
নয়াদিল্লি: মধ্যপ্রাচ্যে আটকে থাকা ভারতীয়দের উদ্ধারে আপাতত কোনও পদক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকছে নয়াদিল্লি। নতুন বছরে নতুন করে তপ্ত হয়েছে পশ্চিম এশিয়া। ইজরায়েল ও আমেরিকার সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে নেমেছে ইরান। এই পরিস্থিতিতে সেই যুদ্ধবিধ্বস্ত বদ্ধভূমেই আটকে রয়েছে বহু ভারতীয় পড়ুয়া। যাদের আপাতত উদ্ধারের কথা ভাবছে না নয়াদিল্লি। কিন্তু কেন?
রবিবার রাতে দু’দিনের গুজরাট, রাজস্থান, পুদুচেরি ও তামিলনাড়ু সফর সেরে দিল্লিতে পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তারপরেই মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটির বৈঠক ডাকেন তিনি। সেই বৈঠকেই পদক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ হয়েছে বলে সূত্রের খবর। আকাশসীমা কিছুটা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নয়াদিল্লি কোনও পদক্ষেপ করবে না বলেই জানা গিয়েছে। তবে সরকারের সব মন্ত্রক এবং সংশ্লিষ্ট দফতরকে আপদকালীন পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের জন্য তৈরি থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
এক্ষেত্রে বলে রাখা প্রয়োজন, গতবছর জুন মাসেও ইরানের পরমাণুকেন্দ্রকে লক্ষ্য় করে ইজরায়েলি হামলার পর তৈরি হয় একই রকম পরিস্থিতি। সংঘর্ষে তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা মধ্যপ্রাচ্য। এই অবস্থায় ইরানে থাকা ভারতীয়দের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয় বিদেশমন্ত্রক। শুরু হয় ‘অপারেশন সিন্ধু’। এই অভিযানে ইরান ও আমেরিকা উভয়েই সহযোগিতাকে ভারতকে। কিন্তু নতুন বছরে নতুন করে শুরু হওয়া যুদ্ধ পরিস্থিতিতে কি ফের সেই নজির তৈরি হবে? প্রশ্ন থাকছে।
সরকারি সূত্র মোতাবেক, গোটা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে প্রায় এক কোটি ভারতীয় রয়েছে। সৌদি আরব, ইরান, ইরাক — পড়াশোনা ও কর্ম সূত্রে সর্বত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছেন তাঁরা। স্বাভাবিক ভাবেই এত সংখ্যক পড়ুয়াকে ধাপে ধাপে উদ্ধার করাও মোটেই সহজ নয়। তাই আপাতত যে কোনও রকম পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্তকেই শ্রেয় মনে করছে নয়াদিল্লি। কিন্তু দূতাবাস মাধ্যমে প্রত্যেক ভারতীয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হবে।
এদিকে আবার ইজরায়েলে আটক পড়া কর্মীদের কীভাবে উদ্ধার করা যায় সেই মর্মে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এয়ার ইন্ডিয়া। এই যুদ্ধ আবহে ওমানে ইরানের হামলায় টার্গেট হয়েছেন ১৫ জন ভারতীয়-সহ একটি তেলের ট্যাঙ্কার। সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে আহত হয়েছেন এক ভারতীয়। আপাতত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি।