
শ্রীনগর: ফের জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদী হামলা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গুলমার্গ জেলার বুটাপাথরির কাছে সেনার এক গাড়িতে অতর্কিত হামলা হয়। এই ঘটনায় দুই সেনা জওয়ান-সহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও চারজন আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। সেনা আধিকারিকরা জানিয়েছেন, গুলমার্গের নাগিন পোস্টের কাছে বুটাপাথরি এলাকায় সেনা গাড়িটি লক্ষ্য করে অতর্কিতে গুলি চালাতে শুরু করেছিল সন্ত্রাসবাদীরা। এলাকাটি গুলমার্গ স্কি-রিসর্ট থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে এবং নিয়ন্ত্রণরেখার খুব কাছে অবস্থিত। এখানে অনুমতি ছাড়া অসামরিক ব্যক্তিদের চলাচল করতে দেওয়া হয় না। এলাকাটি জঙ্গিমুক্ত বলেই পরিচিত এবং প্রকৃতিপ্রেমীদের অত্যন্ত পছন্দের। এক সূত্রের দাবি, সম্ভবত ওই সন্ত্রাসবাদীরা ভারতীয় ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছিল।
আক্রান্ত গাড়িটি ১৮ নম্বর রাষ্ট্রীয় রাইফেলসের ছিল বলে জানা গিয়েছে। সেটি বুটাপাথরিতেই আসছিল। গাড়িটি একটি সেনা কনভয়ের অংশ ছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর চিনার কর্পস বলেছে, “বারামুলার বুটাপাথরির সাধারণ এলাকায় ভারতীয় সেনা এবং সন্ত্রাসবাদীদের মধ্যে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য গুলি বিনিময় হয়েছে।” প্রাথমিকভাবে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ বলেছিল, এই ঘটনায় এক অসামরিক মালবাহকের মৃত্যু হয়েছে এবং পাঁচ সেনা সদস্য আহত হয়েছেন। পরে, আহত সেনা সদস্যদের মধ্যে দুইজনের মৃত্যু হয় এবং আরও এক অসামরিক মালবাহকের মৃত্যু হয়। এক সন্ত্রাসবাদীও এই ঘটনায় আহত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এক পুলিশ কর্তা বলেছেন, “এলাকাটি ঘিরে ফেলা হয়েছে এবং জঙ্গিরা যাতে ঘন জঙ্গলের মধ্যে পালাতে না পারে, তার জন্য ওই এলাকায় বিশাল বাহিনী পাঠানো হয়েছে।”
Exchange of Fire.
এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগেই দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলার ত্রাল এলাকায় একজন পরিযায়ী শ্রমিককে গুলি করেছিল সন্ত্রাসবাদীরা। প্রীতম সিং নামে উত্তর প্রদেশের ওই বাসিন্দা গুরুতর আহত হন। চার দিন আগেই আবার শ্রীনগর-লেহ জাতীয় মহাসড়কের ধারে, মধ্য কাশ্মীরের গন্দেরবাল জেলার গগনগীর এলাকায় নির্মাণকর্মীদের শিবিরে সন্ত্রাসবাদী হামলা হয়েছিল। ওই ঘটনায় ছয় নির্মাণকর্মী এবং একজন চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘচটনাগুলির রেশ কাটতে না কাটতেই এদিনের হামলা হল।