
তেহরান : রাশিয়ার থেকে তেল কিনতে পারবে ভারত। অবশেষে আমেরিকার ছাড়পত্র পেল নয়া দিল্লি। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আবহে ভারতে তেল সংকটের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছিল। দিন কয়েক আগেই কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছিল, ভারতের ভান্ডারে ২৫ দিনের পরিশোধিত ও অপরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে। কিন্তু, যুদ্ধ চলতে থাকলে হরমুজ প্রণালীও বন্ধ থাকবে। সেইসঙ্গে ভারতের তেল ভাণ্ডার শূন্য হতেও সময় লাগবে না। এদিকে, রাশিয়া আগেই জানিয়েছিল ভারতকে তেল দিতে বা যে কোনও প্রয়োজনে সাহায্য করতে তারা প্রস্তুত। কিন্তু, রাশিয়ার থেকে তেল না কেনার শর্তেই ভারতের উপর শুল্ক কমিয়েছিলেন ট্রাম্প। সেক্ষেত্রে রাশিয়ার থেকে ভারত আদৌ তেল কিনবে কিনা, সেই বিষয়ে একটা সংশয় তৈরি হয়েছিল। অবশেষে রাশিয়ার থেকে তেল কেনায় ভারতকে ছাড়পত্র দিল আমেরিকা।
রাশিয়ার থেকে তেল কেনার বিষয়ে ভারতকে সাময়িক ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। ৩০ দিনের ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, ৫ মার্চ থেকেই রাশিয়ার থেকে তেল আমদানির সময়সীমা শুরু হয়ে গিয়েছে। ৩ এপ্রিল পর্যন্ত তেল আমদানি করতে পারবে ভারত। আমেরিকার ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেনেট এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে ৩০ দিনের অনুমোদনের বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন। তিনি লেখেন, “ট্রাম্পের জ্বালানি কর্মসূচি তেল ও গ্যাস উৎপাদনকে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছে দিয়েছে। বিশ্ব বাজারে তেলের সরবরাহ অব্যাহত রাখতে ট্রেজারি বিভাগ রাশিয়ার থেকে তেল কেনার বিষয়ে ৩০ দিনের অনুমতি দিয়েছে।”
President Trump’s energy agenda has resulted in oil and gas production reaching the highest levels ever recorded.
To enable oil to keep flowing into the global market, the Treasury Department is issuing a temporary 30-day waiver to allow Indian refiners to purchase Russian oil.…
— Treasury Secretary Scott Bessent (@SecScottBessent) March 6, 2026
পোস্টে ভারত-আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। স্কট বেনেট লেখেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার ভারত। আমরা আশা করছি নয়াদিল্লি আমেরিকার থেকে তেল কেনা বাড়াবে।”
প্রসঙ্গত, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আবহে বন্ধ হরমুজ প্রণালী। তেলবাহী জাহাজ চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ইরান। শুধুমাত্র রাশিয়া এবং চিনের তেলবাহী জাহাজকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। রয়টার্স সূত্রে খবর, ভারতীয় জলসীমার কাছে রাশিয়ার প্রা ৯৫ লক্ষ ব্যারেল তেল রয়েছে। রাশিয়া আগেই জানিয়েছিল, এই তেল ব্যবহার করতে পারে নয়া দিল্লি। এদিকে, বৃহস্পতিবারই হরমুজ নিয়ে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আরাঘাচির সঙ্গে কথা বলেন এস জয়শঙ্কর। হরমুজ নিয়ে দু’জনের মধ্যে কথাবার্তা হয়। তারপর থেকেই মনে করা হচ্ছিল, হরমুজ নিয়ে তৈরি হওয়া শঙ্কার প্রভাব খুব একটা ভারতে পড়বে না। তারপরই আমেরিকার তরফে রাশিয়ার থেকে তেল কেনায় ছাড়পত্র দিল আমেরিকা।