
নয়া দিল্লি : টুইটার অ্যাকাউন্টে ফলোয়ার্স বা অনুগামী কমে যাওয়া নিয়ে চিন্তিত কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। সেই সূত্রেই তিনি টুইটারের সিইও পরাগ আগরওয়ালকে চিঠি লিখে অভিযোগও জানিয়েছিলেন গত মাসে। ফলোয়ার্স কমে যাওয়া নিয়ে রীতিমত ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন রাহুল গান্ধী। কিন্তু টুইটার কর্তৃপক্ষের তরফে রাহুল গান্ধীর এই অভিযোগকে মান্যতা দেওয়া হয়নি। রাহুল গান্ধীর এই টুইটার কাণ্ড নিয়ে সরগরম নেটপাড়া। একাধিক সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা টুইটারের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
এই প্রসঙ্গে রাহুল শিবশঙ্কর, টাইমস নাউ এর এডিটর ইন চিফ টুইটারে জানিয়েছেন, “রাহুল গান্ধীর টুইটার ফলোয়ার বৃদ্ধির হার কমে যাওয়ায় সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মকে লাল ঝান্ডা দেখিয়ে সতর্ক করলেন যাতে তারা (টুইটার) সরকারে হাতের পুতুল না হয়ে যায়। কংগ্রেসের “চিফ ইন ওয়েটিং” (ভাবী সভাপতি)-এর জন্য মাঠে ময়দানে ও অনলাইনে চিহ্ন স্পষ্ট। টুইটারও অবশ্য নির্বাচন কমিশনের মতো সব বৈষম্যের অভিযোগ খারিজ করেছে।” কংগ্রেসের খোদ রাহুল গান্ধীর দেওয়া এই সুযোগ ছাড়তে চায়নি বিজেপিও। বিজেপির আইটি সেলের ইনচার্জ অমিত মালব্য এই প্রসঙ্গে টুইট করেছেন, “রাহুল গান্ধী টুইটারে অভিযোগ করে লিখেছেন যে ২০২১ সালে তাঁর অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে বন্ধ হওয়ার পর থেকে তার ফলোয়ার সংখ্যা বাড়েনি…রাহুল বাস্তব জগতে কোনও অডিয়েন্স পান না এবং এখন ভার্চুয়াল জগতেও অডিয়েন্স পাচ্ছেন না! এরপর কী? ভোট না পাওয়ার অভিযোগ নির্বাচন কমিশনে লিখবেন?”
একজন টুইটার ব্যবহারকারী ঋষি বাগরি রাহুল গান্ধীর টুইটারে ফলোয়ার্স কমানো নিয়ে একটি প্রতিবেদনের ছবি আপলোড করে লিখেছেন, “তিনি যখন আমেঠি থেকে হেরে গিয়েছিলেন ইভিএমকে দোষ দিয়েছিলেন। ফলোয়ার্স কমে যাওয়ায় টুইটারকে দোষ দিচ্ছেন। যখন নেতা দলত্যাগ করেছে বিজেপিকে দোষ দিয়েছেন। এরপর কি?” এরপর কংগ্রেস আর কী নিয়ে দোষারোপ করবে জানতে চেয়ে তিনি নিজেই লিখেছেন, “বিধানসভা নির্বাচনে হেরে গেলে ভোটারদের দোষ দেবেন রাহুল গান্ধী।” সোশ্যাল তামাশা এর একটি টুইটার হ্যান্ডেল থেকে রাহুল গান্ধীর টুইটার ইস্যু নিয়ে একটি মিম শেয়ার করে লেখা হয়েছে, “ফলোয়ার্স না বাড়ায় রাহুল গান্ধী টুইটারের সিইও পরাগ আগরওয়ালের কাছে অভিযোগ করেছেন। অর্থাৎ জনগণ এখন তাঁকে ভোট না দিলে পাপ্পু নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করবেন।”
আরেকজন টুইটার অ্যাকাউন্ট হোল্ডার অলোক ভাট লিখেছেন, “খুব বেশিদিন আগে নয়। রাহুল গান্ধী কেঁদে কেঁদে নিকোলাস বার্নসের কাছে গিয়েছিলন এবং জিততে না পারার জন্য আমেরিকার সমর্থন চেয়েছিলেন। এখন তিনি পরাগের কাছে গিয়েছেন এই অভিযোগ নিয়ে যে তাঁর ফলোয়ার্স বাড়ছে না। এরপর এখন হগ- কারণ তিনি সেখানে গিয়ে অভিযোগ করবেন ভারতীয়রা তাঁকে ভোট দিচ্ছেন না।” ঠিক একইরকম কথা লিখেছেন আরেক টুইটার ব্যবহারকারী। অঙ্কুর সিং লিখছেন, “উত্তর প্রদেশের ভোটের পর রাহল গান্ধী নির্বাচন কমিশনে চিঠি লিখবেন যে তাঁর ভোটার বাড়ছে না।”
প্রসঙ্গত, রাহুল গান্ধী কংগ্রেসের নেতা হলে তাঁকে ভোটের ময়দানে কম সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশি সক্রিয় থাকতে দেখা যায়। মানুষের কাছে নিজের বার্তা পৌঁছে দিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ফলোয়ার্স একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গত কয়েক রাজ্য ও লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলে কংগ্রেসের ভোটের অঙ্ক দেখে স্বভাবতই জাতীয় রাজনীতিতে কংগ্রেসের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তাই পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনের আগে সোশ্যাল মিডিয়াতেও যদি উপস্থিতি টের না পাওয়ানো যায় তাহলে তো মহা বিপদ। তাই গতমাসেই টুইটারের সিইও পরাগ আগরওয়ালকে চিঠি লিখেছিলেন রাহুল গান্ধী। অভিযোগ করেছেন, তাঁর টুইটারে অ্যাকাউন্টে ফলোয়ার্সের সংখ্যা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানিয়েছেন যে,‘রিচ’ কমিয়ে দেওয়ার জন্য সরকারের তরফে চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি রাহুলের।
আরও পড়ুন : Rahul Gandhi’s Letter to Twitter CEO: ‘টোপ হবেন না’, ‘ফলোয়ার্স’ কমতেই টুইটার কর্তাকে চিঠি রাহুলের