
নয় মাস কেটে গিয়েছে কৃষক আন্দোলনের। এখনও কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতেই অনড় আন্দোলনকারী কৃষকরা। সেই মর্মেই সোমবার সারা দেশ জুড়ে বনধের (Bharat Bandh) ডাক দিয়েছে সংযুক্ত কিসান মোর্চা (Samyukta Kisan Morcha)।
এ দিন ভোর ৬টা থেকে বিকেল ৪টে অবধি বনধ জারি থাকবে। এই সময়ে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের স্কুল, অফিস, বাজার, কারখানা সহ সমস্ত প্রতিষ্ঠানই বন্ধ রাখা হবে। সরকারি ও বেসরকারি যানবাহনও চলতে দেওয়া হবে না। কোনও অনুষ্ঠানও করতে দেওয়া হবে না। তবে জরুরি পরিষেবা যেমন অ্যাম্বুলেন্স, দমকল ইত্যাদিতে ছাড় দেওয়া হবে, এমনটাই জানিয়েছে কৃষকরা। বনধ সংক্রান্ত যাবতীয় আপডেট দেখে নিন একনজরে-
ভারত বনধ উপলক্ষে বিশেষভাবে কড়া নিরাপত্তার মোড়কে মুড়ে রাখা হয় দিল্লির গাজিপুর সীমানাকে। যেখানে গত কয়েকমাস ধরে কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলন চালাচ্ছেন কৃষকেরা। সেই গাজিপুর সীমানার রাস্তার উপর বসে এ দিনও বিক্ষোভ দেখান কৃষক নেতারা। বনধের প্রভাবে দিল্লিতে প্রবেশ পথে রাস্তার উপর কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ ট্রাফিক জ্যামও দেখা যায়।
প্রত্যাশিতভাবেই পঞ্জাবের একাধিক অংশে ভারত বনধের ভালোই প্রভাব টের পাওয়া গিয়েছে। এ দিন পাটিয়ালায় ভারতী কিষাণ ইউনিয়নের মহিলা সদস্যরা রেল অবরোধ করেন। মহিলাদের অবরোধে দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকে দিল্লি- শ্রী গঙ্গানজর ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস।
ব্যাঙ্কের ভিতরে বনধ সমর্থনকারীরা
কিষান মোর্চার ডাকে আজ ভারত জুড়ে বনধ। সেই বনধ কার্যকরী করতে মিছিল বনধ সমর্থনকারীদের। শিলিগুড়িতে ব্যাঙ্কের ভিতর ঢুকে পড়েন সিপিএম নেতা কর্মীরা। সঙ্গে চলে পিকেটিং। বন্ধ করানো হচ্ছে দোকানপাট।
বনধ সমর্থনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধল পুলিশের। তামিলনাড়ুর চেন্নাইয়ের আন্না সালাই এলাকায় বনধ সমর্থকরা পুলিশি ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা করে। এরপরই পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়।
সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার ডাকা ভারত বন্ধে কোনও প্রভাবই পড়ল না আরামবাগে। সকালে বনধ সমর্থনকারীরা আরামবাগের বিভিন্ন এলাকায় পথ অবরোধ করেন। সরকারি গাড়ি আটকানোর চেষ্টা হয়। কয়েক ঘন্টা পথ অবরোধ চলার পর বনধ সমর্থকরা রাস্তা থেকে কার্যত উধাও হয়ে যায়। তারপরই দোকানপাট হাট বাজার সমস্ত কিছুই স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসে। এই মুহূর্তে যান চলাচল স্বাভাবিক। যদিও বামনেতারা দাবি করেন, তাদের বনধ সমার্থক হয়েছে। অভিযোগ, পুলিশ ও তৃণমূল যৌথভাবে বনধের বাধা সৃষ্টি করেছে।
ভারত বনধের প্রভাব সবথেকে বেশি পড়ছে রাজধানীতেই। গুরুগ্রাম-দিল্লি সীমানায় দেখা গেল দেড় কিলোমিটার জুড়ে ব্যাপক যানজট। নাশকতার আশঙ্কায় দিল্লি পুলিশ ও প্য়ারামিলিটারি জওয়ানরা গাড়ি চেকিং করায় এই যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
ভারত বনধের সমর্থনে সল্টলেক করুণাময়ী মোড়ে বামপন্থীদের পক্ষ থেকে অবরোধ কর্মসূচি চলাকালীনই পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। অবরোধে বাধা দিতেই পুলিশের সঙ্গে বচসা শুরু হয়,পরে তা হাতাহাতিতে পৌঁছয়। বিধাননগর এরিয়া কমিটি-২ এর সম্পাদক দেবাশিস সিনহা ও সদস্য শাশ্বতী মণ্ডলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
