AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

High Court: ‘মেয়েকে শুধুই মানিয়ে নিতে বলবেন না’, বিয়ে টিকিয়ে রাখার থেকে যে নিরাপত্তা বড়, বোঝাল হাইকোর্ট

২০১৬ সালে ওই দম্পতির বিয়ে হয়। দু বছর পর শ্বশুরবাড়ির ছাদ থেকে পড়ে ওই মহিলার মৃত্যু হয়। এরপরই আত্মহত্যায় প্ররোচণার অভিযোগ ওঠে। নিম্ন আদালত স্বামী ও তাঁর বাবা-মাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছিল। তবে স্বামীর বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে চার্জ গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়।

High Court: 'মেয়েকে শুধুই মানিয়ে নিতে বলবেন না', বিয়ে টিকিয়ে রাখার থেকে যে নিরাপত্তা বড়, বোঝাল হাইকোর্ট
প্রতীকী ছবিImage Credit: TV9 Bangla
| Updated on: Nov 05, 2026 | 7:44 PM
Share

নয়া দিল্লি: বিয়ে মানেই মানিয়ে নেওয়া! এ কথা শুনতে শুনতে বড় হয় অনেকেই। বিয়ের পর লোকলজ্জার ভয়ে সমস্যার কথা গোপন রাখা, মুখ বুজে সব সহ্য করে নেওয়ার ‘প্র্যাকটিস’ ভারতের মতো দেশে অভিনব কিছু নয়। অনেক ক্ষেত্রেই দাম্পত্য সমস্যা এমন সময় সামনে আসে, যখন সমাধানটাও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এই পরিস্থিতি নিয়েই এবার স্পষ্ট বার্তা দিল দিল্লি হাইকোর্ট।

বিয়ে বাঁচানোর থেকে মেয়ের নিরাপত্তা যে বেশি জরুরি, এ কথা বুঝিয়ে দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। এক গৃহবধূর মৃত্যুর মামলায় আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছে, “কোনও মহিলা যখন তাঁর বিবাহিত জীবনের সমস্যার কথা বলেন, তখন তাঁকে মানিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া উচিত নয়।” সামাজিক লজ্জার ভয়ে তাঁকে নিরাপদ আশ্রয় থেকে বঞ্চিত করাও উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিচারপতি।

কী সেই মামলা

বিচারপতি মধু জৈনের বেঞ্চে ছিল মামলার শুনানি। এক গৃহবধূর মৃত্যুর পর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে অত্যাচার ও আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পণের দাবিতে অত্যাচার করা হত বলে অভিযোগ ওঠে। গঠনের নির্দেশ খারিজ করে এবং তার অব্যাহতি বহাল রেখে আদালত এই মন্তব্য করেন।

২০১৬ সালে ওই দম্পতির বিয়ে হয়। দু বছর পর শ্বশুরবাড়ির ছাদ থেকে পড়ে ওই মহিলার মৃত্যু হয়। এরপরই আত্মহত্যায় প্ররোচণার অভিযোগ ওঠে। নিম্ন আদালত স্বামী ও তাঁর বাবা-মাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছিল। তবে স্বামীর বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে চার্জ গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়। স্বামী এই চার্জ গঠনের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাইকোর্টে যান। অন্যদিকে, মৃত গৃহবধূর মা অভিযুক্তদের অব্যাহতির বিরোধিতা করে আদালতে যান। সেই দুটি আবেদনের শুনানি ছিল হাইকোর্টে।

‘মানিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেবেন না’

দিল্লি হাইকোর্ট স্বামীর অব্যাহতির নির্দেশ বহাল রেখেছে। তবে আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছে, “কোনও মহিলা যখন তাঁর বৈবাহিক জীবনের অত্যাচারের কথা বলে, তখন তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে সময়মতো সাহায্য করা অত্যন্ত জরুরি। মানিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে বিষয়টাকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। লোকলজ্জার ভয়ে তাঁকে নিরাপদ আশ্রয় থেকে বঞ্চিত করাও উচিৎ নয়।”

একটি বিয়ে টিকিয়ে রাখার থেকে মেয়ের নিরাপত্তা যে বেশি বড়, সে কথা বুঝিয়ে দিয়েছে আদালত। আবার, শুধুমাত্র স্বামীর আত্মীয় বলে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের বিরুদ্ধে যে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত নয়, সে কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

এই মামলায় বন্ধুকে পাঠানো শেষ বার্তায় গৃহবধূ স্বামীর নাম উল্লেখ করেছিলেন। তবে, আদালত মনে করে যে, এই প্রমাণগুলো কিছুটা সন্দেহ তৈরি করলেও তা গুরুতর সন্দেহের পর্যায়ে পৌঁছয় না। তাই আদালত স্বামীর বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের নির্দেশ বাতিল করেছে।

Follow Us