
নয়াদিল্লি: দূরত্ব বজায় নাকি কংগ্রেসের সিদ্ধান্তে ভর করে তৃণমূলের একলা চলো নীতি? আপাতত লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব ঘিরে তৈরি হচ্ছে এই প্রশ্ন। শাসকদলের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করছেন স্পিকার ওম বিড়লা — এই অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার সিদ্ধান্ত নিল কংগ্রেস। রাহুল গান্ধীদের ওই প্রস্তাবে সমাজবাদী পার্টি, ডিএমকের মতো ইন্ডিয়া জোটের দলগুলি সমর্থন জানালেও, তৃণমূল কংগ্রেসের সিদ্ধান্ত নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।
মঙ্গলবার বেলা দেড়টার কিছু আগে লোকসভার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দিয়েছে কংগ্রেস। এদিন লোকসভার সেক্রেটারি জেনারেলের কাছে জমা পড়েছে এই অনাস্থা প্রস্তাব। তাতে স্বাক্ষর করেছেন ১১৮ জন সাংসদ। কিন্তু নেই কোনও তৃণমূল সাংসদের নাম। কেন এমনটা হল? নেপথ্য়ে কি অন্য সমীকরণ?
সূত্রের খবর, তৃণমূলের প্রস্তাব ছিল নিদেনপক্ষে দু’শো জন সাংসদের স্বাক্ষর করা চিঠি স্পিকারকে দেওয়া হোক। কীভাবে অধিবেশন চলা উচিত, স্পিকারের আচরণ কী হওয়া উচিত সে বিষয়ে চিঠিতে উল্লেখ করা হোক। কিন্তু তা আর হয়ে উঠেনি। কংগ্রেস তৃণমূলের প্রস্তাবকে গুরুত্ব না দিয়ে নিজেরাই এক তরফা অনাস্থা প্রস্তাব জমা দিয়ে ফেলেছে।
তা হলে কি জোটে ভাঙন নাকি ধীরে চলো নীতিকে আধার করে কৌশলী হল তৃণমূল? যাতে বাড়তি ডিভিডেন্ড দিল কংগ্রেসের অতিসক্রিয়তা! এই নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন অনাস্থা প্রস্তাবে কোনও আপত্তি নেই। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের কথায়, “আমাদের তরফে তো কোনও আপত্তি ছিল না। কিন্তু আমরা ওদের একটা প্রস্তাব দিয়েছিলাম। জানিয়েছিলাম, প্রথমে একটা চিঠি পাঠাতে। তারপর কয়েকদিন সময় দিন। স্পিকার যদি সেই চিঠির ভিত্তিতে কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ না করেন, তা হলে তখন অনাস্থা প্রস্তাব জমা দিন।”