
কাবুল : আফগানিস্তানের পাশে রয়েছে ভারত। আগেই বিবৃতি জারি করে জানিয়েছিল নয়া দিল্লি। একইসঙ্গে পাকিস্তানের হামলার কড়া নিন্দা করেছিল বিদেশমন্ত্রক। এবার আরও এক ধাপ এগিয়ে আফগানিস্তানে চিকিৎসা সামগ্রী পাঠাল নয়া দিল্লি। দিন কয়েক আগে পাকিস্তানের বিমান হামলায় আফগানিস্তানে বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। আহত হন দুই শতাধিকের বেশি। তাঁদের চিকিৎসায় যাতে কোনও রকম সমস্যা না হয়, সেকথা মাথায় রেখে বিভিন্ন ওষুধ-সহ নানারকম সামগ্রী পাঠানো হয়েছে ভারতের পক্ষ থেকে।
বিদেশমন্ত্রকের তরফে একটি বিবৃতি জারি করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ১৬ই মার্চের হামলায় আহতদের চিকিৎসা ও দ্রুত আরোগ্যে সাহায্যের জন্য ভারত কাবুলে ২.৫ টন জরুরি ওষুধ, চিকিৎসা সামগ্রী, কিট ও সরঞ্জাম পাঠিয়েছে। ভারত আফগান জনগণের পাশে আছে এবং এই কঠিন সময়ে যথাসম্ভব সাহায্যের চেষ্টা করবে।
প্রসঙ্গত, গত মাস থেকে পাকিস্তান-আফগানিস্তানের মধ্যে সংঘাত চলছে। পাকিস্তান আফগানদের উপর একাধিকবার হামলা চালিয়েছে। চলতি মাসের শুরুর দিকেও কান্দাহার বিমানবন্দর, পাক্তিয়ার সামরিক ঘাঁটি এবং রাজধানী কাবুলের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছিল ইসলামাবাদ। পাকিস্তানি গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বারবার দাবি করে এসেছেন, আফগানিস্তান থেকে জঙ্গিদের নির্মূল করার লক্ষ্যেই হামলা চালানো হয়েছে। কিন্তু, পাল্টা আফগানিস্তান দাবি করেছে বসতি এলাকাগুলিতে হামলা চালাচ্ছে পাকিস্তান। বহু সাধারণ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। পাল্টা প্রত্যাঘ্যাত চালায় কাবুলও। ১৬ মার্চ ফের আফগানিস্তানের উপর ভয়ঙ্কর হামলা চালায় ইসলামাবাদ। হাসপাতালে বিমান হামলা চালানো হয়। হামলার বলি হয়েছেন অনন্ত ৪০০জন। প্রায় দুই হাজার শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের একটি বড় অংশ ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। ২৫০-র বেশি মানুষ এখনও জীবনের সঙ্গে লড়াই করছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। দিন কয়েক আগেই হামলার কড়া নিন্দা করেছে ভারত।
কী বিবৃতি দিয়েছিল বিদেশমন্ত্রক?
বিদেশমন্ত্রকের দাবি, “এটা হিংসাত্মক হামলা। কাপুরুষের মতো কাজ করেছে পাকিস্তান। বহু সংখ্যক সাধারণ মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। এমন জায়গায় আঘাত আনা হয়েছে যা কোনওভাবেই বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু নয়। পাকিস্তান এখন একটি গণহত্যাকে সামরিক অভিযান হিসেবে সাজানোর চেষ্টা করছে। হামলাটি পবিত্র রমজান মাসে চালানো হয়েছে। যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এমন কোনও ধর্ম বা আইন নেই যা একটি হাসপাতাল এবং তার রোগীদের ওপর ইচ্ছাকৃতভাবে হামলাকে সমর্থন করতে পারে।”
তবে, আপাতত দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চলছে। ইদ উপলক্ষে যুদ্ধ সাময়িক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। বৃহস্পতিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে। তবে, পাকিস্তানর তরফে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, যুদ্ধবিরতি চলাকালীন তাঁরা কোনও আক্রমণ না করলেও আফগানিস্তান যদি নিজে থেকে কোনও রকম আক্রমণ করে, তবে তৎক্ষণাৎ পাকিস্তান পাল্টা হামলা চালাবে।