
নয়া দিল্লি: সুপ্রিম কোর্টে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাল্টা হলফনামা জমা দিয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। আইপ্যাক অফিসে তল্লাশি চলাকালীন বলপ্রয়োগ করে ঢোকেন মমতা। বলপ্রয়োগ করেই নথি ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। পাল্টা হলফনামায় দাবি ইডি-র। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কোনও অভিযান ছিল না। রাজনীতির কোনও যোগ ছিল না। কিন্তু তদন্তের সময় কেন্দ্রীয় এজেন্সির মৌলিক অধিকার খর্ব হয়েছে, এই দাবিও জোরালভাবে করা হয়েছে ইডি-র তরফে।
৮ জানুয়ারি আইপ্যাকের অফিসে হানা দিয়েছিল ইডি। ১৫ জানুয়ারি ইডি-র বিরুদ্ধে পুলিশের দায়ের করা এফআইআরে স্থগিতাদেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। ৩ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা জমা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাতেই ইডির দাবি খারিজ করেন মমতা। সাফ জানান, তদন্ত সংক্রান্ত কোনও নথি তিনি নিয়ে আসেননি। শুধু দলের নথি নিয়ে এসেছেন। এর আগে দু’সপ্তাহ পিছিয়ে গিয়েছিল আইপ্যাক মামলার শুনানি। প্রথমে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের যে আইনজীবী ছিলেন তিনি সময় চান। পরের শুনানির সময় আবার অসুস্থ হয়ে পড়েন আইনজীবী কপিল সিব্বাল। সেবারও পিছিয়ে যায় শুনানি। তারপরই ১৮ ফেব্রুয়ারি শুনানির দিন ধার্য হয়েছিল।
এদিন আইপ্যাক মামলার শুনানিতে এজেন্সিকে ভয় দেখানোর অভিযোগও তুলেছে কেন্দ্রে। পাল্টা এজেন্সিকে হাতিয়ার হিসাবে ব্যাবহারের অভিযোগ রাজ্যের। কীভাবে একটা এজেন্সি থেকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে? প্রশ্ন তোলেন রাজ্য সরকারের আইনজীবী। পাল্টা এসভি রাজু বলেন, এটা ঠিক নয়। এজেন্সিকে ভয় দেখানো হচ্ছে। এরইমধ্যে সলিসিটর জেনারেল আবেদন জানালেন, হোলির পর মামলা শুনানি করা হোক। শেষ পর্যন্ত ১৮ মার্চ পরবর্তী শুনানি দিন ধার্য হয়েছে। সূত্রের খবর, রাজ্যের হলফনামার প্রেক্ষিতে Rejoinder ফাইল করতে চান সলিসিটর জেনারেল।
তৃণমূল কংগ্রেস মুখপাত্র তন্ময় ঘোষ বলছেন, “এই কথা আগের দিন শুনানিতে কেন তাঁরা বলতে পারেননি? ঘটনার পর বিভিন্ন দাবি-দাওয়া হয়েছিল। তার আগে বিজেপির তরফে বিবৃতি দেওয়া হয়েছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো হলফনামা দিয়ে আগেই যা জাননোর জানিয়ে দিয়েছিলেন। ওরা আগে কেন বিরোধিতা করতে পারেনি?”