
সময়ের সঙ্গে বাড়ছে ভারতে উচ্চশিক্ষার পরিসর। কিন্ত বাস্তব অন্য কথা বলে। মানুষের ডিগ্রি বাড়ছে কিন্তু বাড়ছে না চাকরি। বা আরও ভাল করে বললে উপযুক্ত চাকরি পাওয়া আজকের দিনে বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে উঠছে। সামগ্রিক ভাবে বেকারত্ব কমলেও আধা বেকারের সংখ্যা বাড়ছে। আর এতেই স্পষ্ট হচ্ছে পরিসংখ্যানের আড়ালে থাকা এক কাঠামোগত সঙ্কট।
এমন হওয়ার প্রধান কারণ হল দক্ষতার সামঞ্জস্যহীনতা। আমাদের দেশের বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়েই তাত্ত্বিক শিক্ষার উপর জোর দেওয়া হয়। সেখানে কর্মক্ষেত্রে যে ধরনের শিক্ষার দরকার, সেই ধরনের বাস্তব শিক্ষার পাঠ দেওয়া হয় না। ফলে, অনেক ডিগ্রি থাকা ব্যক্তিও ‘অযোগ্য’ বলে পরিগণিত হয়। অন্যদিকে, প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ ছেলেমেয়ে গ্র্যাজুয়েশন পাস করে। কিন্তু সেই সংখ্যার নিরিখে রিক্রুটমেন্ট প্রতি বছর হয় না।
আর এই অসামঞ্জস্যের কারণে অনেক তরুণেরই একাধিক ডিগ্রি থাকার পরও তাঁরা গিগ বা ফ্রিল্যান্সের কাজের দিকে ঝুঁকছেন। আর এই ধরনের কাজে আয়ের সুযোগ ভাল হলেও সেই কাজের স্থায়িত্ব, সামাজিক সুরক্ষা ও ভবিষ্যতের অগ্রগতির নিশ্চয়তা নেই। আবার অনেকেই সরকারি চাকরি পাওয়ার আশায় জীবনের বহুমূল্য বছরগুলো পর পর নষ্ট করে চলেছেন।
এমন হওয়ার ফলে, মানুষের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা বিলম্বিত হচ্ছে। ওই যুবকদের পারিবারিক চাপ বাড়ছে। এ ছাড়াও শিক্ষিত মানবসম্পদের অপচয় হচ্ছে। শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের এই ফাঁক পূরণ না হলে ভারতের আগামীর সুপারপাওয়ার সম্ভাবনা বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।