
কিয়েভ: যতই সময় গড়াচ্ছে, ধীরে ধীরে আরও জটিল হচ্ছে ইউক্রেনের (Ukraine) পরিস্থিতি। গত বৃহস্পতিবার রাশিয়ার প্রসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা করার পরই প্রতিবেশী দেশের উপরে লাগাতার হামলা শুরু করেছে রুশ সেনা। রাজধানী কিয়েভ(Kyiv)-এও ঢুকে পড়েছে রাশিয়ার ট্যাঙ্কার। এই পরিস্থিতিতে সে দেশে আটকে থাকা ভারতীয়দের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করেছিল বিদেশমন্ত্রক। তাদের নিরাপদ কোনও জায়গায় আশ্রয় নিতে বলা হয়েছিল। তবে রবিবার যুদ্ধ পরিস্থিতি কিছুটা ঠাণ্ডা হতেই তাদের সংঘর্ষস্থলগুলি এড়িয়ে, ওই অঞ্চলগুলি ছেড়ে বেরিয়ে আসতে বলা হল। কিয়েভে কার্ফু জারি থাকায় ভারতীয় দূতাবাস(Indian Embassy)-র তরফে জানানো হয়েছে, কার্ফু (Curfew) ওঠার পরই যেন ভারতীয় নাগরিকরা শহর ছেড়ে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন।
রবিবারই টুইটারে ইউক্রেনে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের তরফে জানানো হয়, ইউক্রেন রেলওয়ের তরফে বেশ কয়েকটি অতিরিক্ত জরুরি ভিত্তিতে উদ্ধারকারী ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিয়েভ থেকে ছাড়া এই ট্রেনগুলিতে নিখরচায় যাতায়াত করা যাবে, তবে আগে যারা পৌঁছবেন, তাদেরই জায়গা দেওয়া সম্ভব হবে। স্টেশনেই ওই বিশেষ ট্রেনগুলির ব্যবস্থা করা হয়েছে। দূতাবাসের তরফে বলা হয়েছে, কার্ফু উঠে গেলে এবং আশেপাশের মানুষের গতিবিধি যদি নজরে পড়ে, তবেই ভারতীয়দের সেই সমস্ত অঞ্চল, যেখানে সংঘর্ষ চলছে, সেখান থেকে বেরিয়ে কাছের রেল স্টেশনে পৌঁছতে বলা হচ্ছে। সেখান থেকে তারা যেন দেশের পশ্চিম অংশের উদ্দেশে রওনা দেন, তার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দূতাবাসের তরফে আরও জানানো হয়েছে, আপাতত ট্রেনে যাতায়াত করাই সুরক্ষিত। যদি নিত্যদিনের ট্রেনগুলির টিকিট পাওয়া যায়, তবে তা আগে থেকে বুক করা যাবে। এছাড়া ইউক্রেন রেলওয়ে য়ে বিশেষ ট্রেনগুলির ব্যবস্থা করেছে, তাতে বিনামূল্যেই যাতায়াত করা যাবে। এতে কোনও টিকিটের প্রয়োজন পড়বে না। সুরক্ষার খাতিরে ভারতীয়রা যাতে দলবন্ধ হয়ে যাতায়াত করেন, তার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। রেলস্টেশনে মহিলা, শিশু ও বয়স্কদের আগে ট্রেনে ওঠার সুযোগ দেওয়া হবে বলেও জানা হয়েছে ভারতীয় দূতাবাসের তরফে।
অপর আরেকটি টুইটে কার্ফু ওঠার পরই যেন ভারতীয়রা নিরাপদ আশ্রয় ছেড়ে বেরোন, সেই কথা বলা হয়েছে। ওই টুইটে বলা হয়েছে, “শেষ খবর অনুযায়ী, খারকিভ, সুমি ও কিয়েভে চরম সংঘর্ষ চলছে। এই সমস্ত শহর বা অন্যান্য যে শহরগুলিতে কার্ফু জারি রয়েছে, সেখানে বসবাসকারী ভারতীয়দের অনুরোধ করা হচ্ছে তারা যেন কার্ফু চলাকালীন কোনওমতেই বাড়ি থেকে বের না হন। কার্ফু তুলে নেওয়ার পর এবং রাস্তাঘাটে সাধারণ মানুষের দেখা পাওয়ার পরই আপনারা রেলওয়ে স্টেশনের উদ্দেশে রওনা দিন।”
ইউক্রেনে আটকে থাকা ভারতীয়দের উদ্দেশে বলা হয়েছে, তারা যেন কেবল অত্যাবশ্যকীয় সামগ্রীই সঙ্গে নেন এবং যথাসম্ভব ছোট ব্যাগ বা রুকস্যাক ব্যবহার করেন। সঙ্গে নগদ টাকা রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। রাতে চরম ঠাণ্ডার কারণে গরম শীতের পোশাক পরে বেরতে বলা হয়েছে।