
নয়া দিল্লি: সাইবার প্রতারণার নয়া ফাঁদ। এবার এক নতুন উপায়ে সাধারণ মানুষকে বোকা বানিয়ে প্রতারণার ফাঁদে ফেলছে সাইবার দুষ্কৃতীরা। এই নয়া মোডাস অপারেন্ডিকে বলা হচ্ছে ‘ডিজিটাল হাউস অ্যারেস্ট’। সাইবার প্রতারকদের এই নয়া কারবারই এবার রাতের ঘুম উড়িয়েছে দিল্লি পুলিশের। সংবাদ সংস্থা পিটিআই দিল্লি পুলিশের এক সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানাচ্ছে, সম্প্রতি প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ২০০-র উপরে এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে রাজধানীতে।
কিন্তু কী এই ‘ডিজিটাল হাউস অ্যারেস্ট’? কীভাবে ফাঁদে ফেলা হয় এই পথে? দিল্লি পুলিশের এক অফিসার পিটিআইকে জানাচ্ছেন, ‘ডিজিটাল হাউস অ্যারেস্ট’ হল এমন এক ব্যবস্থা যেখানে সাইবার প্রতারকরা পুলিশ বা কোনও তদন্তকারী সংস্থার অফিসারের পরিয় দিয়ে যোগাযোগ করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে। তারপর বিভিন্নভাবে ওই ব্যক্তিকে যদি একবার বুঝিয়ে ফেলা যায় যে তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, সিম, আধার কার্ড বা অন্যান্য কার্ড বেআইনিভাবে ভুল কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে… তাহলেই কেল্লাফতে। এরপর প্রতারকরা ওই ব্যক্তিকে সতর্ক করে দেয় যাতে তিনি বাড়ি থেকে না বেরোন আর তাঁকে টাকা দিতে বাধ্য করা হয়।
দিল্লি পুলিশের আইএফএসও ইউনিটের এক সিনিয়র পুলিশ অফিসার পিটিআইকে জানিয়েছেন, ‘ডিজিটাল হাউস অ্যারেস্ট বর্তমান সময়ে সত্যিই চিন্তার বিষয় হয়ে উঠেছে। তবে আমাদের তরফে একটি স্পেশাল ইউনিট তৈরি করা হয়েছে, যা সেই সব মামলাগুলির তদন্ত করে যেখানে প্রতারণার অঙ্ক ৫০ লাখ টাকার বেশি।’
দিল্লি পুলিশ সূত্রে খবর, অনেকক্ষেত্রে এই সাইবার প্রতারকরা একটি বিশেষ ধরনের ট্রান্সলেশন টুল ব্যবহার করছে। যাতে ইংরেজি নির্ভুল হয়। তারপর পুলিশ ডিপার্টমেন্টের ভুয়ো লেটারহেড ব্যবহার করে ইংরেজিতে হুমকি চিঠি পাঠাচ্ছে। জানা যাচ্ছে, মূলত যাঁরা প্রবীণ নাগরিক, তাঁদেরই বেছে বেছে টার্গেট করছে এই সাইবার প্রতারকদের দল।