
শ্রীনগর: কলকাতায় খুব গরম বলে, কাশ্মীরে বেড়াতে যাবেন বলে ভাবছেন? পরিকল্পনা বাতিল করুন এখুনি। না-হলে, পস্তাতে হবে। কারণ, কাশ্মীরে এখন চলছে তীব্র তাপপ্রবাহ। বৃহস্পতিবার কাশ্মীরের রাজধানী শ্রীনগরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা কত ছিল জানেন? ৩৫.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পাশাপাশি, কলকাতার তাপমাত্রা কত ছিল? ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মুম্বইয়ের তাপমাত্রা ছিল ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, দিল্লির ৩১.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বেঙ্গালুরুর ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অর্থাৎ, ভারতের চার মেট্রো শহরের থেকেও গরম বেশি ছিল জম্মু ও কাশ্মীরে।
কাশ্মীরের প্রশাসনিক কর্তারা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার শ্রীনগরের তাপমাত্রা ছিল স্বাভাবিকের থেকে ছয় ডিগ্রি বেশি। গত ২৫ বছরে, জুলাই মাসে শ্রীনগরের এত গরম পড়েনি। ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যাচ্ছে, এর আগে ১৯৯৯ সালের জুলাই মাসে, শ্রীনগরের তাপমাত্রা পৌঁছেছিল ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এবার এখনও সেই মাত্রা ছুঁতে না পারলেও, গরমে ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা কাশ্মীরিদের। শুধু শ্রীনগর শহর তো নয়, গরমে পুড়ছে কাশ্মীর উপত্যকার অন্যান্য অংশও। কাজিগুন্ডে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, কুপওয়ারায় ৩৫.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আসলে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই উপত্যকার তাপমাত্রা ক্রমে বাড়ছে। পুড়ে যাওয়া তাপের প্রভাবে অনেক এলাকায় জলের ঘাটতিও দেখা দিয়েছে। এই তাপপ্রবাহের মোকাবিলায়, বিশেষ নির্দেশিকা জারি করেছে জম্মু ও কাশ্মীর স্বাস্থ্য বিভাগ। ইতিমধ্যেই স্কুল শিক্ষা বিভাগ, ৮ জুলাই থেকে উপত্যকার সমস্ত স্কুলের জন্য ১০ দিনের গরমের ছুটি ঘোষণা করেছে। গরম এতটাই বেশি যে, উপত্যকার মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না বললেই চলে। এমনকি, তাপপ্রবাহের দাপটে, রাজৌরি জেলায় বনাঞ্চলে দেখা দিয়েছে দাবানলও।
তবে আজ, অর্থাৎ শুক্রবার (৫ জুলাই), এই ভয়ানক তাপের হাত থেকে কিছুটা রেহাই পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উপত্যকার কিছু কিছু জায়গায়, হালকা থেকে মাঝারি মাপের বৃষ্টি এবং কোথাও কোথাও বজ্রগর্ভ মেঘ-সহ বৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। শনিবারও একই রকম আবহাওয়া বজায় থাকতে পারে। রবিবারও হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে, ৮ থেকে ১০ জুলাই উপত্যকায় তীব্র গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।