Bhairav Battalion: পাল্লা দিতে পারে মার্কোস-কেও, কলকাতার রাজপথে প্রথমবার নামছে ‘ভৈরব’ ব্যাটেলিয়ান
Republic Day 2026: আগামী সোমবার, ২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবস। তার আগে মহড়ায় অংশ নিল এই ভৈরব ব্যাটেলিয়ান। মুখে শত্রুনিধন এবং উজ্জীবিত হওয়ার মন্ত্র। হাতে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র বা রাইফেল। রাজপথ কাঁপিয়ে মহড়া দিল এই বিশেষ প্রশিক্ষিত বাহিনী।

কলকাতা: দিল্লির কর্তব্যপথ হোক বা জয়পুর, ভৈরব ব্যাটেলিয়ান নজর কেড়েছে প্রত্যেকের। এবার কলকাতার রাজপথে ভৈরব ব্যাটেলিয়ান। ভারতীয় সেনায় সদ্য যুক্ত হওয়া অন্যতম স্পেশালাইজড ফোর্স এবার রাজপথে নিজেদের কসরত দেখাবে। ২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবসে কলকাতার রাজপথে থাকছে ভৈরব ব্যাটেলিয়ান। যাকে ঘিরে ভারতীয় সেনার পূর্বাঞ্চলীয় সদর দফতরও যথেষ্ট উচ্ছ্বসিত।
ভৈরব ব্যাটেলিয়ান বর্তমানে সেনার মার্কোস এবং গরুড়ের মতোই অন্যতম দক্ষ এবং বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত বাহিনী।ড্রোন প্রযুক্তি সামলানোর পাশাপাশি পদাতিক যুদ্ধে এই ব্যাটেলিয়ানকে বিশেষভাবে পারদর্শী করে তোলা হয়েছে।বর্তমানে উত্তর এবং পশ্চিম ভারতের সীমান্তে এই বিশেষ প্রশিক্ষিত বাহিনীকে দায়িত্বে রাখা হয়েছে।
ভারতীয় সেনা সূত্রে খবর, পূর্বাঞ্চলীয় সেনাসদর দফতরের অধীনে এদের মহড়ায় নিয়ে আসার একটাই অর্থ, পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে মোতায়েন হতে চলেছে ভৈরব ব্যাটালিয়ন। আগামী সোমবার, ২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবস। তার আগে মহড়ায় অংশ নিল এই ভৈরব ব্যাটেলিয়ান। মুখে শত্রুনিধন এবং উজ্জীবিত হওয়ার মন্ত্র। হাতে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র বা রাইফেল। রাজপথ কাঁপিয়ে মহড়া দিল এই বিশেষ প্রশিক্ষিত বাহিনী।

রাজপথে ভৈরব বাহিনীর মহড়া।
শুধু ভৈরব-ই নয়, একইসঙ্গে এগিয়ে চলল পিনাখা এবং ভীম-এর মতো রকেট। রয়েছে বোফর্স গান। পাহাড়ে যুদ্ধে পারদর্শী যে নতুন গাড়িটিকে ভারতীয় সেনায় যুক্ত করা হয়েছে সেই গাড়িটিও থাকবে মহড়ায়। অ্যান্টি-ড্রোন গান সহ ভারতীয় সেনার অত্যাধুনিক পরিবহনগুলি থাকবে মহড়ায়।
কী এই ভৈরব?
‘ভৈরব’ মূলত উচ্চগতির আক্রমণাত্মক ও বিশেষ অভিযান পরিচালনার জন্য তৈরি একটি ইউনিট। সেনা সূত্র জানাচ্ছে, এই বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে একই সঙ্গে পদাতিক যুদ্ধ এবং ড্রোন অপারেশনে দক্ষ করে তোলা হয়েছে। অর্থাৎ মাটিতে লড়াইয়ের পাশাপাশি আকাশে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি ও আঘাত হানার ক্ষমতাও তাদের রয়েছে।
বর্তমানে একাধিক ভৈরব ব্যাটালিয়ন উত্তর ও পশ্চিম সীমান্তে মোতায়েন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এই সংখ্যা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সীমান্তে শত্রুপক্ষের গতিবিধি, গোপন ঘাঁটি বা হঠাৎ আক্রমণের আশঙ্কা থাকলে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতেই এই বাহিনীর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
এই ড্রোন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
সাম্প্রতিক বিশ্ব পরিস্থিতি দেখিয়েছে, ড্রোন যুদ্ধের নিয়মই বদলে দিতে পারে। তুলনামূলকভাবে কম খরচে শত্রুপক্ষের উপরে নজরদারি, নির্ভুল হামলা ও ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন সম্ভব হচ্ছে। ভারতীয় সেনার পরিকল্পনাও সেই দিকেই এগোচ্ছে।
সেনা আধিকারিকদের বক্তব্য, ড্রোন অপারেটরদের এই বৃহৎ নেটওয়ার্ক শুধু বিশেষ বাহিনীতেই সীমাবদ্ধ নয়। নিয়মিত পদাতিক ইউনিট, আর্টিলারি ও অন্যান্য শাখাতেও এই প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে তথ্য সংগ্রহ ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার গতি অনেকটাই বেড়েছে।
ভবিষ্যতের যুদ্ধের প্রস্তুতি-
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ ভারতীয় সেনার যুদ্ধ কৌশলে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। একদিকে যেমন দক্ষতা বাড়ানো হচ্ছে, তেমনই প্রযুক্তিকে সরাসরি ময়দানে নামানো হচ্ছে। বহু সামরিক বিশ্লেষকের মতে, এই ড্রোন বাহিনী সীমান্তে ভারতের কৌশলগত অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।
আধুনিক যুদ্ধ আর শুধু সামনের সারির লড়াই নয়। তথ্য, প্রযুক্তি ও দ্রুত প্রতিক্রিয়াই হয়ে উঠছে জয়ের চাবিকাঠি। সেই বাস্তবতাকে মেনেই ভারতীয় সেনা ড্রোন যুদ্ধের এই নতুন অধ্যায়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পা রাখল।
