India’s cheetah man: রাজ বিলাসিতা ছেড়ে IAS অফিসার, ‘ভারতের চিতা ম্যান’ এই প্রিন্সকে জানেন
IAS officer: বর্তমানে ৮৪ বছর বয়সি ড. এম.কে. রঞ্জিতসিংহ ঝালা গুজরাটের প্রাক্তন ওয়াঙ্কানের রাজবংশের উত্তরসূরি। তিনি রাজকীয় জীবনযাপন ছেড়ে দেশ ও সমাজের জন্য কিছু করার পণ নেন। আর তার জন্য রাজপরিবারের বিলাসিতা ছেড়ে তিনি প্রশাসনিক পদে যোগদান করেন। বন্যপ্রাণী রক্ষায় বিশেষ অবদানের জন্য ড. রঞ্জিতসিংহ ঝালা ২০১৪ সালে লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ডও পান।

ভোপাল: রাজ পরিবারে জন্ম নেওয়া, বিলাসিতায় জীবন কাটানো- কম-বেশি সকলেরই স্বপ্ন থাকে। কিন্তু, এমন অনেক ব্যক্তি রয়েছেন, যাঁরা রাজপরিবারে জন্মগ্রহণ করেও সমাজ ও বিশ্বে অবদান রাখতে সমস্ত বিলাসিতা পরিত্যাগ করেন। স্বাভাবিকভাবেই তাঁরা পরবর্তী প্রজন্মের অনুপ্রেরণা এবং তাঁদের নাম ইতিহাসে খোদাই হয়ে যায়। এমনই এক ব্যক্তি হলেন, ড. এম.কে. রঞ্জিতসিংহ ঝালা, যিনি ‘ভারতের চিতা ম্যান’ হিসাবে পরিচিত।
রাজসুখ ছেড়ে বন্যপ্রাণী রক্ষায় তৎপর
বর্তমানে ৮৪ বছর বয়সি ড. এম.কে. রঞ্জিতসিংহ ঝালা গুজরাটের প্রাক্তন ওয়াঙ্কানের রাজবংশের উত্তরসূরি। তিনি রাজকীয় জীবনযাপন ছেড়ে দেশ ও সমাজের জন্য কিছু করার পণ নেন। আর তার জন্য রাজপরিবারের বিলাসিতা ছেড়ে তিনি প্রশাসনিক পদে যোগদান করেন। ১৯৬১ ব্যাচের আইএএস অফিসার রঞ্জিতসিংহ ঝালা মধ্য প্রদেশের প্রাক্তন আমলা। তিনিই ঝালা রাজপরিবারের প্রথম সদস্য, যিনি আইএএস অফিসার হয়েছিলেন।
শৈশব থেকেই বন্যপ্রাণীদের প্রতি অত্যন্ত অনুরাগী ছিলেন ড. রঞ্জিতসিংহ ঝালা। তারপর আমলা পদে থাকাকালীন তিনি বন্যপ্রাণী রক্ষায় বিশেষ জোর দেন। আইএএস হওয়ার পরই তিনি মধ্য ভারত থেকে বিলুপ্তপ্রায় বারসিংহ হরিণ, রুসারভাস ডুভাউসেলিকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন। বন্যপ্রাণীদের সুরক্ষায় আইন প্রণয়নেও সচেষ্ট হন। তিনিই ১৯৭২ সালের বন্যপ্রাণী (সুরক্ষা) আইনের স্থপতিকার। জাতীয় উদ্যান এবং অভয়ারণ্য নির্মাণের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে রাজ্যগুলিকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা তিনিই করেছিলেন। তারপর বিশ্বের অন্যতম সফল সংরক্ষণ উদ্যোগ, ব্যাঘ্র সংরক্ষণ দলেরও সচিবও ছিলেন ড. রঞ্জিতসিংহ ঝালা। ১৯৭৫ সাল থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত তিনি UNEP’র ব্যাংকক আঞ্চলিক অফিসে প্রকৃতি সংরক্ষণ উপদেষ্টা হিসাবে কাজ করেন। আন্তর্জাতিক স্তরেও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন তিনি। তারপর ভারতে ফিরে ১১টি অভয়ারণ্য এবং আটটি জাতীয় উদ্যান পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন ড. ঝালা।
কেন ‘ভারতের চিতা ম্যান’ হিসাবে পরিচিত ড. রঞ্জিতসিংহ ঝালা?
ড. রঞ্জিতসিংহ ঝালা অন্যান্য বিলুপ্তপ্রায় পশুর পাশাপাশি ভারতে চিতা ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে বিশেষ পদক্ষেপ করেছিলেন। ২০০৯ সালে’ভারতে আফ্রিকান চিতা পরিচিতি প্রকল্প’ প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে সেটি ২০২০ সালে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয় এবং রঞ্জিতসিংহকে সেই প্রকল্পের বিশেষজ্ঞ দলের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য নির্বাচিত করা হয়। ভারতে চিতা ফিরিয়ে আনতে বিশেষ অবদানের জন্য ড. রঞ্জিতসিংহ ঝালাকে ‘ভারতের চিতা ম্যান’ বলা হয়।
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের পরিচালক, ওয়াইল্ডলাইফ ট্রাস্ট অফ ইন্ডিয়া (ডব্লিউটিআই) এর চেয়ারম্যান, ডব্লিউডব্লিউএফ টাইগার কনজারভেশন প্রোগ্রাম (টিসিপি) এর ডিরেক্টর সহ অসংখ্য পদে আসীন হয়েছেন ‘ভারতের চিতা ম্যান’। বন্যপ্রাণী রক্ষায় বিশেষ অবদানের জন্য ড. রঞ্জিতসিংহ ঝালা ২০১৪ সালে লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ডও পান।
