E20 Petrol-এ জল মেশানো হচ্ছে? এক হাজারেরও বেশি নমুনা পরীক্ষা, সামনে এল রিপোর্ট
E20 Petrol Safety: তেল বিপণন সংস্থাগুলির বক্তব্য, এখনও পর্যন্ত যে পরীক্ষাগুলি হয়েছে, তাতে E20 পেট্রোলে 500 ppm ক্লোরাইড বা বিপজ্জনক মাত্রায় জল থাকার অভিযোগের সত্যতা মেলেনি। তাই গ্রাহকদের E20 পেট্রোল নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে নির্ভয়ে ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নয়া দিল্লি: E20 পেট্রোল নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। ই২০ কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে বিতর্কের অবসান হতেই, সম্প্রতি এই জ্বালানিতে জল এবং অতিরিক্ত মাত্রায় ক্লোরাইড থাকার অভিযোগ উঠেছিল। কোথাও কোথাও পেট্রোলে ৫০০ পিপিএম (500 ppm) পর্যন্ত ক্লোরাইড থাকার দাবিও করা হয়। এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে দেশজুড়ে পরীক্ষা চালায় দেশের তেল বিপণন সংস্থাগুলি (OMC)। পরীক্ষার পর তারা এই অভিযোগ খারিজ করল। অয়েল মার্কেটিং সংস্থাগুলির দাবি, E20 পেট্রোলে বিপজ্জনক মাত্রায় ক্লোরাইড বা জল মেশানোর কোনও প্রমাণ মেলেনি।তাই E20 পেট্রোল নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই।
শুক্রবার, ৭ অগস্ট অয়েল মার্কেটিং সংস্থা (OMC)-গুলির প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, E20 পেট্রোল সরবরাহের গোটা প্রক্রিয়া—রিফাইনারি থেকে শুরু করে ইথানল উৎপাদন কেন্দ্র, ডিপো, ট্যাঙ্কার এবং পেট্রোল পাম্প—জুড়ে নিবিড় পরীক্ষা চালানো হয়েছে। সেই পরীক্ষার ফলাফলে জ্বালানির গুণমান নির্ধারিত মানের মধ্যেই রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
পেট্রোলে ক্লোরাইড ১ ppm-এর মধ্যেই-
রিফাইনারি থেকে সরবরাহ করা পেট্রোলের ১০০টিরও বেশি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তেল বিপণন সংস্থাগুলির দাবি, প্রতিটি নমুনাতেই ক্লোরাইডের মাত্রা ১ ppm বা তার কম পাওয়া গিয়েছে।
পাশাপাশি, পেট্রোলে মেশানোর আগে বিভিন্ন ডিস্টিলারি থেকে আসা বিশুদ্ধ ইথানলের নমুনাও পরীক্ষা করা হয়েছে। গত ১০ দিনে দেশের ৮০টি ডিস্টিলারি থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করেছে ওএমসি(OMC) এবং সিএইচটি (CHT)-এর যৌথ টাস্ক ফোর্স। তাদের দাবি, সব নমুনাতেই ক্লোরাইডের মাত্রা ৩ ppm-এর কম পাওয়া গিয়েছে।
E20 পেট্রোলেও ৩ ppm-এর নিচে ক্লোরাইড-
ডিপো এবং টার্মিনাল থেকেও ৮০টির বেশি ইথানল ও E20 পেট্রোলের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। সেখানেও ক্লোরাইডের মাত্রা ৩ ppm-এর নিচে পাওয়া গিয়েছে। পেট্রোল পাম্পগুলিতেও শুরু হয়েছে পরীক্ষা। ১,০০০টির বেশি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তার মধ্যে এখনও পর্যন্ত ১৬০টি পরীক্ষার রিপোর্ট বিশ্লেষণ করা হয়েছে। দাবি, সেই রিপোর্টে ক্লোরাইডের মাত্রা ০ থেকে ৩ ppm-এর মধ্যে রয়েছে। অর্থাৎ, কয়েকশো ppm ক্লোরাইড থাকার যে দাবি করা হয়েছিল, পরীক্ষায় তার কোনও প্রমাণ মেলেনি।
তবে পরীক্ষায় চারটি পেট্রোল পাম্পে তুলনামূলক বেশি ক্লোরাইডের মাত্রা ধরা পড়ে। ওই পাম্পগুলির সরবরাহ সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করে দেওয়া হয়। সমস্যার উৎস খুঁজে বের করতে বিস্তারিত তদন্ত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পর সরবরাহ পুনরায় চালু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তেল বিপণন সংস্থাগুলি।
পেট্রোল পাম্পের ভূগর্ভস্থ ট্যাঙ্কেও নজরদারি
জ্বালানিতে জল ঢোকার অভিযোগের পর পেট্রোল পাম্পগুলির ভূগর্ভস্থ ট্যাঙ্কও পরীক্ষা করা হচ্ছে। প্রায় ৯০ হাজার পেট্রোল পাম্পে এই নজরদারি শুরু হয়েছে।
তেল বিপণন সংস্থাগুলির দাবি, প্রতিটি পেট্রোল পাম্পে দিনে ৮ থেকে ১২ বার জল ঢোকার সম্ভাবনা এবং জ্বালানির ঘনত্ব পরীক্ষা করা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত এই পরীক্ষায় কোনও জল ঢোকার ঘটনা ধরা পড়েনি বলে জানানো হয়েছে।
এছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় মোবাইল ফুয়েল কোয়ালিটি টেস্টিং ল্যাবরেটরি মোতায়েন করা হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফল স্বাধীনভাবে জ্বালানি পরীক্ষাগারে যাচাইও করা হচ্ছে।
E20 নিয়ে আতঙ্কের কারণ নেই-
সরকার পেট্রোলে মেশানোর জন্য ব্যবহৃত ইথানলে ক্লোরাইডের মাত্রা নিয়ে কঠোর মান নির্ধারণ করেছে। সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন ধাপে নিয়মিত পরীক্ষা চালিয়ে সেই মান বজায় রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে OMC-গুলি।
তেল বিপণন সংস্থাগুলির বক্তব্য, এখনও পর্যন্ত যে পরীক্ষাগুলি হয়েছে, তাতে E20 পেট্রোলে 500 ppm ক্লোরাইড বা বিপজ্জনক মাত্রায় জল থাকার অভিযোগের সত্যতা মেলেনি। তাই গ্রাহকদের E20 পেট্রোল নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে নির্ভয়ে ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সরবরাহ ব্যবস্থার কোনও পর্যায়ে সমস্যা ধরা পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্ধারিত মান মেনেই জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে বলে আশ্বস্ত করেছে তেল সংস্থাগুলি।
