Honeymoon Murder: বছর ঘুরতে না ঘুরতেই আবার হানিমুন মার্ডার! ওয়েটার প্রেমিকের জন্য যুবতী যা ভয়ঙ্কর কাজ করল, শিউরে উঠবেন…

Rajasthan: অঞ্জলি আর আশীষ হাঁটতে বেরিয়েছিল। সঙ্গে আশীষের খুড়তুতো ভাই অঙ্কিত ও তাঁর স্ত্রীও ছিল। তাদের বাড়ি ছাড়ার পর অন্য একটি রাস্তা দিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল আশীষ ও অঞ্জলি। তবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে গেলেও, বাড়ি ফেরেনি তারা।

Honeymoon Murder: বছর ঘুরতে না ঘুরতেই আবার হানিমুন মার্ডার! ওয়েটার প্রেমিকের জন্য যুবতী যা ভয়ঙ্কর কাজ করল, শিউরে উঠবেন...
অঞ্জলি ও আশীষ। Image Credit source: X

|

Feb 07, 2026 | 9:43 AM

জয়পুর: এক বছর কাটতে না কাটতেই আবার হানিমুন মার্ডার। গত বছর গোটা দেশ দেখেছিল মেঘালয়ে হানিমুন মার্ডার। সোনম রঘুবংশী কীভাবে প্রেমিকের সঙ্গে পরিকল্পনা করে স্বামী রাজা রঘুবংশীকে খুন করেছিল। এবারও বছর ঘুরতে না ঘুরতেই আরেক হানিমুনে খুন বর! এবার রাজস্থান।

পারিবারিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। দুই পরিবারের মধ্যে তিন সদস্যের বিয়েও হয়েছে। সেখানেই শেষ বিয়ের মর্মান্তিক পরিণতি হল। যুবতী নিজের স্বামীকেই হানিমুনে নিয়ে গিয়ে খুন করাল। প্রমাণ করার চেষ্টা করেছিল, এটা দুর্ঘটনা। এই সবই করেছিল প্রেমিক ও তাঁর বন্ধুদের মদতে।

শ্রী গঙ্গানগরের বাসিন্দা অঞ্জলি (২৩)। তিন মাস আগে তাঁর সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল ১-কেএলএম গ্রামের আশীষের (২৭) সঙ্গে। আশীষ বি.এড করছিল। অন্যদিকে অঞ্জলি এম.কম করছিল। আশীষকে দত্তক নিয়েছিল তাঁর কাকা-কাকি। তাদের কাছেই বড় হয়েছিল। পারিবারিক সম্পর্ক থাকার কারণেই আশীষের সঙ্গে বিয়ে ঠিক করা হয়েছিল অঞ্জলির। বিয়ে হয়। সব কিছু ঠিকঠাকই চলছিল। হঠাৎ সব কিছু বদলে যায় ৩০ জানুয়ারি।

অঞ্জলি আর আশীষ হাঁটতে বেরিয়েছিল। সঙ্গে আশীষের খুড়তুতো ভাই অঙ্কিত ও তাঁর স্ত্রীও ছিল। তাদের বাড়ি ছাড়ার পর অন্য একটি রাস্তা দিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল আশীষ ও অঞ্জলি। তবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে গেলেও, বাড়ি ফেরেনি তারা। শেষে খুঁজতে বেরিয়ে তাদের একটি শুনশান রাস্তায় সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে মনে করা হয়েছিল, কোনও গাড়ি ধাক্কা মেরে চলে গিয়েছে। প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গেলে, আশীষকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। অঞ্জলি জানায় যে তাঁর সমস্ত গয়না চুরি হয়ে গিয়েছে। বারবার সংজ্ঞা হারায় স্বামীর শোকে।

পুুলিশ তদন্ত শুরু করলে দেখে, অঞ্জলির বয়ানের সঙ্গে আশীষের দেহের চোট মিলছে না। পরে তদন্তে জানা যায়, এটা দুর্ঘটনা নয়, সুপরিকল্পিত খুন। অঞ্জলি তাঁর প্রাক্তন প্রেমিক সঞ্জুর সঙ্গে খুনের প্ল্যান করেছিল। সঞ্জু বিয়ে বাড়িতে ওয়েটারের কাজ করে। দীর্ঘ সাত বছর ধরে তাদের সম্পর্ক ছিল। অঞ্জলির পরিবারও সে কথা জানত। বিয়ের পরও অঞ্জলি সঞ্জুর সঙ্গে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করে। এমনকী পড়াশোনার নামে একাধিকবার দেখা করার চেষ্টা করে। জানতে পেরেই বারণ করে দেয় আশীষ। এরপরই প্রেমিকের সঙ্গে প্ল্যান করে স্বামীকে খুন করার।

জেরায় জানা যায়, অঞ্জলির প্ল্যান মতো সঞ্জু ও তাঁর বন্ধুরা ঝোপে লুকিয়ে ছিল। আশীষ ও অঞ্জলি শুনশান রাস্তায় আসতেই হামলা করে। আশীষের শ্বাসরোধ করে খুন করে। দুর্ঘটনা দেখাতে গাড়ি দিয়ে ধাক্কা মারে। অঞ্জলিও নিজের গয়না সঞ্জুকে দিয়ে দেয় এবং নিজে আশীষের মৃতদেহের পাশে অজ্ঞান হওয়ার অভিনয় করে পড়ে থাকে।

গোটা বিষয়টি সামনে আসতেই এখন আশীষের পরিবার অঞ্জলির মৃত্যুদণ্ডের দাবি করেছে।