
নয়া দিল্লি: টাকার বিনিময়ে প্রশ্ন! এই মামলায় লোকপালকে আরও ২ মাস সময় দিল দিল্লি হাইকোর্ট। বিচারপতি অনিল ক্ষেতারপাল এবং বিচারপতি হরিশ বৈদ্যনাথন শঙ্করের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি ছিল। তাতে আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিলের জন্য সিবিআইকে অনুমোদন দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আরও ২ মাস সময় দেওয়া হল লোকপালকে। আগেই লোকপালকে সময় দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু অতিরিক্ত সময় চেয়ে ফের আদালতের দ্বারস্থ হয় লোকপালে। সেই আবেদনের ভিত্তিতে অনুমতি দেয় দিল্লি হাইকোর্ট।
বিচারপতি অনিল ক্ষেতারপাল এবং বিচারপতি হরিশ বৈদ্যানাথন শঙ্করের ডিভিশন বেঞ্চ লোকপালকে দুই মাস সময় দিয়েছে। তবে এর সঙ্গে এটাও স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এর পরে আর কোনও সময়সীমা বৃদ্ধি করা হবে না। বিচারপতির বক্তব্য, “নিষ্পত্তির সময়সীমা আরও দুই মাস বাড়ানো হল। তবে আর কোনও অতিরিক্ত সময় চাওয়ার আবেদন গ্রহণ করা হবে না।”
প্রসঙ্গত, মহুয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ, দুবাইয়ের শিল্পপতি দর্শন হীরানন্দানির কাছ থেকে টাকা নিয়ে তিনি সংসদে প্রশ্ন করেছেন। নিশানা করেছেন শিল্পপতি গৌতম আদানিকে। তাঁর বিরুদ্ধে ভয়ঙ্কর অভিযোগ তোলেন নিশিকান্ত। গত বছর লোকপালের নির্দেশের পরই তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত শুরু করে সিবিআই। ছ’মাসের মধ্যে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়া হয় লোকপালের দফতরে। সিবিআই মহুয়ার বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া। মহুয়ার বিরুদ্ধে যা যা অভিযোগ উঠেছে, তা রিপোর্ট আকারে উল্লেখ করা হয়। ২৬ জন সাক্ষীর সঙ্গে কথা বলে সিবিআই। প্রমাণ হিসাবে সংগ্রহ করা হয় ৩৮টি নথি। রিপোর্টে তারা জানিয়েছে, ঘুষ নিয়ে সংসদে মোট ৬১টি প্রশ্ন করেছিলেন মহুয়া। তার মধ্যে তিনটি প্রশ্ন করা হয়েছিল সামনাসামনি, অফলাইন মাধ্যমে।
এই মামলায় আইনি প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য অনুমতি চেয়েছিল। নির্দেশিকায় লোকপাল জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়ার পরেই সিবিআইয়ের দ্বিতীয় আবেদনটি বিবেচনা করা হবে। তার আগে নয়। গত বছর দিল্লি হাই কোর্ট মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিলের জন্য সিবিআইকে অনুমোদন দেওয়ার লোকপালের নির্দেশ খারিজ করে দিয়েছিল। আদালত তখন পর্যবেক্ষণ করেছিল যে, লোকপাল আইন-এর বিধান বুঝতে ভুল হচ্ছে। সেই কারণে, এক মাসের মধ্যে অনুমোদনের বিষয়টি নতুন করে বিবেচনা করার জন্য লোকপালকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।