জয়পুর: বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাজস্থান থেকে আসন্ন রাজ্যসভা নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন জমা দিলেন কংগ্রেসের প্রাক্তন সভানেত্রী সনিয়া গান্ধী। এদিন সকালেই তিনি জয়পুরে যান। তারপর, ছেলে রাহুল গান্ধী, মেয়ে প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরা, রাজস্থানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট এবং রাজ্যের কংগ্রেস নেতা গোবিন্দ সিং দোতাসরাকে সঙ্গে নিয়ে জয়পুরে রাজ্য বিধানসভায় গিয়ে মনোনয়ন জমা দেন সনিয়া। কংগ্রেস দলীয় সূত্রের খবর, ভগ্ন স্বাস্থ্যের কারণেই লোকসভা নির্বাচনের ধকল আর নিতে চান না সনিয়া গান্ধী। লোকসভা কেন্দ্রে নিয়মিত যাওয়াও তাঁর পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। সেই কারণেই তিনি রাজ্যসভায় সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
রাজস্থান থেকে সনিয়া গান্ধী রাজ্যসভা নির্বাচনের মনোনয়ন জমা দেওয়ার উচ্ছ্বসিত রাজস্থানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি তিনি দাবি করেছেন, রাজস্থানের সঙ্গে সনিয়ার অন্তরের যোগ রয়েছে। এদিন সনিয়া গান্ধী ছাড়াও, রাজ্যসভা নির্বাচনের আরও চার প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে কংগ্রেস। বিহার থেকে প্রার্থী হবেন অখিলেশ প্রসাদ সিং, হিমাচল প্রদেশ থেকে অভিষেক মনু সিংভি এবং মহারাষ্ট্র থেকে চন্দ্রকান্ত হান্দোর।
রাজস্থান থেকে কংগ্রেসের একটি রাজ্যসভা আসনে জয় নিশ্চিত। কাজেই সনিয়ার জয় নিয়ে কোনও সংশয় নেই। এর আগে লোকসভায় পাঁচ মেয়াদে সাংসদ হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।১৯৯৯ সালে কংগ্রেস সভানেত্রী হওয়ার পরই প্রথমবার লোকসভায় নির্বাচিত হন তিনি। কিন্তু, রাজ্যসভায় এই প্রথম পা রাখবেন কংগ্রেস নেত্রী। এর আগে গান্ধী পরিবার থেকে আর একজনই রাজ্যসভার সদস্য হয়েছিলেন। ১৯৬৪ সালের অগস্ট থেকে ১৯৬৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাজ্যসভার সাংসদ ছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী।
এদিকে, সনিয়া রাজ্যসভায় সরে যাওয়ায়, রায়বরেলির আসন থেকে কে প্রার্থী হবেন, সেই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। জল্পনা চলছে, এই কেন্দ্র থেকে কংগ্রেস প্রার্থী করতে পারে সনিয়ার মেয়ে তথা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক, প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরা। তবে, প্রিয়ঙ্কাকে আমেঠি আসন থেকেও প্রার্থী করা হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। গত লোকসভা নির্বাচনে, এই আসনে স্মৃতি ইরানির বিরুদ্ধে পরাজিত হয়েছিলেন রাহুল গান্ধী। তবে, প্রিয়ঙ্কা লোকসভা নির্বাচনে লড়বেন কিনা, সেই বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলেই জানা গিয়েছে কংগ্রেস সূত্রে।