
কলকাতা: ভারতীয় বায়ুসেনার অসমের চাবুয়া বিমান ঘাঁটি থেকে পাকড়াও আইএসআইয়ের গুপ্তচর। রাজস্থান পুলিশ বিশেষ সূত্রে খবর পেয়ে চাবুয়া বায়ুসেনা ঘাঁটি থেকে ওই অসামরিক কর্মীকে গ্রেফতার করে। ধৃতের নাম সুমিত কুমার। ফোর্ট উইলিয়াম সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজস্থানের পুলিশ প্রথমে ভারতীয় সেনার পূর্বাঞ্চলের সদর দফতরে যোগাযোগ করে। তারপর ভারতীয় বায়ুসেনার পূর্বাঞ্চলীয় সদর দফতর শিলংয়ে যোগাযোগ করে সুমিত কুমারের সম্পর্কে জানতে পারে। এরপর চাবুয়া বায়ুসেনা ঘাঁটিতে রাজস্থান পুলিশের গোয়েন্দা শাখার বিশেষ তদন্তকারী দল পৌঁছয়।
সুমিত কুমার ২০২৩ সাল থেকে ওই বায়ুসেনা ঘাঁটিতে মাল্টি টাস্কিং স্টাফ হিসেবে কাজ করছিলেন। ২০২৬ সালে জয়সলমীর থেকে এক পাক গুপ্তচরকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দারা। তাঁকে জেরা করেই সুমিত কুমারের নাম জানতে পারা যায়। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তর-পূর্ব এবং পূর্ব ভারতে একাধিক বায়ুসেনা ঘাঁটির যাবতীয় তথ্য, যুদ্ধবিমান এবং মিসাইল সম্পর্কিত তথ্য গত তিন বছর ধরে পাকিস্তানের কাছে পৌঁছে দিত এই সুমিত কুমার। প্রতি তথ্য পাঠানোর পরিবর্তে আইএসআইয়ের কাছ থেকে ১০ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা পেত সে।
যে বিভাগ এসে চাকরি করতো, সেটা আবার বায়ুসেনার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ভাণ্ডারের জায়গা। মিসাইল এবং যুদ্ধবিমান সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য এই অভিযুক্তর কম্পিউটার থেকে উদ্ধার হয়েছে। এই ব্যক্তি দিনের পর দিন তথ্য সরবরাহ করতে বলেই গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন। মূলত উত্তর-পূর্ব এবং পূর্ব ভারতে বিশেষ করে বাংলাদেশ সীমান্তে ভারত বিএসএফ এবং ভারতীয় সেনাবাহিনী কী কী পরিকাঠামো গড়ে তুলছে, সেই তথ্য এই ব্যক্তি আইএসআইয়ের কাছে পাচার করেছে। একটি ব্লুটুথ ডিভাইসও এসেছে গোয়েন্দাদের কাছে।
গত দুই-তিন বছরে বাংলাদেশ সীমান্তের আশেপাশে এবং চিন সীমান্তের বিভিন্ন অংশে কোথায় কোথায় মিসাইল বসানো হয়েছে সেই সম্পর্কে তথ্য এই ব্যক্তির কাছে ছিল বলে গোয়েন্দাদের কাছে খবর। সেইমতো বিপুল অর্থের বিনিময়ে তথ্যগুলি পাচার করা হত বলেই জেরায় উঠে এসেছে।