দুই সন্তান-সহ শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দিয়েছিলেন ইন্দিরা গান্ধী, কী হয়েছিল সেদিন?
Sheikh Hasina: ঠিক ১৫ দিন পর খবর যায় হাসিনার কাছে। জানতে পারেন, তাঁর পরিবারে চালানো হয়েছে হত্যালীলা। সে দিন বাবার মৃত্যুর কথা বিশ্বাসই করতে পারেননি বাংলাদেশের সদ্য প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুধু বঙ্গবন্ধু নয়, হাসিনার পরিবারের ১৮ জন সদস্যের মৃত্যু হয়েছিল সেই ঘটনায়। মৃতদের মধ্যে ছিলেন হাসিনার ১০ বছর বয়সী ভাইও।

কলকাতা: কয়েক’শ মানুষের মৃত্যুতে যখন রক্তাক্ত বাংলাদেশের রাজপথ, তারই মধ্যেই ঢাকা ছেড়েছেন শেখ হাসিনা। সূত্রের খবর, সোমবার বোন রেহানার সঙ্গে হেলিকপ্টারে চেপে দেশ ছাড়েন হাসিনা। আজ থেকে প্রায় ৪৯ বছর আগে, জুলাই মাসে এভাবেই বোনের সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে রওনা হয়েছিলেন শেখ হাসিনা। তবে তখনও তিনি বুঝতে পারেনি, কত বড় বিপর্যয় আসতে চলেছে তাঁর জীবনে। তাঁর বাবা অর্থাৎ বঙ্গবন্ধু মুজিবর রহমানের সঙ্গে সেটাই ছিল তাঁর শেষ দেখা। পরের পাঁচ বছর শেখ হাসিনাকে ভারতেই আশ্রয় দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী।
১৯৭৫ সালের ৩০ জুলাই। বিমানবন্দরে দুই বোনকে বিদায় জানাতে উপস্থিত ছিলেন মুজিবর রহমান সহ পরিবারের সব সদস্যরা। পেশায় পরমাণু বিজ্ঞানী হাসিনার স্বামী তখন থাকতেন জার্মানিতে। পিএইচডি করতেন। তাঁর কাছে যাওয়ার জন্যই বাংলাদেশ থেকে সে দিন রওনা হয়েছিলেন হাসিনা। কিছুদিন থাকবেন সেখানে… এই ছিল পরিকল্পনা।
ঠিক ১৫ দিন পর খবর যায় হাসিনার কাছে। জানতে পারেন, তাঁর পরিবারে চালানো হয়েছে হত্যালীলা। সে দিন বাবার মৃত্যুর কথা বিশ্বাসই করতে পারেননি বাংলাদেশের সদ্য প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুধু বঙ্গবন্ধু নয়, হাসিনার পরিবারের ১৮ জন সদস্যের মৃত্যু হয়েছিল সেই ঘটনায়। মৃতদের মধ্যে ছিলেন হাসিনার ১০ বছর বয়সী ভাইও। শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েছিলেন তিনি।
পরবর্তীকালে সেই অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে হাসিনা বলেছিলেন, কীভাবে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী তাঁর দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছিলেন। ইন্দিরা গান্ধীর তত্ত্বাবধানে জার্মানি থেকে ভারতে উড়িয়ে নিয়ে আসা হয়েছিল হাসিনা ও রেহানাকে।
দিল্লিতে পৌঁছে ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন হাসিনা। ১৮ জন আত্মীয়ের মৃত্যুর খবর তখনই শোনেন তিনি। এরপর দিল্লির অভিজাত এলাকা পাণ্ডারা রোডে হাসিনা ও তাঁর পরিবারের থাকার ব্যবস্থা হয়। এমনকী তাঁর স্বামী প্রয়াত এমএ ওয়াজেদ মিঞার চাকরির ব্যবস্থাও করে দেন ইন্দিরা।
নাম বদলে দেওয়া হয়েছিল তাঁদের। হাসিনার দুই সন্তান তখন ছোট। দাদুর কাছে যাওয়ার জন্য কাঁদত তারা। হাসিনা পরিচয় গোপন করে থাকার সেই পাঁচটা বছর যে কতটা কঠিন ছিল, সে কথা একাধিকবার বলেছেন হাসিনা।
তবে হাসিনাকে বারবার হত্যা করার চেষ্টা হয়েছে। কখনও দিনের আলোয় গ্রেনেড হামলার চেষ্টা হয়েছিল, কখনও গুলি করার চেষ্টা হয়েছিল, কখনও বোমা বিস্ফোরণের চেষ্টাও হয়েছিল। তবে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন ভারতের কাছে বারবার কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেছেন তিনি।
