Drugs Smuggling: মায়ানমার থেকে ঢুকছে সিন্থেটিক ড্রাগ! মাদক পাচার রুখতে বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের
Centre on Drugs Cartel: জাতীয় অপরাধ রেকর্ড ব্যুরো (NCRB)-র ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে মাদক উদ্ধার, গ্রেফতার ও দোষী সাব্যস্ত হওয়ার সংখ্যা এখনও উদ্বেগজনক। কেন্দ্রের দাবি, সীমান্তে কঠোর নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং আন্তঃসংস্থার সমন্বয় আরও শক্তিশালী করে আন্তঃদেশীয় মাদক চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হবে।

নয়া দিল্লি: সীমান্ত নিয়ে বাড়ছে চিন্তা। শুধু বাংলাদেশ বা পাকিস্তান নয়, আরেক পড়শি দেশ মায়ানমার (Myanmar) এখন ভারতের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। ভারত-মায়ানমার সীমান্ত দিয়ে মাদক পাচার দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে মায়ানমারের সঙ্গে দীর্ঘ ও অরক্ষিত সীমান্ত থাকার কারণে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলি আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের অন্যতম ট্রানজিট করিডরে পরিণত হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমান্ত নজরদারি বাড়ানো, নতুন নারকোটিক্স দফতর খোলা এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মতো একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্র সরকার।
সংসদের রাজ্যসভায় সরকার জানিয়েছে, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বিভিন্ন মাদকবিরোধী সংস্থা (DLEAs) মোট ৪,৬২৬ কেজি অ্যামফেটামিন টাইপ স্টিমুল্যান্টস (ATS) এবং ২,৬৫২ কেজি হেরোইন উদ্ধার করেছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বিশেষ করে মণিপুর, মিজোরাম ও নাগাল্যান্ড হয়ে মায়ানমার থেকে ক্রিস্টাল মেথ ও ইয়াবার মতো সিন্থেটিক মাদকের পাচার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
কেন্দ্রের মতে, মোরেহ-তামু সীমান্ত এখনও মায়ানমার থেকে ভারতে হেরোইন ও মেথামফেটামিন পাচারের প্রধান রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মায়ানমারে সিন্থেটিক মাদক তৈরির কাঁচামাল পাচারের ঘটনাও বাড়ছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্র ২০২৬-২৯ সালের ‘ভিশন ডকুমেন্ট অন নারকোটিক্স কন্ট্রোল’ প্রকাশ করেছে। এতে চারটি ক্ষেত্রে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে— গোয়েন্দা তথ্য ও অভিযান, সিন্থেটিক মাদক ও প্রিকার্সর নিয়ন্ত্রণ, মাদকাসক্তি প্রতিরোধ এবং বিভিন্ন সংস্থার সক্ষমতা ও সমন্বয় বৃদ্ধি।
এছাড়া চারস্তর বিশিষ্ট নারকো-সমন্বয় কেন্দ্র (NCORD) ব্যবস্থাকে আরও সক্রিয় করা হয়েছে। নিয়মিত যৌথ সমন্বয় বৈঠক, প্রতিটি রাজ্যে অ্যান্টি-নারকোটিক্স টাস্ক ফোর্স (ANTF) গঠন এবং এনসিবি, বিএসএফ, ভারতীয় নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড ও রাজ্য পুলিশের যৌথ অভিযানও চালানো হচ্ছে।
মাদক পাচার রুখতে সীমান্তে অ্যান্টি-ড্রোন ব্যবস্থা, সিসিটিভি, নাইট ভিশন ডিভাইস, উন্নত নজরদারি ব্যবস্থা, নতুন নকশার সীমান্ত বেড়া ও ফ্লাডলাইট বসানোর কাজও জোরকদমে চলছে।
এনসিবির কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে শ্রীনগর, শিলিগুড়ি, আগরতলা ও ইটানগরে জোনাল ইউনিট গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি দিমাপুর (নাগাল্যান্ড), আইজল (মিজোরাম), শিলং (মেঘালয়) এবং গ্যাংটক (সিকিম)-সহ উত্তর-পূর্বের চারটি নতুন জোনাল অফিস স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্র।
এদিকে, জাতীয় অপরাধ রেকর্ড ব্যুরো (NCRB)-র ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে মাদক উদ্ধার, গ্রেফতার ও দোষী সাব্যস্ত হওয়ার সংখ্যা এখনও উদ্বেগজনক। কেন্দ্রের দাবি, সীমান্তে কঠোর নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং আন্তঃসংস্থার সমন্বয় আরও শক্তিশালী করে আন্তঃদেশীয় মাদক চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হবে।
