
নয়াদিল্লি: এটা শুধু সেনার প্রত্য়াঘাত নয়। পহেলগাঁও নাশকতার দিনে স্বামী হারানো ভারতের মেয়েদেরও প্রত্যাঘাত। জঙ্গিদের মদত দেওয়ার পরিণাম কী হতে পারে, বুধবার মধ্যরাতে তা হাড়ে-মজ্জায় টের পেল পাকিস্তান। এদিন, পাক অধ্যুষিত কাশ্মীর ও পঞ্জাব প্রদেশের নির্দিষ্ট জায়গায় ভয়াবহ হামলা চালায় ভারতীয় বায়ুসেনা। বেছে বেছে ৯টি জঙ্গি ঘাঁটিতেই হামলা চালানো হয়। কাশ্মীরের সাধারণ নাগরিকদের যেন কোনও ক্ষতি না হয়, সেই জন্য রাতকেই হামলার সময় হিসাবে বেছে নেয় বায়ুসেনা, অনুমান বিশেষজ্ঞদের।
বাছাই করা ৯টি জঙ্গি ঘাঁটি
মার্কাজ শুভান আল্লাহ ঘাঁটি
প্রথম টার্গেট ছিল পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশের বাহওয়ালপুরে অবস্থিত মার্কাজ শুভান আল্লাহ ঘাঁটি। এটি জঙ্গি জইশ-ই-মহম্মদের ডেরা। যেখান থেকে তারা ২০১৯ সালে হওয়া পুলওয়ামা হামলার ছক কষেছিল।
মার্কাজ তৈবা
লস্করদের গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি এটি। জঙ্গিদের নিয়োগ থেকে প্রশিক্ষণ সব চলে এই ডেরাতেই। পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশেই এটি অবস্থিত। ২০০০ সাল থেকে সেখানে নির্দ্বিধায় ‘অপারেশন’ চালাচ্ছে তারা।
সর্জল, তেহরা কালান
পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশের নারোয়াল জেলার শাকাগড়ের অবস্থিত এই ক্যাম্প আসলে জইশ-ই-মহম্মদ গোষ্ঠীর আরও একটা অন্যতম ঘাঁটি। এটি সীমান্ত সংলগ্ন হওয়ায় এই ঘাঁটি দিয়ে জঙ্গিরা ভারতে ঢুকে থাকেন। এমনকি, কোনও হামলার পর তারা চোট পেলে সবার প্রথমে এখানেই চিকিৎসার জন্য এসে থাকেন।
মার্কাজ আহলে হাদিথ বারনালা
পাকিস্তানের আওতাধীন আজ়াদ কাশ্মীরের ভিমবের এলাকায় তৈরি হয়েছে লস্করদের এই জঙ্গি ঘাঁটি। সূত্রের খবর, বুধের হামলার সেটিও পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে। বারনালা হল পাক অধ্যুষিত কাশ্মীরের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখার জন্য তৈরি অন্য়তম কেন্দ্র।
মাশকার রাহিল শহিদ
এটিও পাক আওতাধীন আজ়াদ কাশ্মীরেরই অংশ। যা হিজবুল-মুজাহিদিন জঙ্গি গোষ্ঠীর ভারত লাগোয়া অন্যতম শাখা।
শাওয়াই নাল্লাহ ক্যাম্প
সংবাদ সংস্থা ANI সূত্রে খবর, ২০০০ সালে এই ঘাঁটি তৈরি করে লস্কর গোষ্ঠী। মার্কাজ তৈবার মত এখান নিয়োগ কাজ চালনা করে তারা।
এছাড়াও, আর তিনটি ঘাঁটি যথাক্রমে শিয়ালকোটে অবস্থিত মেহমুনা জয়া ঘাঁটি, কোটিলে অবস্থিত মার্কাজ আব্বাস ও মার্কাজ সায়েদা বিলালেও হামলা চালিয়েছে ভারত। কিন্তু এই ঘাঁটিগুলি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।