
লখনউ: তিন দফায় সময়সীমা বাড়ানোর পরে উত্তরপ্রদেশে এসআইআর পর্বের প্রথম ধাপের শেষে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হল। তাতেই দেখা গেল রেকর্ড নাম বাদ। বাংলার গেরুয়া শিবির শাসকদলকে আক্রমণ বারংবার বলেছিল এক কোটি নাম বাদ যাওয়ার কথা। কিন্তু বাংলায় তেমনটা না হলেও হয়েছে উত্তরপ্রদেশে। এনুমারেশন ফর্ম জমা ও যাচাই পর্বের পরে যোগী আদিত্য়নাথের রাজ্য়ে খসড়া তালিকায় নাম বাদ গিয়েছে ২ কোটি ৮৯ লক্ষ ভোটারের। যা ঘিরে অস্বস্তিতে গেরুয়া শিবির। বাংলার নিরিখে এই বাদ পড়েছে পাঁচ গুণ বেশি ভোটার।
এই তালিকা প্রকাশের পরেই হিন্দিবলয়জুড়ে অ্যাকশন মোডে বিজেপি নেতৃত্ব। দোরগোড়ায় উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচন। বছর ঘুরলেই সেখানে ঘোষণা হবে নির্বাচনী নির্ঘণ্ট। তার আগেই এমন নাম বাদের হিড়িক চিন্তা ধরিয়েছে যোগী প্রশাসনের অন্দরে। চোখের সামনে ভোট কমার সম্ভবনা দেখতে পাচ্ছেন বিজেপি নেতারা। ইন্ডিয়া টুডের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই মর্মে ইতিমধ্যেই উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, রাজ্য় সভাপতি পঙ্কজ চৌধুরী-সহ একাধিক শীর্ষ নেতা একটি ভার্চুয়াল বৈঠকে বসেছিলেন। এই বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন ওই রাজ্যের একাধিক সাংসদ, বিধায়করাও। নজরে ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচন।
বিজেপির মণ্ডল স্তরীয় নেতৃত্বদের বিশেষ নির্দেশ দিয়েছে রাজ্যের শীর্ষ নেতৃত্ব। প্রতিটি ভোটারের সঙ্গে ব্যক্তিগত ভাবে যোগাযোগ করতে বলেছে তাঁরা। যারা বাদ গিয়েছেন, তাঁদের ফর্ম-৬-এর মাধ্যমে যোগ্য়তা ভিত্তিতে আবার ভোটার তালিকায় যুক্ত করা যায় কিনা সেই বিষয় খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি, শুধুই মণ্ডলস্তরীর নেতৃত্বরা নয়, প্রয়োজনে তাঁদের সহযোগিতা করতে হবে জেলা সভাপতি, বিধায়ক এবং সাংসদদেরও।
প্রসঙ্গত, উত্তরপ্রদেশে ভোটারদের খসড়া তালিকা থেকে সবচেয়ে বেশি নাম বাদ গিয়েছে লখনউয়ে। সেখানে প্রায় ১২ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে বলেই জানা গিয়েছে। এসআইআর শুরুর আগে সেখানে যত ভোটার ছিল, সেই নিরিখে প্রায় ৩০ শতাংশ ভোটার বাদ পড়েছেন। এরপরেই রয়েছে গাজ়িয়াবাদ। সেখানে বাদ গিয়েছে ৫ লক্ষের অধিক নাম। মোদীর লোকসভা কেন্দ্র বারাণসী থেকে বাদ পড়েছে ১৮.১৮ শতাংশ ভোটারের নাম। এমনকি, উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের বিধানসভা কেন্দ্র, গোরক্ষপুরে বাদ গিয়েছে ১৭.৬১ শতাংশ ভোটারের নাম।