গায় রেললাইনে বসে অবরোধ করলেও রেল কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হল, দু-একটি জায়গা ছাড়া অন্য কোথাও রেল পরিষেবায় প্রভাব পড়েনি। পাঁচ-ছ’টি ট্রেন দেরীতে ছাড়লেও বাকি তেমন কোনও সমস্যা বা অবরোধের মুখে পড়েনি রেল।
রাজধানী দিল্লির সীমান্তেই কৃষকরা দীর্ঘ চার মাস ধরে আন্দোলন করলেও আজ ভারত বনধের প্রভাব দেখা গেল না। দিল্লির ব্যবসায়ী সংগঠনগুলির তরফে আগেই জানানো হয়েছিল, কৃষকদের সমর্থন জানালেও দোকান বন্ধ রাখার পক্ষপাতী নন তাঁরা। আজ রাজ্য প্রশাসনের তরফে জানানো হয়, দিল্লির মেট্রো বা সড়ক পরিষেবায় বনধের কোনও প্রভাব পরেনি।
বনধ সপল করতে একের পর এক রাস্তা আটকাচ্ছে আন্দোলনকারী কৃষকরা। বেলা গড়াতেই পঞ্জাবের চণ্ডীগঢ়-অম্বালা হাইওয়ে আটক করে কৃষকরা। মাঝরাস্তাতেই আটকে পড়ে বহু গাড়ি, তৈরি হয় ব্যপক যানজট।
কৃষকদের ডাকে ১২ ঘণ্টার ভারত বনধে সমর্থন জানালেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। এদিন তিনি টুইট করে লেখেন, “ভারতের ইতিহাস সাক্ষী রয়েছে যে সত্যাগ্রহের মাধ্যমেই অন্যায়, অত্যাচার ও অবিচার শেষ করা সম্ভব। দেশের স্বার্থে ও শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন হোক।”
ভারত বনধের সমর্থনে রেললাইনে শুয়ে পড়ল আন্দোলনকারী কৃষকরা। পঞ্জাবের অমৃতসরে একাধিক রেললাইন আটক করে কৃষকরা। কেউ শুয়ে পড়েন, কেউ আবার লাইনেই কাপড় পেতে বসে পড়েন।
হরিয়ানার অম্বালাতেও পড়ছে বনধের প্রভাব। আন্দোলনকারী কৃষকরা জিটি রোড ও শাহপুরের কাছে রেললাইনে বসে প্রতিবাদ প্রদর্শন করছে।
শুক্রবার সকাল ছটা থেকে সন্ধে ছটা অবধি ভারত বনধের ডাক দিয়েছে আন্দোলনকারী কৃষকরা। ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এর প্রভাব পড়তে শুরু হয়েছে। সংযুক্ত মোর্চার ডাকে আন্দোলনকারী কৃষকরা সকাল সাতটা থেকেই গাজিপুর সীমান্ত আটকে দেয়।
কৃষক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে এটাও জানানো হয়েছে, ভোটমুখী পশ্চিমবঙ্গ, অসম, তামিলনাড়ু, কেরালা, পুদুচেরিতে বনধ পালন করা হচ্ছে না।
সকাল ৬টা থেকে সন্ধে ৬টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টার ভারত বনধের ডাক দিয়েছে কৃষক ইউনিয়ন। পঞ্জাব-হরিয়ানায় দফায় দফায় বিক্ষোভের খবর পাওয়া গিয়েছে। ‘রেল রোকো’ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে । কৃষক মোর্চার নেতা দর্শন পাল একটি ভিডিয়ো বার্তায় জানিয়েছেন, বনধ চলাকালীন সমস্ত সবজি ও দুধের সরবরাহ বন্ধ থাকবে। তবে ছাড় পাবে অ্যাম্বুলেন্স, দমকল ও অনান্য জরুরি পরিষেবা।