Delhi Stampede Update: ২ ঘণ্টায় ৯৬০০ জেনারেল টিকিট বিক্রি! আর ট্রেন ক’টা? বিপদ সবটা বুঝেও চুপ ছিল রেল?
Indian Railways: প্রশ্নের মুখে পড়েছে স্টেশন মাস্টারের ভূমিকা। শেষ মুহূর্তে কুম্ভগামী স্পেশাল ট্রেন ১৬ নম্বর প্লাটফর্মে পরিবর্তন করাতেই ঘটেছে দুর্ঘটনা। নির্ধারিত স্টেশন থেকে ট্রেনের রুট পরিবর্তন করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন স্টেশন মাস্টার।

নয়া দিল্লি: কাল হয়েছে কুম্ভে পুণ্যস্নানই, ট্রেনে উঠতে গিয়েই হুড়োহুড়িতে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু ১৮ জনের। নয়া দিল্লি রেল স্টেশনে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনায় যতই গভীরে তদন্ত হচ্ছে, ততই চাঞ্চল্য়কর তথ্য সামনে উঠে আসছে। দুর্ঘটনার পর থেকেই যাত্রীরা রেলের দিকে অভিযোগ তুলেছিল, যদিও সেই দায় ঝেড়ে ফেলার চেষ্টা করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। তবে এবার তদন্তে উঠে এল মারাত্মক সব তথ্য, যা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে, গাফিলতিটা কোথায়? জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনার দিন মাত্র ২ ঘণ্টাতেই অস্বাভাবিক সংখ্যায় জেনারেল টিকিট বিক্রির পরও টনক নড়েনি রেল কর্তৃপক্ষের। দুর্ঘটনার সময় প্ল্যাটফর্মে ছিল হাতে গোনা নিরাপত্তারক্ষী। শেষ মুহূর্তে কুম্ভগামী ট্রেনের প্ল্যাটফর্ম চেঞ্জ না করলে এড়ানো যেত দুর্ঘটনা।
তদন্ত শুরু হতেই প্রকাশ্যে আসছে একের পর এক গলদের ছবি। প্রথম গলদ হল, সন্ধ্যা ৬ টা থেকে ৮টার মধ্যে ৯৬০০ জেনারেল টিকিট বিক্রি হয়েছিল সেদিন। ১৫ ফেব্রুয়ারি সারাদিনে জেনারেল টিকিট বিক্রি হয়েছে ৫৪ হাজারেরও বেশি।
রেল সূত্রে খবর, বিক্রি হওয়া জেনারেল টিকিটের তুলনায় প্লাটফর্মে প্রকৃত যাত্রীর সংখ্যা বহুগুণ বেশি ছিল। যেহেতু তীর্থযাত্রীদের টিকিট চেকের ক্ষেত্রে কিছুটা শিথিলতা দেখানো হয়, সেই কারণে কুম্ভ চলাকালীন বিনা টিকিটের যাত্রী সংখ্যা প্রত্যেক দিনই যথেষ্ট বেশি থাকছে।
দ্বিতীয় গলদ হল, দুর্ঘটনার সময় হাজার হাজার কুম্ভগামী যাত্রীকে সামলাতে ১৬ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ছিল মাত্র ৬০ জন আরপিএফ কর্মী এবং মাত্র ২০ জন দিল্লি পুলিশ কর্মী। রেকর্ড বলছে, ২০০৪ এবং ২০১০ সালেও কুম্ভমেলার সময় নয়াদিল্লি স্টেশনে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এরপর থেকেই ছট পুজো, হোলি বা দিওয়ালির মত উৎসবের সময় স্টেশনে নিরাপত্তাকর্মীর সংখ্যা বহুগুণ বাড়ানো হয়। তাহলে প্রায় একমাস ধরে কুম্ভমেলার পরেও কেন স্টেশনে পর্যাপ্ত সংখ্যক নিরাপত্তারক্ষী ছিল না?
পাশাপাশি প্রশ্ন উঠছে, অস্বাভাবিক হারে জেনারেল টিকিট বিক্রির পরেও কেন কর্তব্যরত নিরাপত্তারেক্ষীদের সতর্ক করা হল না? দিল্লি পুলিশের অভিযোগ, জেনারেল টিকিট বিক্রির সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে যে বাড়ছে সে বিষয়ে পুলিশকে কোনও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি।
প্রশ্নের মুখে পড়েছে স্টেশন মাস্টারের ভূমিকা। শেষ মুহূর্তে কুম্ভগামী স্পেশাল ট্রেন ১৬ নম্বর প্লাটফর্মে পরিবর্তন করাতেই ঘটেছে দুর্ঘটনা। নির্ধারিত স্টেশন থেকে ট্রেনের রুট পরিবর্তন করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন স্টেশন মাস্টার।রাত ০৮.০৫ এ ১২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে শিবগঙ্গা এক্সপ্রেসে চেষ্টা করে উঠতে পারেননি অধিকাংশ কুম্ভযাত্রী। তারা অপেক্ষা করছিলেন ১২ নম্বর প্লাটফর্মেই।
এরপরই ১৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মে রাত ৯.০৫ মিনিটে মগধ এক্সপ্রেসে ওঠার মরিয়া চেষ্টা চালাতে শুরু করেন কুম্ভের পুণ্যার্থীরা। রাত ৮:৫০ মিনিটে ঘোষণা করা হয় ১২ নম্বর প্লাটফর্ম থেকে একটি প্রয়াগরাজ গামী স্পেশাল ট্রেন ছাড়বে। ফের ১২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ভিড় করতে শুরু করেন যাত্রীরা।
এরপরে হঠাৎ করেই ১৬ নম্বর প্লাটফর্মে পরিবর্তন করে দেওয়া হয় প্রয়াগরাজগামী স্পেশাল ট্রেনটি। ১২-১৩ এবং ১৪-১৫ নম্বর স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা কুম্ভগামী যাত্রীরা মরিয়া হয়ে ফুট ওভারব্রিজ দিয়ে ১৬ নম্বর প্লাটফর্মে পৌঁছানোর চেষ্টা করে। এদিকে স্বতন্ত্র সেনানী এক্সপ্রেস এবং ভুবনেশ্বর রাজধানী লেট থাকায় দুই ট্রেনে যাত্রীরাও সেই সময় স্টেশনে ঢুকছিল।। তখনই ঘটে দুর্ঘটনা। তদন্তে দাবি করা হয়েছে, ১২ অথবা ১৪ নম্বর প্লাটফর্মে কুম্ভগামী ট্রেন দিলে এই দুর্ঘটনা হয়তো ঘটত না।