কৃষি আইনের ১০ মাস পূর্তি ও আইন প্রত্যাহারের দাবিতে কৃষকরা আজ ভারত বনধের ডাক দিয়েছে। সকাল থেকেই বিভিন্ন রাজ্য়জুড়ে তার প্রভাব দেখা যাচ্ছে। সকাল ১১টায় দিল্লির যন্তর মন্তরে বিভিন্ন রাজ্য থেকে কৃষক সংগঠনের নেতারাও জড়ো হবেন। এই আন্দোলন কর্মসূচিতে সীতারাম ইয়েচুরি, বৃন্দা কারাত ও হান্নান মোল্লার মতো সিপিআইএম নেতৃত্বরাও যোগ দেবেন বলে জানা গিয়েছে।
তিন কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে কৃষকদের ডাকা ভারত বনধে সমর্থন জানাল কর্নাটকের একাধিক সংগঠন। কালাবুর্গি সেন্ট্রাল বাস স্ট্যান্ডের সামনে শুরু হয়েছে বিক্ষোভ কর্মসূচিও।
বাম সংগঠনগুলির তরফে আগেই জানানো হয়েছিল, তারা ভারত বনধে পূর্ণ সমর্থন করবেন। এ দিন ভোর ৬টা থেকে বনধ শুরু হতেই বিজয়ওয়াড়া বাস স্ট্যান্ডের সামনে কৃষি আইনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করল বাম কর্মী-সমর্থকরা।
কৃষকদের ডাকে ভারত বনধের জেরে বন্ধ করা হল পঞ্জাব-হরিয়ানার শম্ভু সীমানাও। আজ বিকেল ৪টে অবধি এই সীমানা বন্ধ রাখা হবে বলেই জানানো হয়েছে আন্দোলনকারী কৃষকদের তরফে।
কৃষি আইনের প্রতিবাদে গাজিপুর সীমান্তে বিশাল সমাবেশ কৃষকদের। ভারত বনধের জেরে ও অশান্তির আশঙ্কায় উত্তর প্রদেশ থেকে গাজিপুরগামী সমস্ত যানপরিবহন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
কৃষকদের ডাকে ভারত বনধের প্রভাব পড়েছে দিল্লি-হরিয়ানাতেও। হরিয়ানার কুরুক্ষেত্রে আন্দোলনকারীরা দিল্লি-অমৃতসর জাতীয় সড়ক বন্ধ করে দেয়।
সকাল থেকেই আলিপুরদুয়ারে বোঝা যাচ্ছে বনধের প্রভাব। সকালে সরকারি বাস চালু হলেও, তা বন্ধ করে দেয় বনধ সমর্থনকারীরা। যদিও পুলিশ গিয়ে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহনের বাসগুলি চালানোর চেষ্টা করে, কিন্তু বনধ সমর্থনকারীদের বিক্ষোভের জেরে এখনও অবধি কোনও বাস চলেনি। বেসরকারি যানবাহন চলাচলও সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে প্রচুর পুলিশ। এখনও পর্যন্ত কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর নেই। বনধ সমর্থন করলেও কোন কংগ্রেস কর্মীর দেখা মেলেনি এখনও।
সংযুক্ত কিসান মোর্চার ডাকা বনধের সমর্থনে সাত সকালেই লাগাতার আন্দোলনে নেমেছেন বাম কর্মীরা। এদিন সকালেই গোঘাটে আরামবাগ-মেদিনীপুর রাজ্য সড়ক ও আরামবাগ শহরে আরামবাগ-কলকাতা রাজ্য সড়কে অবরোধে বসেন বাম নেতা ও কর্মীরা।অবরোধ চললেও এখনও খুব একটা প্রভাব পড়েনি আরামবাগ ও তৎসংলগ্ন এলাকাগুলিতে। দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থার আরামবাগ ডিপো থেকেও বাস বের হতে দেওয়া হচ্ছে না।
সকাল থেকেই টের পাওয়া যাচ্ছে বনধের প্রভাব। কৃষকদের ডাকা ভারত বনধে সমর্থনের কথা আগেই জানিয়েছিল বাম সংগঠন।আজ সকালেই ঘাটাল পাঁশকুড়া রাজ্য সড়কে মিছিল করে যাতায়াত গাড়ি গুলিকে আটকে দিল বাম সংগঠনের কর্মী-সমর্থকরা।
যদিও এদিন ঘাটাল মহকুমা জুড়ে বাজার-হাট, দোকান খোলার ক্ষেত্রে বনধের বিশেষ প্রভাব লক্ষ্য করা যায়নি।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ট্রেড ইউনিয়ন, কৃষক সংগঠন, শিক্ষক ও ছাত্র সংগঠন সহ প্রায় ১০০ টি সংগঠন মিলে ভারত বনধে সমর্থন জানাবেন।