India-Iran: হরমুজে মৃত্যু ভারতীয় নাবিকের, এবার ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব নয়া দিল্লির
India summons Iranian diplomat: ইরানের হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে নয়া দিল্লি। ইরানের কাছে গোটা ঘটনার ব্যাখা চায়। বিদেশ মন্ত্রক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই ধরনের হামলা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিবৃতিতে বলা হয়েছে,"অবিলম্বে উত্তেজনা প্রশমিত করে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা জরুরি। যাতে এই শান্তি ফিরে আসে।"

নয়া দিল্লি: হরমুজ প্রণালীতে (Strait Of Hormuz) তেল ট্যাঙ্কারে ইরানি হামলায় মৃত্যু হয়েছে এক ভারতীয় নাগরিকের। এবার এই ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় সরকার। ইরানের কূটনীতিককে (Iranian Diplomat) ডেকে পাঠিয়েছে বিদেশমন্ত্রক। কেন্দ্রীয় সরকার সূত্রে খবর, দিল্লিতে ইরানের দূতাবাসের ডেপুটি রাষ্ট্রদূত মহম্মদ জাভেদ হোসেইনিকে তলব করেছে বিদেশমন্ত্রক।
হরমুজে হামলা
সংযুক্ত আরব আমিরশাহী প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ওমানের জলসীমায় হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণে ‘মোমবাসা’ (Mombasa) এবং’আল বাহিয়াহ’ (Al Bahiyah) নামে দু’টি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে মিসাইল হামলা চালায় ইরান। ওই হামলায় এক ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয় এবং আরও আটজন আহত হন। আহতদের মধ্যে ছয়জন ভারতীয় এবং দু’জন ইউক্রেনের নাগরিক। তাঁদের মধ্যে চারজনের অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে আরব আমিরশাহী। এই ঘটনার কয়ের ঘণ্টা পরই ইরানের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠাল নয়া দিল্লি।
উদ্বেগ নয়া দিল্লির, শান্তির বার্তা
ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে নয়া দিল্লি। ইরানের কাছে গোটা ঘটনার ব্যাখা চায়। বিদেশ মন্ত্রক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই ধরনের হামলা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিবৃতিতে বলা হয়েছে,”অবিলম্বে উত্তেজনা প্রশমিত করে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা জরুরি। যাতে এই শান্তি ফিরে আসে।”
একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ ও অসামরিক পরিকাঠামোর উপর হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে ভারত। আন্তর্জাতিক আইন মেনে হরমুজ প্রণালী দিয়ে অবাধ ও নিরাপদে নৌ-চলাচল দ্রুত পুনরায় চালু করারও দাবি জানানো হয়েছে।
ইরানের কী দাবি ?
এদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পসের (IRGC) অভিযোগ, আমেরিকা বাণিজ্যিক জাহাজগুলিকে হরমুজ প্রণালীর ওমান উপকূল সংলগ্ন একটি ভুল রুট ব্যবহার করতে উৎসাহ দিচ্ছে। IRGC-র দাবি, ওই রুটে মাইন পাতা রয়েছে এবং সেই কারণেই ওই পথ বিপজ্জনক।
উত্তেজনার কেন্দ্র হরমুজ
বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথকে ঘিরে আমেরিকা ও ইরানের সংঘাতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি এবং বাণিজ্যের উপর বড় প্রভাব ফেলছে।
এরই মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, হরমুজ দিয়ে যে জাহাজগুলি চলাচল করবে, সেই জাহাজগুলির নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবে আমেরিকা। তবে, তার জন্য গুনতে হবে মোট কর। প্রতি জাহাজ পিছু ২০ শতাংশ টোল নেওয়া হবে। ইরান অবশ্য সেই প্রস্তাব খারিজ করে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতেই রয়েছে এবং তারা এমন কোনও অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করবে না।
