
আমরা কাককে খুব উঁচু চোখে দেখি না। বলি ঝাড়ুদার পাখি। পুরাণ বলে কাক হল শনিদেবের বাহন। কিন্তু বিজ্ঞান আরও এক ধাপ এগিয়ে বলছে ভারতীয় কাকের বুদ্ধি নাকি অনেক স্তন্যপায়ী প্রাণীকেও টক্কর দেয়। এমনকি এই নিয়ে গবেষণাও করেছেন এক ভারতীয়। এই ব্যাপারটা মনে করিয়ে দেয়, প্রফেসর শঙ্কুর সেই কর্ভাস গল্পটিকে। যেখানে এক সাধারণ কাককে দারুণ বুদ্ধিমান হয়ে উঠেছিল।
আপনি কি কখনও কাককে কাঠি বা তার দিয়ে খাবার বের করতে দেখেছেন? এই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত এক গবেষক জানাচ্ছেন, কাক কেবল সরঞ্জাম ব্যবহার করে না, প্রয়োজনে তা তৈরিও করে। অ্যান্টার্কটিকা বাদে বিশ্বের সর্বত্র এরা নিজেদের মানিয়ে নিয়েছে। প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার এই ক্ষমতাই উচ্চ বুদ্ধির লক্ষণ।
রাস্তার জ্যাম ও কাকের চালবাজি কাক কার্যকারণ সম্পর্ক বোঝে। ধরুন, একটা শক্ত বাদাম ভাঙতে হবে। কাক সেটা রাস্তার ট্রাফিকের সামনে ফেলে দেয়। গাড়ির চাকার চাপে বাদাম ভাঙলে সে নিরুদ্বেগে শাঁসটুকু খেয়ে নেয়। এই পরিকল্পনা এবং স্মৃতিশক্তি এদের অনন্য করে তোলে।
একটু খেয়াল করে দেখবেন, আমাদের চারপাশের যে ‘হাউস ক্রো’ বা পাতি কাক রয়েছে, তারা কিন্তু মানুষের রুটিন মুখস্থ করে ফেলেছে। আপনি কখন আবর্জনা ফেলবেন বা কখন খাবার দেবেন, তা কিন্তু ওরা খুব ভাল করে জানে আর মনেও রাখে। ওই বিশেষজ্ঞের মতে, এই অভিযোজন ক্ষমতাই কাককে পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ করে তুলেছে। সাধারণ এই পাখিটি আসলে প্রকৃতির এক বিস্ময়। আগামীর দিনগুলিতে পশুপাখির বুদ্ধি নিয়ে আমাদের ধারণা হয়তো আরও বদলে যাবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।