China: সলমন খানের নতুন সিনেমা নিয়ে বিপাকে চিন! কেন?

| Edited By: Purvi Ghosh

Jan 02, 2026 | 9:51 PM

গালওয়ান—সেই গালওয়ানে সদ্য উদ্বোধন হয়েছে ওয়ার মেমোরিয়াল। ২৫ ডিসেম্বর প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এই স্মৃতিসৌধের উদ্বোধন করেন। তার ঠিক পরেই মুক্তি পায় সলমন খানের নতুন ছবি ব্যাটল অফ গালওয়ান-এর টিজার। ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষকে কেন্দ্র করেই তৈরি এই সিনেমা জানুয়ারির শেষের দিকে মুক্তি পাওয়ার কথা। কিন্তু মাত্র ২৭ সেকেন্ডের টিজারই অস্বস্তিতে ফেলেছে চিনকে। সিনেমা, তার গল্প ও চরিত্র—সব মিলিয়ে চিনের আপত্তির শেষ নেই। বিষয়টি নিয়ে সক্রিয় হয়েছে চিনা বিদেশমন্ত্রক, সংবাদমাধ্যম এবং ভারতে অবস্থিত চিনা দূতাবাসও। অভিযোগ, সিনেমায় গালওয়ান সংঘর্ষের তথ্য বিকৃত করে দেখানো হয়েছে, যা দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি ঘটাতে পারে। এই অভিযোগ জানিয়ে সিনেমার প্রযোজনা সংস্থা এবং কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রককে লিখিত চিঠিও দিয়েছে চিনা দূতাবাস।

গালওয়ান—সেই গালওয়ানে সদ্য উদ্বোধন হয়েছে ওয়ার মেমোরিয়াল। ২৫ ডিসেম্বর প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এই স্মৃতিসৌধের উদ্বোধন করেন। তার ঠিক পরেই মুক্তি পায় সলমন খানের নতুন ছবি ব্যাটল অফ গালওয়ান-এর টিজার। ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষকে কেন্দ্র করেই তৈরি এই সিনেমা জানুয়ারির শেষের দিকে মুক্তি পাওয়ার কথা।

কিন্তু মাত্র ২৭ সেকেন্ডের টিজারই অস্বস্তিতে ফেলেছে চিনকে। সিনেমা, তার গল্প ও চরিত্র—সব মিলিয়ে চিনের আপত্তির শেষ নেই। বিষয়টি নিয়ে সক্রিয় হয়েছে চিনা বিদেশমন্ত্রক, সংবাদমাধ্যম এবং ভারতে অবস্থিত চিনা দূতাবাসও। অভিযোগ, সিনেমায় গালওয়ান সংঘর্ষের তথ্য বিকৃত করে দেখানো হয়েছে, যা দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি ঘটাতে পারে। এই অভিযোগ জানিয়ে সিনেমার প্রযোজনা সংস্থা এবং কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রককে লিখিত চিঠিও দিয়েছে চিনা দূতাবাস।

এখানেই থামেনি বিষয়টি। মঙ্গলবার চিনের সরকারি মুখপত্র গ্লোবাল টাইমস গালওয়ান ও এই সিনেমা নিয়ে একটি দীর্ঘ লেখা প্রকাশ করেছে। প্রশ্ন উঠছে, টিজারে এমন কী আছে, যা নিয়ে এত আপত্তি? নাকি এটা চিনের পরিচিত ‘প্রেশার ট্যাকটিক্স’-এরই আরেকটি উদাহরণ?

টিজার দেখে স্পষ্ট কোনও আপত্তিকর দৃশ্য চোখে পড়ে না। তবে চিনের অস্বস্তির মূল কারণ সম্ভবত গালওয়ানের সেই ঘটনা, যা আজও ভারত-চিন সম্পর্কের ক্ষত হয়ে রয়ে গেছে।২০২০ সালে আন্তর্জাতিক সমস্ত রীতিনীতি ভেঙে গালওয়ান উপত্যকায় ঢুকে পড়ে চিনা সেনা। কাঁটা লাগানো গদা নিয়ে অপ্রস্তুত ভারতীয় সেনাদের উপর তারা হামলা চালায়। সীমান্তে এমন সংঘর্ষ হবে, তা সেই সময় কেউই ভাবেনি, ভারতীয় সেনারাও না। মুখোমুখি এই লড়াইয়ে ভারতের ক্ষয়ক্ষতি ছিল বেশি। কম্যান্ডিং অফিসার কর্নেল বি সন্তোষ বাবু-সহ ২০ জন ভারতীয় সেনার মৃত্যু হয়। তৎকালীন সময়ে চিন নিজেদের ক্ষয়ক্ষতির কথা স্বীকার করেনি। প্রায় আট মাস পরে পিপলস লিবারেশন আর্মি সরকারিভাবে জানায়, ওই সংঘর্ষে চার জন পিএলএ সদস্যের মৃত্যু হয়েছে।

গালওয়ান সংঘর্ষের পর থেকেই ভারত-চিন সম্পর্কে বিশ্বাসের ভাঙন স্পষ্ট। ভারত বুঝে যায়, লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল আর আগের মতো নেই। চুক্তি থাকলেও যে কোনও দিন খোলাখুলি সংঘর্ষ শুরু হতে পারে। সেই উপলব্ধি থেকেই গত পাঁচ বছরে LAC-তে সামরিক প্রস্তুতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে ভারত। পাশাপাশি চলছে কূটনৈতিক আলোচনা। এই আলোচনার ভিত্তিতেই পূর্ব লাদাখ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। আলোচনা এখনও চলছে।

তবে গালওয়ানের পর থেকে বিশ্বাসের যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা এখনও পূরণ হয়নি। গালওয়ানে ঠিক কী ঘটেছিল, কীভাবে আন্তর্জাতিক নিয়ম ভেঙে চিনা সেনা হামলা চালিয়েছিল, এবং ওই ঘটনার নেপথ্যে চিনের পরিকল্পনাই বা কী ছিল—এই সব প্রশ্ন সিনেমা মুক্তি পেলে আরও বেশি করে সাধারণ মানুষের সামনে চলে আসতে পারে।

সম্ভবত সেই কারণেই ব্যাটল অফ গালওয়ান নিয়ে এতটা উদ্বেগে চিন।

Published on: Jan 02, 2026 09:50 PM