সিগন্যাল থেকে ফুল বিক্রেতা কিশোরীকে তুলে নিয়ে গিয়ে ‘ধর্ষণ’, জঙ্গলে ফেলে গিয়েছিল মৃত ভেবে! সরব অভিষেক

Delhi Physical Assault Case: পুলিশ জানিয়েছে, নির্যাতিতা গভীর মানসিক ধাক্কার মধ্যে রয়েছে। স্পষ্টভাবে এখনও সবকিছু বলতে পারছে না। শেষ যেখানে তাঁকে দেখা গিয়েছিল, সেই চত্বরে ১৫টি রুটে ৩০০-রও বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা খতিয়ে দেখে অভিযুক্তকে চিহ্নিত করা হয়।

সিগন্যাল থেকে ফুল বিক্রেতা কিশোরীকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ, জঙ্গলে ফেলে গিয়েছিল মৃত ভেবে! সরব অভিষেক
প্রতীকী চিত্র।Image Credit source: X

|

Jan 23, 2026 | 9:39 AM

নয়া দিল্লি: রাজধানীর বুকে আবারও এক নৃশংস ঘটনা। ধর্ষণ, পাশবিক অত্যাচারের শিকার ১১ বছরের কিশোরী।  ওই কিশোরী রাস্তায় ট্রাফিক সিগন্যালে গোলাপ ফুল বিক্রি করত। অভিযোগ, কিশোরীকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয়। এরপর অচৈতন্য অবস্থায় জঙ্গল এলাকায় ফেলে আসা হয় তাঁকে। ইতিমধ্যেই সিসিটিভি ফুটেজ দেখে এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দিল্লির বুকে এই ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে গর্জে উঠেছেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। বিজেপি সরকারকে দুষে ‘ধর্ষণের রাজধানী’ বলেছেন তিনি।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১১ জানুয়ারি দিল্লির প্রসাদ নগর এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে। ওই কিশোরী প্রতিদিনের মতোই ট্রাফিক সিগন্যালে দাঁড়িয়ে ফুল বিক্রি করছিল। ওই সময়েই একটি ই-রিক্সা এসে দাঁড়ায়, যাত্রী নামাচ্ছিল। অভিযুক্ত ওই রিক্সাচালকই।

নির্যাতিতার বয়ান নেওয়া এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, “ওই কিশোরী যখন তাঁর (ই-রিক্সা চালক) কাছে গোলাপ বিক্রি করতে গিয়েছিল, তখন অভিযুক্ত তাঁকে বলে যে তাঁর রিক্সায় বসতে। এমন একটা জায়গায় নিয়ে যাবে, যেখানে সব ফুল বিক্রি হয়ে যাবে। নির্যাতিতা তাঁর কথায় ভরসা করে রিক্সায় ওঠে। এরপর অভিযুক্ত একটি জঙ্গল এলাকায় নিয়ে যায় কিশোরীকে এবং পাশবিক অত্যাচার করে। কিশোরী সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েছিল শারীরিক অত্যাচারে। তবে অভিযুক্ত ভেবেছিল, কিশোরীর হয়তো মৃত্যু হয়েছে। তাই ওখানেই তাঁকে ফেলে পালিয়ে যায়।”

পরে সংজ্ঞা ফিরলে কোনওমতে নির্যাতিতা তাঁর পরিবারের কাছে পৌঁছয়। তাঁর শারীরিক অবস্থা দেখেই সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে যায় পরিবার। খবর দেওয়া হয় পুলিশে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার অধীনে অপহরণ, ধর্ষণ এবং পকসো আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, নির্যাতিতা গভীর মানসিক ধাক্কার মধ্যে রয়েছে। স্পষ্টভাবে এখনও সবকিছু বলতে পারছে না। শেষ যেখানে তাঁকে দেখা গিয়েছিল, সেই চত্বরে ১৫টি রুটে ৩০০-রও বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা খতিয়ে দেখে অভিযুক্তকে চিহ্নিত করা হয়। জেরায় অভিযুক্ত জানিয়েছে, সে আগেও ওই কিশোরীকে একাধিকবার ট্রাফিক সিগন্যালে ফুল বিক্রি করতে দেখেছিল। সেখান থেকেই অপহরণ ও ধর্ষণের ছক কষে।

এদিকে, দিল্লির এই ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করেছেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। তিনি লিখেছেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বাংলায় এসে পরিবর্তনের কথা বলেন। বিজেপি শাসিত রাজ্য থেকে পরিবর্তন শুরু হওয়া উচিত। যে সরকার মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না, পরিষ্কার জল ও বায়ু দিতে পারে না, প্রাণঘাতী বিস্ফোরণ হামলা রুখতে পারে না, তাদের কোনও অধিকার নেই বাংলায় এসে ভোট চাওয়ার।”