Supreme Court: ‘সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত না নেওয়া হলে, তা স্থগিত হতে পারে’, জ্ঞানেশ মামলায় বিরাট পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের
Supreme Court on Gyanesh Kumar Case: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) এবং নির্বাচন কমিশনারদের (ECs) বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা থেকে আইনি রক্ষাকবচের বৈধতা এবং নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত বিষয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এককভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন—এই অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সম্মত হয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

নয়া দিল্লি: সর্বসম্মতভাবে এসআইআরের সিদ্ধান্ত না হলে, তা স্থগিত হতে পারে। জ্ঞানেশ কুমারের মামলায় বড় পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের। এ দিন এই পর্যবেক্ষণ রাখেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী। ফর্ম-৬ এ কে বদল করেছেন, তা জানতে চাইলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত।
সংবিধান সংশোধন করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে বেনজির ক্ষমতা এবং রক্ষাকবচ (immunity) দেওয়ার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জের মামলায় নোটিস ইস্যু করল সুপ্রিম কোর্ট। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও বাকি দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশীকে নোটিস পাঠানোর সিদ্ধান্ত শীর্ষ আদালতের। কেন্দ্রের কাছেও জবাব চাওয়া হয়েছে।
পটনার বাসিন্দা রাকেশ কুমার সিং মামলা করেছিলেন। দেশের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে এককভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগ আনেন আইনজীবী বিকাশ সিং। যদিও পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত দেশের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জ্ঞানেশ কুমারকে সাসপেন্ড করার অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দেওয়ার আবেদন খারিজ করে দেন প্রধান বিচারপতি।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) এবং নির্বাচন কমিশনারদের (ECs) বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা থেকে আইনি রক্ষাকবচের বৈধতা এবং নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত বিষয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এককভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন—এই অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সম্মত হয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
সোমবার সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশনকে (ECI) নির্দেশ দেয়, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ক্ষমতা প্রয়োগ নিয়ে যে সিদ্ধান্তগুলিকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা দায়ের হয়েছে, সেই সিদ্ধান্তগুলির নথি আদালতে জমা দিতে হবে। এর মধ্যে বিতর্কিত ফর্ম ৬-এ পরিবর্তনের বিষয়টিও রয়েছে।
আইনজীবী বিকাশ সিং এদিন সওয়াল করেন, সুপ্রিম কোর্ট এমন কোনও নির্দেশ দিক, যাতে কমিশনকে সব সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে নিতে হয়। এ কথা শুনে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, “এই বিষয়ে আইন তো আছেই। আমরা আশা করি, সেটা মেনে চলা হয়। না মানলে আমরা তা স্থগিত (Undo) করতে পারি।” আইনজীবী প্রশ্ন করেন, “কী স্থগিত করা হতে পারে? নির্বাচন নাকি নির্বাচিত সরকার?” এরপরই বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, “যদি রেকর্ডে দেখা যায়, কোনও সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে নেওয়া হয়নি, তাহলে আমরা তা স্থগিত করতে পারি।”
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি তদন্তমূলক প্রতিবেদনে দাবি করা হয় যে এসআইআর নিয়ে সব সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এরপরই নির্বাচন সদনের তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয় যে মতানৈক্য থাকলেও, সব সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমেই নেওয়া হয়েছে।
আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী বলেন, “এই মামলায় একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসাবে নির্বাচন কমিশন যেভাবে কাজ করছে, তা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। এই দেশে আমরা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশে বড় হয়েছি। আজ তা আর নেই।”
একইসঙ্গে ফর্ম-৬ (Form 6)-এ পরিবর্তনের বিষয়টি উল্লেখ করেন গুরুস্বামী। তাৎপর্যপূর্ণভাবে প্রধান বিচারপতি বলেন, “দয়া করে নোট করুন যে ফর্ম-৬-এ কোনও পরিবর্তন আমাদের অনুমোদনে হয়নি”।
এই মামলার পরবর্তী শুনানি এক সপ্তাহ পর হবে।
