AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Rahul Gandhi: ‘আমরা সব ফাঁস করব’, জ্ঞানেশকে নিশানা রাহুলের

Rahul Gandhi Vote Chori: ককরোচ জনতা পার্টির মতো রাহুল গান্ধীও অবিলম্বে জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবি করেন।  তিনি বলেন যে নতুন করে এই দাবি তুলছেন না। বিগত তিন বছর ধরে এই ইস্যু নিয়ে তিনি সরব। কোনও কল্পনা নয়, তথ্য প্রমাণ নিয়ে তিনি এই দাবিগুলি করছেন।

Rahul Gandhi: 'আমরা সব ফাঁস করব', জ্ঞানেশকে নিশানা রাহুলের
বিস্ফোরক অভিযোগ কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীর।Image Credit: PTI
| Updated on: Sep 24, 2026 | 8:07 PM
Share

নয়া দিল্লি: নির্বাচন কমিশন বিতর্কে সরগরম দেশ। ৪৮ ঘণ্টার মধ্য়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবি করেছে ককরোচ জনতা পার্টি। এবার সেই দাবি তুললেন কংগ্রেস সাংসদ তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। বললেন, কংগ্রেস চুপ থাকবে না। দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে দেবে না।

ভোট চুরির পর কানুন চুরি!

এ দিন নয়া দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে রাহুল গান্ধী বলেন, “ভোট চুরির পর এল কানুন চুরি। আজ ভোট নেই, আইন তৈরির ব্যবস্থাও নষ্ট হয়ে গিয়েছে। যদি ভোট চুরি হয়, তার মানে ভোট পেয়ে দেশের নির্বাচিত সাংসদদের তৈরি করা আইনও বেআইনি।”

জ্ঞানেশ কুমারকেই এই সবের জন্য দায়ী করেন রাহুল গান্ধী। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “আমাদের দেশের ভিত হল ভোট। আমাদের ভোটই নষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে। এটা শুধু ভোটের উপরে আক্রমণ নয়, দেশের প্রতিটি নাগরিকের ভাবনাচিন্তা-মতের উপরে আক্রমণ।”

ভোট চুরিকে দেশের বিরুদ্ধে বড় চক্রান্ত বলে উল্লেখ করেন রাহুল গান্ধী। এরপর এই চক্রান্তের প্রধান চক্রী হিসাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের ছবি দেখান। একাধিক সাংবাদিক ও পরিচালকদের ছবিও দেখান, যাদের ‘কাঠের পুতুল’ হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে রাহুল দাবি করেন।

‘দেশদ্রোহী’ জ্ঞানেশ? 

জ্ঞানেশ কুমারকে সরাসরি ‘দেশদ্রোহী’ বলে আক্রমণ করেন কংগ্রেস সাংসদ। একটু থেমে বলেন, “কারণ এটাই বাস্তব সত্য। যে ব্যক্তি ভোটের অধিকারকে আঘাত করে, ভারতের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে ভিতর থেকে ধ্বংস করে দেয়, তাকে বিশ্বাসঘাতক ছাড়া আর কী-ই বা বলা যায়? তাঁকে অন্য কোনও নামে ডাকার সুযোগ নেই। এটাই সঠিক শব্দ”।

ককরোচ জনতা পার্টির মতো রাহুল গান্ধীও অবিলম্বে জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবি করেন।  তিনি বলেন যে নতুন করে এই দাবি তুলছেন না। বিগত তিন বছর ধরে এই ইস্যু নিয়ে তিনি সরব। কোনও কল্পনা নয়, তথ্য প্রমাণ নিয়ে তিনি এই দাবিগুলি করছেন। উদাহরণ দিতে উল্লেখ করেন যে তাঁর টিম ৬ মাস ধরে প্রত্য়েকটা কেন্দ্রের তথ্য সংগ্রহ করেছে, যেখানে যেখানে ভোট চুরির অভিযোগ উঠেছে।

রাহুল গান্ধী বলেন, “নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব ভোটারদের অধিকার রক্ষা করার। যদি ভোট নষ্ট করে দেওয়া হয়, তাহলে সংবিধান কাজ করছে না।  ১০০ শতাংশ নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্য রয়েছে যে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন এবং তারপরে বিধানসভা নির্বাচনগুলিতে চুরি হয়েছে।”

প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়ায় বদল?

রাহুল গান্ধী প্রশ্ন তোলেন, কংগ্রেস এবং আঞ্চলিক দলগুলিকে যে প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়ায় (anti-incumbency) বারবার ভোটে সমস্যায় পড়েছে, পরাজিত হয়েছে, সাম্প্রতিক নির্বাচনে সেই প্রবণতা কেন যেন দেখা যাচ্ছে না?

উদাহরণ হিসাবে তিনি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর কথা উল্লেখ করেন। ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ যুদ্ধের পর ইন্দিরা গান্ধীর জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে বেড়েছিল। কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যেই তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়া জোরালো হয়ে ওঠে। সেই প্রসঙ্গ টেনেই রাহুল প্রশ্ন করেন, “একই ঘটনা একের পর এক নেতার ক্ষেত্রে ঘটেছে। কংগ্রেস নেতাদের ক্ষেত্রে হয়েছে, আঞ্চলিক দলগুলির নেতাদের ক্ষেত্রেও হয়েছে। কিন্তু কোনও এক কারণে সেটা নরেন্দ্র মোদীর ক্ষেত্রে কখনও হচ্ছে না। অমিত শাহের ক্ষেত্রে হচ্ছে না? বিজেপির ক্ষেত্রেও হচ্ছে না?”

হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র, উত্তর প্রদেশ, মধ্য প্রদেশ এবং গুজরাটের নির্বাচনের ফলাফলে ভোটের গ্রাফ তুলে ধরে রাহুল গান্ধী দাবি করেন, প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়ার প্রচলিত ধরণ বদলে গিয়েছে। তিনি বলেন, “কেন এমন হচ্ছে, তা বোঝার চেষ্টা করছে কংগ্রেস।” তাঁর দাবি,  এর উত্তর লুকিয়ে রয়েছে নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে কিছু সমস্যার মধ্যে।

তিনি বলেন, “ভোটই আমাদের দেশের ভিত্তি। ভোটের মাধ্যমেই সংবিধান শক্তি পায়। সংবিধানের ভিত্তিতেই আইন তৈরি হয় এবং সেই আইন থেকেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। যদি ভোটের ভিত্তিটাই ধ্বংস করে দেওয়া হয়, তাহলে আমাদের সংবিধানও ধ্বংস হয়ে যায়। তখন তার আর কোনও ক্ষমতা থাকে না। সেটি আর ঠিকভাবে কাজ করে না। ভোট সুরক্ষার দায়িত্ব পালনে নির্বাচন কমিশন ব্যর্থ হয়েছে।”

নির্বাচন আধিকারিকদের প্রসঙ্গও তোলেন রাহুল। পাশাপাশি জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধেও প্রশ্ন উঠেছে বলে দাবি করেন গান্ধী। তাঁর অভিযোগ, এর আগে তিনি এই কথা জানিয়েছিলেন, কিন্তু তা গুরুত্ব দিয়ে শোনা হয়নি।

Follow Us