
নয়া দিল্লি: দেশের রাজনীতির মানচিত্রে আরও দখল বাড়ল বিজেপি(BJP)-র। চার রাজ্য ও এক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ফল প্রকাশের পর পূর্ব থেকে পশ্চিম, উত্তর থেকে মধ্য ভারত জুড়ে শুধুই গেরুয়া রঙ। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ের সঙ্গে সঙ্গেই বিজেপি ভারতের অধিকাংশ অঞ্চলেই নিজেদের জায়গা পাকা করে নিল। ২০১৩ সালে ক্ষমতায় আসার আগে যেখানে দেশজুড়ে বিজেপির ৭৭৩ জন বিধায়ক ছিল, তা ২০২৬ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭৯৮-তে। ১৭ রাজ্যে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী রয়েছে। ৫ রাজ্যে রয়েছেন এনডিএ সমর্থিত মুখ্যমন্ত্রী।
বাংলায় জয়ের মাধ্যমে এবার বিজেপি তার পায়ের ছাপ রাখল উত্তর, মধ্য, পূর্ব, পশ্চিম ও মধ্য ভারতে। উত্তর-পূর্বেও ক্রমশ বিজেপির দখল বাড়ছে। উত্তরাখণ্ড থেকে শুরু করে হরিয়ানা, দিল্লি, রাজস্থান, গুজরাট, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, অসম, মেঘালয়, ত্রিপুরা, মণিপুর, অরুণাচল প্রদেশ, মধ্য প্রদেশ, ছত্তীসগঢ়, ওড়িশা, মহারাষ্ট্র, গোয়া বিজেপির হাতে। যেদিকে ট্রেন্ড এগোচ্ছে, তাতে আগামী নির্বাচনে হিমাচল প্রদেশও দখল নিতে পারে বিজেপি। পঞ্জাবেও নিজেদের সংগঠন শক্তিশালী করতে মরিয়া বিজেপি। জম্মু-কাশ্মীরে দ্বিতীয় বৃহত্তম দল বিজেপি।
পশ্চিম ভারতে বিজেপির ঘাঁটি ক্রমাগত শক্ত হয়েছে। গুজরাট থেকে শুরু হয়ে রাজস্থান, মহারাষ্ট্র ও গোয়া তাদের দখলে।
বিজেপির নতুন লড়াইয়ের ময়দান বলা চলে পূর্ব ভারতকে। ওড়িশা ইতিমধ্যেই বিজেপির দখলে। বিহারেও এনডিএ জোট ক্ষমতায়। পশ্চিমবঙ্গেও এবার ক্ষমতায় এল বিজেপি। ঝাড়খণ্ডে সরকারে না থাকলেও, যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে।
মধ্য ভারতে মধ্য প্রদেশ ও ছত্তীসগঢ়ে বিজেপির দখল রয়েছে। উত্তর প্রদেশ জুড়ে গেরুয়া ঝড়।
উত্তর-পূর্ব ভারত বরাবর ব্রাত্য থেকে গিয়েছিল উন্নয়ন থেকে। তবে এই উন্নয়নের জোয়ারেই একে একে অসম, ত্রিপুরা, নাগাল্যান্ড, মণিপুর ও অরুণাচল প্রদেশের দখল নিয়েছে বিজেপি।
দেশের মানচিত্রে একমাত্র দক্ষিণ ভারতে পদ্ম ফোটেনি এখনও। দক্ষিণ ভারতে কোনও বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী নেই। তবে অন্ধ্র প্রদেশ ও পুদুচেরীতে এনডিএ সরকার রয়েছে। কর্নাটক ও তেলঙ্গানাতেও নিজেদের জায়গা শক্ত করছে বিজেপি।