
বছরের শুরুতেই বঙ্গোপসাগর আর ভারত মহাসাগরের সংযোগস্থলে বিরাট একটা স্ট্র্যাটেজিক পদক্ষেপ করল দিল্লি। শুক্রবার বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে কার নিকোবর এয়ার বেসে নতুন করে সেজে ওঠা রানওয়ের উদ্বোধন করলেন চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ বা CDS জেনারেল অনিল চৌহান। মালাক্কা প্রণালীর উপর নজরদারি বাড়াতে এই পদক্ষেপ ভারতের জন্য এক মাস্টারস্ট্রোক।
২৭০০ মিটার লম্বা এবং ৪৩ মিটার চওড়া এই রানওয়ে এখন অনেক বেশি শক্তিশালী। আর তার ফলে শক্তি বাড়ল ভারতীয় বায়ুসেনার। নতুন এই রানওয়ে আগের থেকে অনেক বেশি ওজন সহ্য করতে পারবে। এখন থেকে এখানে সু-৩০ এমকেআই-এর মতো ভারী যুদ্ধবিমান ওঠানামা করতে পারবে। এ ছাড়াও একসঙ্গে অনেক ফাইটার জেট এখানে পার্ক করা বা জ্বালানি ভরা সম্ভব। এ ছাড়াও নতুন ট্যাক্সি ট্র্যাকটি আপৎকালীন সময়ে দ্বিতীয় রানওয়ে হিসেবেও কাজ করবে।
মালাক্কা স্ট্রেট হল বিশ্বের অর্থনীতির লাইফলাইন। কার নিকোবর থেকে এই চোক পয়েন্টের দূরত্ব এতটাই কম যে, ভারত এখন খুব দ্রুত যে কোনও চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে পারবে। জেনারেল অনিল চৌহান স্পষ্ট জানিয়েছেন, “এই আপগ্রেডের ফলে ইস্টার্ন ফ্রন্টে ভারতের সামরিক সক্ষমতা কয়েক গুণ বেড়ে গেল।”
২০০৪ সালের সুনামিতে এই বায়ুসেনার বেসটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। আজ সেই স্মৃতি মুছে আধুনিক ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ পলিসির অন্যতম স্তম্ভ হয়ে উঠল কার নিকোবর। আন্দামান ও নিকোবর কমান্ড এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ক্ষিপ্র।
হিসাব পরিষ্কার। ভারত মহাসাগরে চিনের লাল ফৌজের বাড়তি সক্রিয়তা রুখতে ভারতের এই পরিকাঠামো উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি ছিল। আগামী কয়েক মাসে এখানে নিয়মিত যুদ্ধবিমানের মহড়া শুরু হওয়ার কথা। অর্থাৎ, সমুদ্রের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে ভারত এখন আরও কয়েক কদম এগিয়ে গেল।