
গাজিয়াবাদ: কোরিয়ান গেমে আসক্ত। মোবাইল কেড়ে নিতেই একসঙ্গে আত্মহত্যা করল তিন বোন। উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদের এই আত্মহত্যার ঘটনা সকলকে নাড়া দিয়েছে। তবে ওই আত্মহত্যার ঘটনার তদন্তে নেমে আরও ভয়ঙ্কর তথ্য় সামনে উঠে এল।
গাজিয়াবাদের তিন বোন নিশিকা (১৬), প্রাচী (১৪) ও পাখি (১২) একসঙ্গে আত্মহত্য়া করে। তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল যখন তাদের বাবা, চেতন কুমার তাদের মোবাইল কেড়ে নেয় এবং বিদ্যুতের বিল মেটানোর জন্য সেই মোবাইলগুলি বিক্রি করে দেয়। জানা গিয়েছে, তাঁদের বাবা চেতন কুমার পেশা স্টক ব্রোকার। তাঁর ঘাড়ে ২ কোটি টাকার দেনা ছিল। চরম অর্থকষ্টে ছিলেন তারা।
ঘটনার দিন কী হয়েছিল, সেটাও জানা গিয়েছে। ওইদিন রাতের বেলায় তিন বোন তাদের মায়ের মোবাইল নিয়ে নিয়েছিল, কিন্তু কোনও কোরিয়ান অ্যাপ বা কনটেন্ট দেখতে পাচ্ছিল না। কোনও অনলাইন গেম খেলতে পাচ্ছিল না এবং কোরিয়ান বন্ধুদের সঙ্গে কথাও বলতে পারছিল না।
তদন্তে জানা গিয়েছে, তিন বোনের মা আলাদা হলেও, বাবা একজনই। কুমার তিন বোনকে বিয়ে করেছিলেন। সুজাতা নিশিকার মা, প্রাচী ও পাখির মা হিনা। আরেক স্ত্রী টিনা। এরা তিনজনই রক্তের সম্পর্কে বোন।
পুলিশ জানিয়েছে, তিন বোনেরই তাদের বাবার সঙ্গে বেশি ভাল সম্পর্ক ছিল। সুইসাইড লেটারেও তারা বাবার নাম লিখেছিল কিন্তু মায়ের নাম লেখেনি।
পুলিশ ইতিমধ্য়েই মোবাইলগুলির আইএমইআই নম্বর ট্র্যাক করা শুরু করেছে মোবাইলগুলি উদ্ধার করার জন্য। অন্যদিকে, তদন্তে আরও জানা গিয়েছে যে চেতন কুমার এই তিন বোনকে বিয়ে করার আগে অন্য এক মহিলার সঙ্গে লিভ ইন সম্পর্কে ছিলেন। ২০১৫ সালে তাঁর লিভ ইন সঙ্গী রহস্যজনকভাবে ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন। সেই সময়ে ওই মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে কেস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।