
নয়াদিল্লি : সংসদে রাহুল গান্ধীর আচরণ নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। দিন কয়েক আগেই রাহুলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন অমিত শাহ। এবার সংসদে রাহুল গান্ধীর আচরণের নিন্দা জানিয়ে জনগণদের উদ্দেশে চিঠি লিখলেন প্রাক্তন সেনা কর্তা থেকে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিরা। তাঁদের অভিযোগ, স্পিকারের নির্দেশকে অমান্য করেছেন রাহুল গান্ধী। সাংসদের বিরুদ্ধে অসংসদীয় আচরণের অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা।
জানা গিয়েছে, জনগণদের উদ্দেশে চিঠি লিখেছেন প্রায় ২০৪ জন প্রাক্তন সেনাকর্তা, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এবং ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মী । জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন ডিজিপি এসপি বৈদ বিষয়টিকে গুরুতর বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, এই ঘটনা ভারতের সর্বোচ্চ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের মর্যাদার প্রতি একটা চ্যালেঞ্জ।
চিঠিতে কী বলা হয়েছে?
চিঠিতে অভিযোগ তোলা হয়েছে, ১২ মার্চ বিরোধী দলের সাংসদরা বিশেষ করে রাহুল গান্ধী সংসদ চত্বরে স্পিকারের নির্দেশ অমান্য করেছেন। তাঁরা সংসদের সিঁড়িতে বসে চা ও বিস্কুট খেয়েছিলেন। যা অসংসদীয় আচরণ বলে চিঠিতে উল্লেখ করেছেন তাঁরা। এসপি বৈদ বলেন, “শুধুমাত্র নিয়ম লঙ্ঘনই করেননি। বরং গণতন্ত্রের মন্দিরের প্রতি ঔদ্ধত্যকে প্রকাশ করেছেন। চিঠিতে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, এই ধরনের কাজ সংসদীয় আলোচনাকে ব্যাহত করেছে। একইসঙ্গে জনগণের মূল্যবান সময় নষ্ট করেছে এবং গণতন্ত্রের সুনাম ক্ষুণ্ণ করেছে।
রাহুলের আত্মসমালোচনা করা উচিত
চিঠিতে প্রাক্তন সেনাকর্তা ও বিচারপতিরা জানিয়েছেন, এই আচরণের জন্য রাহুল গান্ধীর জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। আত্মসমালোচনা করা উচিত। যাতে সংসদের মর্যাদা, কর্তৃত্ব এবং প্রাতিষ্ঠানিক পবিত্রতা রক্ষা পায়।
চিঠিতে জনগণদের সতর্ক করা হয়েছে, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি এ ধরনের অসম্মান শুধু সংসদের বিশ্বাসযোগ্যতাকেই ক্ষুণ্ণ করে না, বরং গণতান্ত্রিক জীবনের ভিত্তিকেও নাড়িয়ে দিতে পারে। চিঠিতে এসপি বৈদ্য জনগণকে এ ধরনের আচরণের নিন্দা জানাতে এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে রক্ষা ও সম্মান করার জন্য সতর্ক থাকতে আবেদন জানিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, দিন কয়েক আগেই রাহুলকে আক্রমণ করে অমিত শাহ বলেন,”মাঝে মধ্যেই সংসদের দরজার সামনে বসে চা- পাকোড়া খান রাহুল। তিনি কি জানেন না যে প্রাতঃরাশ করার উপযুক্ত স্থান কোনটি? সংসদ আমাদের গণতন্ত্রের সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান। এমনকী সেখানে বসে প্রতিবাদ করাও কোনও গণতান্ত্রিক অনুশীলন নয়। কিন্তু রাহুল আরও দু’পা এগিয়ে গিয়েছেন।”