
নয়া দিল্লি: শীত গেল, এবার গরমের পালা। ইতিমধ্য়েই পশ্চিমবঙ্গ সহ দেশের একটা বড় অংশেই শীতের প্রভাব ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। অন্যদিকে, জম্মু-কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশে এখনও কনকনে ঠান্ডা। তুষারপাত হচ্ছে প্রবল। তবে গ্রীষ্ম পড়ার আগেই ভয়ের পূর্বাভাস এল। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির নতুন গবেষণায় গ্লোবাল ওয়ার্মিং (Global Warming) বা বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাবে ভয়ঙ্কর গরম পড়তে চলেছে।
বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাবে আগামী কয়েক দশকেই লক্ষাধিক মানুষ চরম তাপমাত্রায় কষ্ট পেতে পারেন। গবেষণায় বলা হয়েছে, যদি বৈশ্বিক তাপমাত্রা গড়ে দুই ডিগ্রি বৃদ্ধি পায়, তাহলে ৩.৭ বিলিয়ন অর্থাৎ ৩৭০ কোটি মানুষ চরম গরম বা ‘এক্সট্রিম হিট’-র সম্মুখীন হবে ২০২৫০ সালের মধ্যে।
গবেষকরা বলছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত তাপমাত্রা ওই মাইলস্টোনে না পৌঁছচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এর প্রভাব বোঝা যাবে না। ২০১০ সাল থেকে বিশ্বের ২৩ শতাংশ জনসংখ্যা এই চরম গরম সহ্য করছে। আগামী কয়েক বছরেই সেই সংখ্যা ৪১ শতাংশে পৌঁছবে।
অক্সফোর্ড গবেষকদের মতে, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, নাইজেরিয়া, দক্ষিণ সুদান, লাওস ও ব্রাজিলের মতো দেশে তাপমাত্রা ব্যাপক হারে বাড়তে পারে।
ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নাইজেরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপিন্সের মতো দেশ, যেখানে জনসংখ্যা বাকি দেশের তুলনায় অনেকটা বেশি, সেখানের নাগরিকরা তীব্র গরমে কষ্ট পেতে চলেছেন বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে। দীর্ঘ সময় ধরে গরমকাল চলবে। অর্থাৎ যে কয়েক মাস গ্রীষ্মকাল বলে পরিচিত, তার তুলনায় অনেক বেশি দিন গরম থাকবে।
যেমন পশ্চিমবঙ্গের উদাহরণই ধরা হোক। জানুয়ারির শেষভাগ থেকে শীত কার্যত উধাও হয়ে গিয়েছে। ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় ভাগ থেকেই বেশ গরম পড়ে যাবে। মার্চ থেকে তীব্র গরম এবং এপ্রিলে তাপপ্রবাহ চলবে। ২০২৬ সালে যেহেতু ফিরছে ‘এল নিনো’, তাই এবারের গ্রীষ্ম সাম্প্রতিক অতীতের উষ্ণতার রেকর্ড ভাঙতে পারে বলে আশঙ্কা।ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকেই দিনের পারদ ৩২ বা ৩৪ ডিগ্রির ঘরে পৌঁছে যাবে। মার্চে কোনও কোনও দিন সেই তাপমাত্রা ৩৮ বা ৪০ ডিগ্রিও স্পর্শ করে ফেলতে পারে।
অক্সফোর্ডের গবেষণায় উঠে এসেছে যে নাতিশীতোষ্ণ বা উষ্ণ দেশই শুধু নয়, যে দেশগুলিতে তুলনামূলক তাপমাত্রা কম বা শীতল দেশ, সেখানেও তাপমাত্রার বিরাট পরিবর্তন হবে। ২০০৬ থেকে ২০১৬-র দশকের মধ্যে এক ডিগ্রি তাপমাত্রা বেড়েছিল শিল্পায়নের আগে থেকে। এবার যদি ২ ডিগ্রি তাপমাত্রা বাড়ে, তাহলে অস্ট্রিয়া ও কানাডায় গরমের দিন দ্বিগুণ হয়ে যাবে। ব্রিটেন, সুইডেন, ফিনল্যান্ডে দেড়শো গুণ বেড়ে যাবে উষ্ণ দিনের সংখ্যা। নরওয়েতে ২০০ শতাংশ এবং আয়ারল্যান্ডে ২৩০ শতাংশ বেড়ে যেতে পারে উষ্ণ দিন।
আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই লক্ষ লক্ষ বাড়িতে এয়ার কন্ডিশনারের দরকার পড়তে পারে। কানাডা, সুইৎজারল্যান্ডের মতো দেশেও এসির প্রয়োজন পড়তে পারে।